প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

কওমি আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থীদের বিশাল শোকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : দেশে শান্তি বজায় রাখতে ও জঙ্গিবাদ দমনে আলেমসমাজকে সরকারের সাথে একযোগে কাজ করার আহ্বান

মেহেদী হাসান : কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতি দিয়ে সংসদে আইন পাস করায় কওমির ছয় বোর্ডের সমন্বিত সংস্থা আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যাহ বাংলাদেশ ৪ নভেম্বর রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক শোকরানা মাহফিলের আয়োজন করে। মাহফিলে দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এক বিপুল সংবর্ধনা দেয়া হয়। মাহফিলে লাখো কওমি আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেয়।
হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যাহ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান এবং হেফাজত-ই-ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমেদ শফী মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যাহ বাংলাদেশের সহ-সভাপতি আল্লামা আশরাফ আলী, মাওলানা আজহার আলী আনোয়ার, আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসুদ, মাওলানা রুহুল আমিন, আবু তাহের নদভী, মাওলানা আহমাদুর রহমানী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসও বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুকরিয়ার স্মারক তুলে দেন আল্লামা শাহ আহমেদ শফী। সভাপতির বক্তৃতায় শাহ আহমেদ শফী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই অবদান ইতিহাসের সোনালি পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, কওমি শিক্ষার স্বীকৃতির মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
শাহ আহমেদ শফী বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা প্রসারে তার (শেখ হাসিনা) বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যার শাসনামলে লাখ লাখ কওমি ছাত্র সনদের স্বীকৃতির দ্বারা ধন্য হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ও সাহসী উল্লেখ করে আল্লামা শফী বলেন, শত আপত্তি, বাধা উপেক্ষা করে কওমি সনদের বিল পাস করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আন্তরিকতা ও সাহসিকতার সঙ্গে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন। এটা নিঃসন্দেহে তার কওমি ওলামা-কেরামদের প্রতি দরদপূর্ণ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক শুকরিয়া করছি, মোবারকবাদ জানাচ্ছি।
আল্লামা শফী বলেন, আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, আমার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। রাজনৈতিক কোনো দলের সাথে আমার ও হেফাজতে ইসলামের নীতিগত সংশ্লিষ্টতা নেই।
আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়্যাহ বাংলাদেশের কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী বলেন, জনদরদি নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে আমরা এ নজিরবিহীন নেয়ামত (স্বীকৃতি) পেলাম।
সনদের ওই স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেন আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়্যাহ বাংলাদেশের সদস্য, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন।
শোকরানা মাহফিল যোগদান করতে পারায় শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির ভাষণে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, ‘যারা দ্বীন ইসলামের খেদমত করছেন তাদের মধ্যে উপস্থিত হতে পারাটা সৌভাগ্যের বিষয়। আমাকে যখন আল্লামা শফী সাহেব বললেন যে, এই বিল আমরা পার্লামেন্টে পাস করায় তিনি একটি সংবর্ধনার আয়োজন করবেন, তখন আমি বললাম, সংবর্ধনা আমার জন্য নয়, বরং এটা হবে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করার জন্য।’
দেশে শান্তি বজায় রাখতে ও জঙ্গিবাদ দমনে আলেমসমাজকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার কোনোভাবেই ইসলাম এবং রাসূল (সা.)-এর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপপ্রচার বরদাশত করবে না।
প্রধানমন্ত্রী ইসলামকে শান্তির ধর্ম উল্লেখ করে বলেন, গুটিকয়েক লোক ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে আজকে সারাবিশ্বে ইসলাম ধর্মকে বদনাম দিচ্ছে। অথচ ইসলাম কখনও সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রশ্নে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির পুনরোল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশে কোনো জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের স্থান হবে না। মাদকের স্থান হবে না। দুর্নীতির স্থান হবে না। বাংলাদেশ হবে একটা শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী দেশ। স্বাধীনতার পর ইসলাম প্রসারে জাতির পিতা ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার জায়গাটিও বঙ্গবন্ধু বরাদ্দ দিয়ে যান এবং বাংলাদেশে যাতে বিশ্ব ইজতেমা হতে পারে আন্তর্জাতিকভাবে সে স্বীকৃতি তিনিই আদায় করেন। ওআইসি’র সদস্যপদ পাওয়া যায় বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগেই। জাহাজ ক্রয় করে হজ যাত্রীদের স্বল্প খরচে হজে প্রেরণের উদ্যোগও গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁরই কন্যা হিসেবে এদেশের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করা এবং বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা এবং তাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাকে আমি আমার কর্তব্য বলে মনে করি। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমার বাবা আমাদেরকে সবসময় এই শিক্ষাই দিয়েছেন যে, মানুষের সেবা করো। সাধারণভাবে জীবনযাপন করো।
এ সময় ’৭৫-এর বিয়োগান্তক অধ্যায় স্মরণ করে বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাত্র ১৫ দিন আগে বিদেশ যাবার সময় অনেক কেঁদেছিলাম। আর ১৫ দিন পরেই শুনি আমাদের আর কেউ নেই, আমরা এতিম, নিঃস্ব, রিক্ত হয়ে গেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন যারা ক্ষমতা দখল করেছিল তারা আমাদের দেশে পর্যন্ত ফিরতে দেয়নি। ৬টি বছর বিদেশে রিফিউজির মতো থাকতে হয়েছে। আমার বাবা সৎপথে জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন বলে দেশে-বিদেশে তিনি কোনো সম্পদ রেখে যেতে পারেননি। ফলে আমাদের আরাম-আয়েশে থাকা হয়নি, কষ্ট করে থাকতে হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ঘাতকচক্র ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে কেবল হত্যাই করেনি, ১৯৭৭ সালে এই কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়, বাতিল করে দেয়।
১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দেশে ফিরে আসার প্রেক্ষাপট স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, তখন খুনিরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি খুনের বিচার চাইতে পারিনি। কারণ আইন করে বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমি কোথায় থাকবো, কী খাবো, কিছুই জানি না, কেবল আল্লাহর ওপর ভরসা করেই দেশে চলে এসেছিলাম। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে কোনোরকম কষ্ট করে থেকেছি আর দেশের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। কারণ আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছিলেন।
স্মৃতিচারণে সেই দুঃসময়ের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সবসময় আমি একটা কথাই বলতাম, যে কথা বাবার কাছ থেকেই শিখেছিলামÑ একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করবে না।
দেশে ফেরার পর তাঁর ওপর বারবার হত্যা প্রচেষ্টার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, গ্রেনেড, গুলি, বোমা হামলা করে আমাকে হত্যার যে চেষ্টা হচ্ছে তা থেকে যে বারবার বেঁচে যাচ্ছি, মনে হয় এটা আল্লাহর কোনো ইশারা। রাব্বুল আলামিন আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন যেন মানুষের সেবা ও কল্যাণ করতে পারি।
শেখ হাসিনা এ সময় সরকারের সমস্ত উন্নয়ন কর্মকা- মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে কবুল হওয়ার আরজি জানিয়ে মানুষের কল্যাণে যেন এভাবেই কাজ করে যেতে পারেন, সেই প্রত্যাশা করেন।
প্রধানমন্ত্রী এসময় ইসলামের প্রসারে তাঁর সরকারের গৃহীত নানা উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ট্রাস্ট করে দেয়া হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নিরক্ষরতামুক্ত করার অংশ হিসেবে মসজিদভিত্তিক উপআনুষ্ঠানিক শিশু ও গণশিক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষা প্রদানকারীদের জন্য ভাতার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ কাম ইসলামিক কালচারাল সেন্টার প্রকল্প নির্মাণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি দেশীয় অর্থায়নে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হলেও তাঁর সাম্প্রতিক সৌদি আরব সফরে সৌদি বাদশাহ সালমান এই প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন। দুটি পবিত্র মসজিদের জিম্মাদার সৌদি বাদশাহ এই মসজিদ নির্মাণে আমাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করবেন এবং এ জন্য একটি টিমও তিনি বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী এসময় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, আমি যখন প্রথমবার ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হই তখনই সৌদি আরবের আর্থিক সহযোগিতায় এই প্রকল্প গ্রহণ করি। পরে বিএনপি-জামায়াত সরকার এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালে পুনরায় ক্ষমতায় এসে আল্লাহর রহমতে এই প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করি।
দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে আরবি ইসলামি বিশ্বদ্যিালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আলেম-ওলামাদের উদ্দেশে বলেন, আমি আপনাদের কাছে দোয়া চাই, দোয়া করবেন যেন আমি সবসময় নবী করিম (সা.)-এর পথ অনুসরণ করে চলতে পারি। রাসূল (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন ইসলাম ধর্মের মূল কথাই হচ্ছে শান্তি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারো প্রতি বিদ্বেষ নয়, কারো প্রতি ঘৃণা নয়, কারো প্রতি কোনো খারাপ চিন্তা নয়, আমরা সবসময় মনে করি মানুষের উন্নতি, মানুষের কল্যাণ, মানুষের মঙ্গল। মানুষ যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে এবং শান্তিপূর্ণভবে বসবাস করতে পারে।
ইসলাম শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের ধর্ম এবং ইসলাম ধর্ম মানুষকে শান্তির পথ দেখায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এসময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বিদ্যমান থাকার প্রসঙ্গটি উত্থাপন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এর ফলে যারা অস্ত্র তৈরি ও বিক্রি করে তারা লাভবান হয় আর রক্ত যায় মুসলমানদের।
ওআইসিসহ বিভিন্ন ফোরামে এই বক্তব্য তুলে ধরেছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই কথাটা আমি ওআইসিতে তুলে ধরেছি, জাতিসংঘে উত্থাপন করেছি এবং সৌদি বাদশাহকেও বলেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এক হয়ে শান্তির পথে যেতে হবে। কারো মাঝে যদি কোনোরকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকে তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। ইসলাম যে শান্তির ধর্ম, সেটাই আমরা প্রমাণ করতে চাই।
উন্নয়নকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে তাঁর সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুস্থদের জন্য ভাতা ও বিনা পয়সায় খাদ্য সরবরাহের কর্মসূচির উল্লেখ করে বলেন, আজকে বাংলদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছি, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।
বঙ্গবন্ধুকন্যা এসময় ১৫ আগস্টের কালরাতে একসঙ্গে পিতা-মাতা-ভাই হারানোর দুঃসহ বেদনার কথা উল্লেখ করে তিনি ও তাঁর পরিবার এবং দেশবাসীর জন্য আলেম-ওলামাদের কাছে দোয়া চান। সামনে জাতীয় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সকলের দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি নিঃস্ব-রিক্ত, আমি এতিম, আমরা দু’টি বোন আছি, আমাদের জন্য, আমাদের ছেলে-মেয়ে নাতি-পুতিদের জন্য দোয়া করবেন, আর দোয়া করবেন বাংলাদেশের জনগণের জন্য। আল্লাহর কাছে আমি শুধু এইটুকুই চাই, তিনি আমাকে যে শক্তি দিয়েছেন তা দিয়ে আমি যেন বাংলাদেশের জনগণের সেবা করে যেতে পারি, বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সুন্দর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।
শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের দোয়া চাই, সামনে নির্বাচন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যদি ইচ্ছা করেন, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই আবারও বাংলাদেশের জনগণের খেদমত করার সুযোগ আমাকে দেবেন। আর যদি না দেন আমার কোনো আফসোস থাকবে না। কারণ, আমি সবকিছুই আল্লাহতায়ালার ওপর ছেড়ে দিয়েছি।