প্রতিবেদন

কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট গঠিত: দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সারাদেশে ১৩ হাজার ৮৬১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রত্যন্ত এলাকায় আরো ১ হাজার ২৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এসব কমিউনিটি ক্লিনিক সাবলীলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীকে প্রধান করে ১৫ সদস্যের ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। ট্রাস্টি বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ, এফবিসিসিআই-এর সভাপতি, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকবৃন্দ, অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ-এর সভাপতি, সরকার পরিচালিত অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং একজন নারীসহ তিনজন সম্মানিত নাগরিক। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব এই ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অবশ্য ট্রাস্টের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ১৫ সদস্যের একটি বোর্ড থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত খ্যাতিমান ব্যক্তি হবেন এ বোর্ডের প্রধান। বোর্ডে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকবেন। তার পদমর্যাদা হবে অতিরিক্ত সচিব বা সমমর্যাদার।
গত ৫ নভেম্বর জারি করা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্রাস্টি বোর্ড দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত ক্লিনিকগুলোর সার্বিক কর্মকা- তদারকি করবে। এর আগে জাতীয় সংসদে ‘কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট অ্যাক্ট-২০১৮’ বিল পাস হয়। এর আগে দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ট্রাস্টের আওতায় এনে সেগুলোর সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, নীতিগত অনুমোদনের জন্য আইনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হলেও বিস্তারিত আলোচনার পর কিছু সংশোধন সাপেক্ষে এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এখন একটি প্রকল্পের আওতায় চলছে। এ আইন হলে ক্লিনিকগুলো ট্রাস্টের আওতায় চলে আসবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দেশে বর্তমানে ১৩ হাজার ৮৬১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এ ধরনের আরও ১ হাজার ২৯টি ক্লিনিক বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা আছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসব ক্লিনিক থেকে এ পর্যন্ত ৬২ কোটি ৫৭ লাখ বার মানুষকে সেবা দেয়া হয়েছে। সারাদেশেই কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবায় অত্যন্ত সহযোগী ভূমিকা পালন করে আসছে। স্বাস্থ্যসেবায় যে অগ্রগতি তা কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্যই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইনের খসড়া করা হয়েছে।
জানা যায়, এই ট্রাস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ট্রাস্টের তহবিল ব্যবহার করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়া। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সঙ্গে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা পর্যায়ে হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি কার্যকর রেফারেল প্রতিষ্ঠা করাও ট্রাস্ট আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য।
নতুন এ আইনে কর্মীদের স্থায়ীকরণ, বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতির সুযোগ, গ্র্যাচুইটি এবং অবসর ভাতার সুবিধা রাখা হয়েছে। একটি প্রবিধানের মাধ্যমে এগুলো নিশ্চিত করা হবে। তারা ট্রাস্টের আওতায় থাকবেন। সরকারের যে সুবিধাগুলো আছে সেগুলো সবই তারা পাবেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ট্রাস্টে যে-কেউ অনুদান দিতে পারবেন। সরকারি থোক বরাদ্দ থাকবে, অনুদান থাকবে। পাশাপাশি বেসরকারিভাবে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন বা ব্যক্তিবিশেষ এখানে দান বা অনুদান দিতে পারবেন।

দুই.
ঘরের দুয়ারে স্বাস্থ্যসেবা বলা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব প্রকল্প কমিউনিটি ক্লিনিককে। বর্তমানে সারাদেশে চলমান ১৩ হাজার ৮৬১টি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে মাসে গড়ে ৯৫ লাখ মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নেয়। কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হওয়ার পর থেকে উপজেলা হাসপাতালে রোগীর চাপ কমেছে।
আমাদের দেশে অন্য অনেক কিছুর মতো কমিউনিটি ক্লিনিকের এই উদ্যোগও রাজনীতির ফেরে পড়েছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে প্রকল্পটি বাতিল করে দিয়েছিল। ২০০৮ সালে আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করে। বর্তমানে প্রকল্পটি মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত।
মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ কতটা কাজে লেগেছে, তার একটা চিত্র পাওয়া যায় কমিউনিটি ক্লিনিক : হেলথ রেভল্যুশন ইন বাংলাদেশ (কমিউনিটি ক্লিনিক : বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বিপ্লব) শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে। সরকার ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ওই যৌথ প্রতিবেদনে ২০১৩ সালের ১২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ ছাপা হয়েছিল। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে তিনি তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধারণা ও চিন্তার সম্প্রসারণ করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। তাঁর চিন্তা ও পরিকল্পনাগুলো আমি তাঁর কাছ থেকে শুনতাম। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কিভাবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া যায়, এ নিয়ে বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাবনাগুলো আমাকে বলতেন। পরে ওই চিন্তাভাবনাগুলোই আমি আরও বিস্তৃত করেছি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার কাজটি বেশ কঠিন। বিভিন্ন সময় নানা দেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এ নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। ১৯৭৮ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের আলমা আতাতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক স্বাস্থ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ২০০০ সালের মধ্যে সকলের জন্য স্বাস্থ্যÑ এই বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করা হয়। এরপর থেকে অনেক দেশে কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার নানা উদ্যোগ নেয়া হতে থাকে। ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম কমিউনিটি ক্লিনিক বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করে। প্রতি ৬ হাজার গ্রামীণ মানুষের জন্য একটি করে মোট ১৩ হাজার ৫০০ ক্লিনিক তৈরির পরিকল্পনা ছিল। ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার ক্লিনিকের নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং ৮ হাজার ক্লিনিক চালু হয়। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। শত শত কমিউনিটি ক্লিনিক পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। যদিও বিএনপির একাধিক নেতা বিভিন্ন সময় বলেছেন, বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ করেনি।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ স্বাস্থ্য খাতের অগ্রাধিকার বিবেচনায় কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। ‘রিভাইটালাইজেশন অব কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ইনিশিয়েটিভস ইন বাংলাদেশ’ নামের প্রকল্পের আওতায় ক্লিনিকগুলো মেরামত, নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও ওষুধ সরবরাহ করার মাধ্যমে ক্লিনিকগুলো চালু করা হয়। কমিউনিটি ক্লিনিক হচ্ছে সরকারের সর্বনিম্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো। এখান থেকে স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টিসেবা দেয়া হয়। এখান থেকে বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ পায় মানুষ। শুক্রবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন ছাড়া সপ্তাহে ছয়দিন সকাল নয়টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত ক্লিনিক খোলা থাকে। ক্লিনিক পরিচালনা করেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)। এই পদে স্থানীয় নারী কর্মীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়। তাকে সহায়তা করেন স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহকারী। কমিউনিটি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবাগ্রহীতার ভিজিট সংখ্যা ৬১ কোটি ৫০ লাখ, ক্লিনিক থেকে জরুরি ও জটিল রোগী রেফারের সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ ৪৮ হাজার, স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা ৫০ হাজার ৩০৯টি, গর্ভবতী মায়ের প্রসব পূর্ববর্তী সেবা (এএনসি) ২৩ লাখ ৮৬ হাজার ২০৪টি, প্রসব-পরবর্তী সেবা (পিএনসি) ৮ লাখ ১১ হাজার ৬৬৩টি। এই বিপুল সেবা গ্রামের দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ পেয়েছে বিনামূল্যে।
দেশব্যাপী সরকারের এই উদ্যোগ কতটুকু কার্যকর, যাদের জন্য এই উদ্যোগ তারা সন্তুষ্ট কি না, তা নিয়ে একাধিক মূল্যায়ন হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ কমিউনিটি ক্লিনিকের ওপর ২০১৩ সালে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তাতে বলা হয়েছে, কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ৮২ শতাংশ এলাকাবাসী সেবা নেয়। ক্লিনিকগুলো বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় এবং বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়া যায় বলে মানুষ এখানে সেবা নিতে আগ্রহী।
জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের (নিপোর্ট) জরিপে দেখা যায়, বাড়ির পাশের কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বিনামূল্যে ওষুধ ও পরামর্শ পেয়ে ৮০ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট। জাতীয় রোগ প্রতিরোধ ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) জরিপে বলা হয়েছে, কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা নিয়ে ৯৮ শতাংশ মানুষই সন্তুষ্ট।
জানা গেছে, সিংহভাগ কমিউনিটি ক্লিনিক স্থানীয় কোনো ব্যক্তির জমিতে গড়ে উঠেছে। এর পরিচালনায় স্থানীয় মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা সম্পৃক্ত। সরকারি বেতনভুক্ত যে তিনজন এখানে সেবা দেন, তাদের অধিকাংশ সংশ্লিষ্ট এলাকার। তাই কমিউনিটি ক্লিনিককে সাধারণ মানুষ নিজেদের প্রতিষ্ঠান বলে মনে করে। সাধারণ অসুখে আগে যারা চিকিৎসকের কাছে যেতে চাইতেন না, এখন তারা কমিউনিটি ক্লিনিকে আসেন নিঃসঙ্কোচে।
২০১৭ সালের শুরু থেকে কমিউনিটি বেজড হেলথ কেয়ার নামের কর্মপরিকল্পনার (ওপি) আওতায় কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম চলছে। এর কাজের পরিধিও বাড়ছে। এখন প্রায় ১ হাজার ২০০ ক্লিনিকে স্বাভাবিক প্রসব হচ্ছে, প্রতিটি ক্লিনিকে স্বাভাবিক প্রসবের আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়া ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগ এখান থেকে শনাক্ত করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কমিউনিটি ক্লিনিকের সাফল্য তুলে ধরা হয়। এতে করে বিশ্বসম্প্রদায়েরও কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যাপারে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক বাংলাদেশ সফরের সময় গ্রামে গিয়ে কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখেছিলেন।
বাংলাদেশে কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রথমবারের মতো চালু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম শাসনামলে। ১৯৯৬-২০০১ শাসনামলে যে হাজারখানেক কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে উঠেছিল, পরবর্তী সরকার সেগুলোকে বন্ধ করে দিয়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন বলেই, দ্বিতীয় মেয়াদে যে ১৩ হাজার ৮৬১টি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং যে ১ হাজার ২৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করবেনÑ সেগুলোকে ট্রাস্টের আওতায় দিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমিউনিটি ক্লিনিককে ট্রাস্টের মাধ্যমে এজন্যই অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছেন, যাতে করে ভবিষ্যতে অন্যকোনো সরকার অতীতের মতো কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পটি বন্ধ করে দিতে না পারে।

শেষ কথা
কমিউনিটি ক্লিনিকের কল্যাণে বিনামূল্যে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা বা ৩০ ধরনের ওষুধ পাওয়া গ্রামের মানুষের জন্য কম পাওয়া নয়। গ্রামের মানুষদের নিয়ে গঠিত কমিটি চালায় কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় গ্রামপর্যায়ে স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণের এই ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে একটি মডেল, বড় সাফল্যের দৃষ্টান্ত। ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে এই মডেলকে আরো টেকসই করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী মনে করছেন, একসময় তিনি হয়ত থাকবেন না, কিন্তু ট্রাস্ট গঠন করে কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তোলায় তৃণমূল মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রতীক হিসেবে এগুলো টিকে থাকবে শতাব্দীর পর শতাব্দী।