প্রতিবেদন

জাতীয় যুব দিবস-২০১৮ উদ্বোধন ও জাতীয় যুব পুরস্কার-২০১৮ বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : আত্মকর্মসংস্থানের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতে যুবকদের আন্তরিক হতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় যুব দিবস-২০১৮ উদ্বোধন ও জাতীয় যুব পুরস্কার-২০১৮ বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতে এবং একই সঙ্গে অন্যদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি করতে যুবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, একটা চাকরির জন্য অন্যদের দিকে তাকিয়ে থাকার পরিবর্তে তোমাদেরকে নিজেদের পায়ের ওপর দাঁড়াতে হবে। নিজেদের কর্মসংস্থানের জন্য নিজেদেরই উদ্যোগ নিতে হবে এবং একই সঙ্গে অন্যদের জন্যও সুযোগ তৈরি করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ১ নভেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় যুব দিবস-২০১৮ এর বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্বোধন এবং জাতীয় যুব পুরস্কার-২০১৮ বিতরণকালে এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন উদ্যোক্তা বহু লোকের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করতে পারে। এই সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল শক্তি যুবকদের জন্যও বিভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি করছে।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় যুব দিবস পালনের জন্য যুবকদের অভিনন্দন জানান এবং দিবসের স্লোগান ‘জেগেছে যুবক গড়বে দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’-এর প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আত্মকর্মসংস্থান এবং অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২৭ জন যুবকের হাতে জাতীয় যুব অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন। তিনি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের অভিনন্দন এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান রাসেল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে যুব মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল্লাহ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। জাতীয় যুব অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের পক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলার এসএম শাহজাহান সিরাজ এবং মাদারীপুর জেলার হুমায়ারা লতিফ পান্না বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে যুবকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা যুবকদের মেধা ও শক্তি কাজে লাগিয়ে দেশ গড়ে তুলবো।
তিনি বলেন, আমাদের যুবসমাজ কখনো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো অশুভ শক্তির কাছে মাথা নত করবে না, বরং দেশের সংকটময় মুহূর্তে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তিনি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করে বলেন, তারা একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ ভাগ যুবক। এই যুবকদের উৎপাদনমুখী কাজে লাগিয়ে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে এগিয়ে নেয়াই আমাদের লক্ষ্য। বর্তমান সরকার এ লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সরকার যুবকদের উন্নয়নের জন্য খুবই আন্তরিক এবং তাদের সার্বিক কল্যাণে সর্বাত্মক প্রচষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন প্রকল্প ও কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে বলেন, যুবকদের প্রশিক্ষণ দিতে ৭টি বিভাগে মোবাইল কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বায়োগ্যাস প্লান্টেও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সকল জেলায় যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ অবকাঠামোর উন্নয়নের জন্য নতুন নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং বর্তমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে নানামুখী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল সার্ভিস প্রোগ্রাম কার্যক্রম চালুর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে। তাছাড়া বেকার যুবক-যুবতীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ব্যাংক লোন প্রদানের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের সাম্প্রতিক রাজনীতির প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য, দেশের মানুষ যখন একটু সুখের মুখ দেখে তখন কিছু মানুষের মনে অসুখ সৃষ্টি হয়, কিভাবে একটি স্থিতিশীল পরিবেশকে ধ্বংস করবে, তারা সেই চেষ্টাই করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্যসীমা ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। ইনশাআল্লাহ, আশা করি আগামীতে দারিদ্র্যসীমা ১৫-১৬ এর মধ্যে নামিয়ে আনতে সক্ষম হব। বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে চলবে।
বাংলাদেশকে এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে বাংলাদেশের নাম এক সময় মানুষ শুনলে বলত ঝড়, দুর্ভিক্ষ, দুর্নীতির দেশ, আজকে সে দুর্নাম নেই। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আমাদের এই সম্মানটা ধরে রাখতে হবে।
যুবসমাজকে কিভাবে দেশ গড়ার কাজে ব্যবহার করা যায় সে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে যাচ্ছে। তাদের কল্যাণে দেশে হাজার হাজার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বেসরকারি খাত উন্মুক্ত করা হয়েছে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তারা কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।
যুব সমাজকে দেশের প্রাণ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যুবসমাজ যাতে চাকরির অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় এবং নিজেদের মেধা-মনন দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে সে উদ্যোগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নেবে।