কলাম

মাদক নির্মূলে সাড়াশি অভিযান চলমান রাখা জরুরি

মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হুঁশিয়ারি ও অভিযান পরিচালনার নির্দেশনার পর সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, তাতে কিছুটা শিথিলতা দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে পালিয়ে থাকা মাদক ব্যবসায়ীরা আবারো সক্রিয় হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে মাদক আবারও সহজলভ্য হয়ে উঠছে। গত ৩ মে রাজধানীতে র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, এক্ষেত্রে কোনো আপস নয়। তারপর থেকে ইয়াবাসহ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যায় র‌্যাব। সারাদেশে সাড়াশি অভিযান শুরু করে র‌্যাব। এমনকি তখন পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এ অভিযানে নামে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, র‌্যাবের মাদক নির্মূল অভিযান অব্যাহত থাকলেও নির্বাচনি ব্যস্ততার কারণে পুলিশের অভিযান অনেকটাই শিথিল। আর এ সুযোগে মাদক তার পুরনো অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে। মাদক সেবনকারীদের মধ্যে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি। তেজগাঁওয়ের মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সকল পেশার মানুষ ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত। এর মধ্যে ১২ বছর থেকে তার ঊর্ধ্বের শিক্ষার্থীরা বেশি আসক্ত। বর্তমানে মাদকাসক্তদের মধ্যে ইয়াবায় আসক্ত ৭০-৭৫ ভাগ। আর ইয়াবায় আসক্তদের মধ্যে ৬০-৬৫ ভাগ শিক্ষার্থী। আসক্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবার মেধাবীরাই বেশি। এসব দেখে তরুণসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কঠোর সাড়াশি অভিযানের দাবি উঠেছিল সমাজের সর্বমহল থেকে। কেউ কেউ দাবি করেন, মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা পেতে হলে ক্রসফায়ার জরুরি। কারণ মাদক ব্যবসায় জড়িতদের কেউ আটকে রাখতে পারে না। গ্রেপ্তারের পর কোনো না কোনোভাবে তারা বের হয়ে আসে। তাই জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এই অভিযানকে বেগবান করা উচিত এজন্যই যে, নির্বাচনে পেশিশক্তিসম্পন্ন প্রার্থীরা মাদককে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে। অনেক অপরাধপ্রবণ প্রার্থী তার কর্মীদের হাতে মাদক তুলে দিয়ে নির্বাচনে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করে। ফলে নির্বাচনে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেকোনো নির্বাচনেই কালো টাকা ও মাদকের প্রভাব থাকে প্রকট। এখন যেহেতু নির্বাচনি কার্যক্রম চলছে, তাই মাদকের প্রভাবও দিন দিন বাড়ছে। মাদকের এই প্রভাব কমিয়ে আনতে পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নইলে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশের পক্ষে কষ্টকর হয়ে পড়বে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার অবসান ঘটাতে চাইলে পুলিশকে মাদকের প্রবাহ বন্ধ করতেই হবে। এ জন্য আমরা মনে করি, নির্বাচনি পরিবেশ স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প নেই।