প্রতিবেদন

নয়াপল্টনে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত বিএনপি-ছাত্রদল : নির্বাচনি সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা

বিশেষ প্রতিবেদক
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপত্র কিনতে এসে ১৪ নভেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকরা পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের উসকানিদাতা হিসেবে পুলিশ বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসকে এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জন্য বিএনপি-ছাত্রদলকে দায়ী করেছে।
সংঘর্ষের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, নিপুণ রায় ও রুহুল কবির রিজভীকে আসামি করে পল্টন থানা পুলিশের প থেকে তিনটি মামলা করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর নির্বাচনি সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন। সে মোতাবেক দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ।
ঘটনার দিন মির্জা আব্বাস মিছিল নিয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম (ঢাকা-৮ আসন) কিনতে গেলে তার সমর্থক কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেধে যায়। ওই সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের দুইটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। পুলিশ ছররা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়লে এক সাংবাদিক, বিএনপির ২৫ নেতাকর্মী এবং পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শিবলী নোমানসহ ২৩ পুলিশ সদস্য আহত হন।
পল্টন থানার ওসি মাহমুদ হোসেন বলেন, বিএনপি অফিসের সামনে আসা নেতাকর্মীরা সড়কে বিশৃঙ্খলভাবে অবস্থান করছিল। পুলিশ তাদের সুশৃঙ্খলভাবে থাকতে বারবার অনুরোধ করছিল; কিন্তু তারা বিনা উসকানিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
প্রত্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিএনপির মনোনয়ন কিনতে ১৪ নভেম্বর সকাল থেকে নয়া পল্টনে প্রধান কার্যালয়ের সামনের ভিআইপি সড়কে দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় শুরু হয়। এক পর্যায়ে বিজয় নগর নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মী-সমর্থকরা ব্যানার নিয়ে মিছিল করতে করতে পার্টি অফিসের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস মিছিল নিয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনতে এলে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। এ কারণে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে মির্জা আব্বাসের মিছিল সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় মির্জা আব্বাসের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে পুলিশের বাগবিত-া হয়। মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পার্টি অফিসের পাশে পুলিশের ডবল কেবিনযুক্ত একটি গাড়ি মিছিলের মধ্যে পড়ে যায়। এসময় গাড়িটি ধীরে ধীরে চালিয়ে সড়ক মুক্ত রাখার চেষ্টা করে পুলিশ। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ পুলিশের গাড়ির চাকা তাদের দুই জন কর্মীর পায়ের ওপর দিয়ে চলে গেছে।
বিএনপি কর্মীরা পুলিশের গাড়ি ল্য করে ঢিল ছুড়তে থাকে। এসময় পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়তে থাকে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে লাঠিপেটা। এক পর্যায়ে পুলিশ কিছুটা সরে গিয়ে নাইটেঙ্গেল মোড়ে অবস্থান নেয়। বিএনপি কর্মীরা তখন নয়া পল্টনের সড়কে থাকা বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে। তারা হোটেল মিডওয়ের সামনে রাখা পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনারের গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। অনতিদূরে পুলিশের আরেকটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয় মির্জা আব্বাসের কর্মীরা।
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ও নবী উল্লাহ নবী শোভাযাত্রা নিয়ে নয়াপল্টনে আসেন। এতে রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়; যা ছিল নির্বাচন আচরণবিধি পরিপন্থি। এ পরিস্থিতিতে পুলিশ তাদেরকে সেখান থেকে সরে যেতে বলে। তখন তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা পুলিশের দুইটি গাড়ি ভাঙচুর করে। একটি এপিসিতে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। তখন পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ২৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়।
এই সংঘর্ষের জন্য দুই পই পরস্পরকে দোষারোপ করেছে। বিএনপি বলেছে, সরকারের নির্দেশে পুলিশ বিনা উসকানিতে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলেছে, নির্বাচন সামনে রেখে ইস্যু তৈরির ল্েয বিনা উসকানিতে বিএনপি কর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শেষে ওই সহিংস ঘটনার সাথে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ওপর হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা হামলাকারী বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হেলমেট পরিধান করে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাতে হামলার পর হামলাকারীদের আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শনাক্ত করতে না পারে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের আশপাশে আগে থেকেই লাঠিসোটা মজুদ করে রাখা হয়েছিল। হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল পুলিশকে উসকানি দেয়া, যাতে পুলিশ হামলাকারীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিপে, রাবার বুলেট ও গুলি চালায় আর পুলিশের হামলার ছবিকে পুঁজি করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দেখিয়ে সরকারবিরোধী একটি নেতিবাচক ইমেজ তৈরি করা যায়; যা দিয়ে বিএনপি মূলত রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছিল।
ঘটনার দিন পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের পর তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে উল্লাস প্রকাশকারী বহুল আলোচিত লাল হেলমেট পরিহিত সেই যুবকসহ ছয়জন ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই ছাত্রদলের নেতা। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম এই তথ্য জানান।
অবশ্য সংঘর্ষের পরদিন ১৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, নয়াপল্টনের নাশকতার জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা দায়ী।
রিজভীর অভিযোগের জবাবে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম বলেন, নয়াপল্টনে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িত ছয়জন গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। হেলমেট পরিহিত যে যুবক পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়ার পর পোড়া গাড়ির ওপর উঠে উল্লাস প্রকাশ করেছিল গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সেই যুবকও আছেন। ছবিটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছিল। তার নাম মো. এইচ কে হোসেন আলী। তিনি বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের অনুসারী। শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দা হোসেন ১১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি পদ প্রত্যাশী।
পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করার পর শার্টের সবকটি বোতাম খুলে যে যুবক উল্লাস প্রকাশ করে ব্যাপক আলোচনায় আসে তার নাম সোহাগ ভূঁইয়া। তিনি ঢাকার শাজাহানপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা আব্বাস আলীও গাড়ি ভাঙচুরের পর শার্ট খুলে উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন। তার ছবিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। আর পুলিশের পিকআপে যে যুবক প্রথম লাঠি দিয়ে আঘাত করে ভাঙচুর শুরু করেছিল তার নাম আশরাফুল ইসলাম রবিন। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তার ছবিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। এছাড়া একইভাবে গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে আলোচনায় এসেছিলেন গ্রেপ্তারকৃত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন উজ্জ্বল ও সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম।
এই ছয়জন হামলাকারীকে ঘটনার ৪ দিন পর ১৯ নভেম্বর রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সম হয় মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পূর্ব বিভাগ। যে যুবক পুলিশের এপিসিতে আগুন দেয়ার ও ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা করেছিল তাকেও শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনার পর আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট মোতাবেক সরকার নির্বাচনকালীন সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে। সরকারি কর্মচারীদের দ্বারা বা রাজনৈতিক দলের মাধ্যকার নানা নাশকতামূলক কর্মকা- সংঘটিত হতে পারেÑ এমন আশঙ্কা থেকে আগাম প্রস্তুতি নিতে কাজ করছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ। কেন্দ্র থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে এই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
জানা যায়, সচিবালয়ে সরকারবিরোধী মনোভাবাপন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দ্বারা নানা উসকানিমূলক কর্মকা- পরিচালিত হতে পারে বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। এ ধরনের কর্মকা- জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া হতে পারে। এ জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় পদপে নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ফোকাল পয়েন্ট খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একজন করে অতিরিক্ত সচিব এর দায়িত্বে থাকবেন। সঙ্গে একাধিক অধঃস্তন কর্মকর্তা ওই টিমের সদস্য থাকবেন। তারা সরকারবিরোধী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গতিবিধির ওপর নজর রাখবেন।
অপরদিকে জেলা পর্যায়েও সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের পরই তারা ঢাকা ছাড়বেন। ইতোমধ্যে সচিব বা অতিরিক্ত সচিব কাকে কোন জেলার দায়িত্ব দেয়া হবে তা নির্ধারণের কাজও শুরু হয়েছে। তারাও মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সরকারবিরোধী মনোভাবাপন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর নজর রাখবেন। প্রয়োজনে তাৎণিক ব্যবস্থা নেবেন। পুলিশ প্রশাসন থেকেও অনুরূপ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।
পল্টনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পর সরকার সবদিক থেকে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। সরকার মনে করছে নির্বাচনের আগে ও পরে এমনকি নির্বাচনের দিনেও নানা ধরনের অপপ্রচার, উসকানিমূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন করে তোলা হতে পারে। তাৎণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়া বা ঘটনার আগেই তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার যাবতীয় কর্মপন্থা ঠিক করে রেখেছে সরকার।
একই ধরনের কর্মপন্থা ঠিক করেছে নির্বাচন কমিশনও। এরই অংশ হিসেবে ২২ নভেম্বর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিইসি নুরুল হুদা বলেন, ১৫ ডিসেম্বরের পর সশস্ত্র বাহিনীর ছোট টিম পুলিশের সঙ্গে দেখা করবে। প্রতিটি জেলায় থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর এসব টিম। এসব টিমকে নিয়ে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে পুলিশকে।
সিইসি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর এই টিমের যাতায়াতের ব্যবস্থা পুলিশকে করে রাখতে হবে। অন্যান্য বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পুলিশকে ১২ দফা নির্দেশনা জানান সিইসি।

শেষ কথা
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র কেনা ও মনোনয়ন বোর্ডের সামনে সাক্ষাৎকারে হাজির হওয়া ইত্যাদি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে নয়াপল্টনের ঘটনা কালিমা লেপন করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতীতের সহিংস ঘটনার মতো এবারও বিএনপি-জামায়াত সুপরিকল্পিতভাবে একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল ভেঙে দিয়ে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করতে পারে।
তাই এবার শুরু থেকে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ যাতে স্বাভাবিক থাকে সে জন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এখন থেকেই বেশ সতর্ক রয়েছে।