প্রতিবেদন

বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে দেখে ভারত আনন্দিত -হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, ভারতীয় হাইকমিশনার

স্বদেশ খবর ডেস্ক
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা গত ১৯ নভেম্বর বারিধারায় বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সাথে তার বাসভবনে সৌজন্য সাাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটা এদেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক দলের বিষয়।
তিনি বলেন, আমি বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরীর আমন্ত্রণে তার সাথে সৌজন্য সাাৎ করতে এসেছি। নির্বাচনের আগে তাদের (বিকল্পধারা) আদর্শ ও চিন্তা কেমন তা জানতে চেয়েছি।
এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনের রাজনৈতিক সচিব রাজেশ সাইকি, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর আবদুল মান্নান (অব.), প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী, যুক্তফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিকল্পধারার প থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব মেজর আবদুল মান্নান (অব.) বলেন, ভারতের সাথে আমাদের অত্যন্ত সুসম্পর্ক রয়েছে। হাইকমিশনারের সাথে আমরা অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করেছি। নির্বাচনের বিষয়ে তারা বলেছেন, এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সাথে সাাৎ করতে এসে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে দেখে ভারত আনন্দিত। আমরা চাই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারা সবসময় অব্যাহত থাকুক এবং নির্ধারিত সময়ে সকলের অংশগ্রহণে ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন হোক।
এ সময় মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে সর্বোচ্চ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। এই দ্বিপাকি সম্পর্ক আরও উচ্চমাত্রায় নিয়ে যাওয়ার ল্েয প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণও স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদানকে সবসময় কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে।
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে বাংলাদেশকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তালিকার শীর্ষে রেখেছে ভারত। ভারত মনে করে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে এই অঞ্চলের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
মোহাম্মদ নাসিম জানান, ভারত সরকারের সহযোগিতায় যশোর, পাবনা, নোয়াখালী, কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও জামালপুরে ৬টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন।
ইতোমধ্যে দেশে নতুন ৩৬টি কমিউনিটি কিনিক চালু করার েেত্র ভারতের সহযোগিতার কথা এ সময়ে স্মরণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু স্বাস্থ্য খাত নয় বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভারতের অবদান দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে।
হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশের চিকিৎসা শিার সাম্প্রতিক মানোন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছর ভারত থেকে আগত শিার্থীরা বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলো থেকে পাস করে দেশে ফিরে গিয়ে মানসম্মত সেবা দিতে সম হচ্ছে।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, সুসময় ও দুঃসময় নয়, ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভারত সরকারের অর্থায়নে ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে কাশিনগর ডিগ্রি কলেজের চারতলা অনার্স ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতের সেনারা স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে একটি শক্তিশালী বীজ বপন করেছিলেন। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দুই দেশের বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে।
ওই অনুষ্ঠানে রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেন, ভারত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ব্যাপক সহযোগিতা করেছে। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি ভারতের যথেষ্ট বিশ্বাস রয়েছে। বাংলাদেশের রেলের উন্নয়নের জন্য ভারত সরকার অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে অযথা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করে জঙ্গিবাদকে উসকে দেয়। তারা পাকিস্তানের দোসর। ভারত যদি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় সাহায্য না করত তাহলে আমরা এখনো স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতাম না।
একই অনুষ্ঠানে ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। তার প্রমাণ বাংলাদেশের অজপাড়াগাঁয়ে ভারত সরকারের সাহায্যে শিাপ্রতিষ্ঠান নির্মিত হচ্ছে। হর্ষবর্ধন শ্রীংলা শুধু একজন কূটনীতিক নন, তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন।