ফিচার

সন্তানের মানসিক বিকাশে মা-বাবার করণীয়

স্বদেশ খবর ডেস্ক : একটি শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে নবজন্ম হয় তার মা-বাবারও। তাদের ওপর অর্পিত হয় সন্তানকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব। নতুন বাবা-মা হয়ত অনেক সময় বুঝে উঠতে পারেন না কিভাবে সন্তানকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।
নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে এ কাজ করা সম্ভব নয়। কারণ চলার পথে প্রতিনিয়ত নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে আপনার সন্তান পাবে সুস্থ সুন্দর পরিবেশ, যা তার মানসিক বিকাশে সহায়তা করবে।
সন্তানের সঙ্গে সময় কাটান: শৈশব চোখের পলকেই ফুরিয়ে যায়। আপনার শিশুর শৈশব ভরিয়ে দিন আপনার সংস্পর্শে। তার সঙ্গে খেলুন, আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে নিয়ে যান, দূরে কোথাও ঘুরে আসুন। সন্তানের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক যেন হয় বিশ্বাস আর ভালোবাসার।
নৈতিকতা শিা দিন: সন্তানকে সততা শিা দিন, দায়িত্ব সম্পর্কে বোঝান, বড়দের সম্মান করতে শেখান। তাকে বোঝান, সব কাজে ধৈর্য ধারণ করতে হয়। এসব শিার মাধ্যমে তার জীবনের মজবুত ভিত্তি তৈরি হবে।
সামাজিকতার শিা: অন্যদের সঙ্গে কিভাবে মিশতে হয় তা শেখান। শিশুরা খেলার সময় কোনো সমস্যায় পড়লে তা তাদের সমাধান করতে দিন। অন্যের মতের প্রতি কিভাবে সম্মান দেখাতে হয় তা শিা দিন।
সময়ানুবর্তিতা: সন্তানকে খাওয়া, ঘুম, খেলার সময় নির্দিষ্ট করে দিন। এতে সে সময়ানুবর্তিতা শিখবে।
বই পড়ার অভ্যাস গড়–ন: সন্তানের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তাকে নতুন নতুন বই উপহার দিন। একটা বই পড়া শেষ হলে তার কাছে বইটি সম্পর্কে জানতে চান।
প্রশংসা করুন: যেকোনো ভালো কাজের জন্য তার প্রশংসা করুন, তা যতই ছোট হোক। খারাপ কাজের জন্য কখনো বকা দেবেন না, বুঝিয়ে বলুন কাজটি কিভাবে করা উচিত ছিল।
অনলাইনে শিশুকে নিরাপদ রাখুন
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে শিশুদের জন্য জানার জানালা খুলে দিয়েছে ইন্টারনেট। আবার বাইরের কাউকে তাদের ওপর গোপন নজরদারির সুযোগও দিয়েছে। শিশুরা অনলাইনে যাদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে, অনেক সময় তাদের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায় না। অনলাইনে তাদের সত্যিকারের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না বলেই ম্যালওয়্যার আক্রমণ কিংবা বিপজ্জনক সিস্টেম হ্যাকিংয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট কিংবা হানাহানির দৃশ্য শিশুদের কোমল মনে ভীতির সঞ্চার করতে পারে। অনেক সময় প্রযুক্তি জানা শিশুও যথেষ্ট দূরদৃষ্টির অভাবে বিপদে পড়ে যায়। অনেক শিশু গুজব ছড়ানো কিংবা মজা করে অন্যের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার মতো বিষয়ে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাদের কাছ থেকে ফোন বা ইন্টারনেট সংযোগ কেড়ে নেয়াটা এর সমাধান হতে পারে না, বরং তাদের নজরদারির মধ্যে রেখে এবং নিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনের বিপদ সম্পর্কে শিা দেয়া যায়।
শিশুদের প্রযুক্তি শিা দেয়ার চেয়ে প্রযুক্তি বিষয়ে নিরাপদ থাকা ও ভালো আচরণ শিা দেয়া কর্তব্য। অনলাইন দুনিয়ায় কোনটি উচিত আর কোনটি অনুচিত সে বিষয়ে শিশুদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে নৈতিক আচরণ শিা দেয়া যায়। শিশুদের অনলাইনে নিরাপদ রাখার কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
নিরাপদ যন্ত্রের ব্যবহার: বাড়িতে সব ইন্টারনেট সুবিধার যন্ত্রগুলো নিরাপদে রাখুন। শিশু যদি শুধু ডেস্কটপ ব্যবহার করে, সেটিকেও নিরাপদ রাখুন। শিশুরা সাধারণত তার মা-বাবার ফোন বা ল্যাপটপে গেম খেলে। আপনার মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব কিংবা ডেস্কটপে নিরাপদ সফটওয়্যার ইনস্টল করে রাখুন। হালনাগাদ নিরাপত্তা সফটওয়্যার সক্রিয় থাকলে এসব যন্ত্রে সহজে ভাইরাস ঢুকতে পারবে না।
নিরাপদ ইন্টারনেট সংযোগ: আপনার কম্পিউটারে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সিস্টেম চালু করে রাখুন। প্রতিটি শিশুর জন্য আলাদা লগ ইন আইডি ও পাসওয়ার্ড সেট করে দিন। শিশুদের অ্যাডমিন পাসওয়ার্ড জানানোর প্রয়োজন নেই।
ব্রাউজার ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম নিরাপদ রাখুন: শিশুদের উপযোগী ব্রাউজার ও তাদের গেম খেলা বা প্রকল্প তৈরির জন্য আলাদা ব্রাউজার ঠিক করে দিন। শিশুদের ই-মেইল অ্যাকাউন্ট কিংবা সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে প্রাইভেসির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। শিশুরা যাতে শুধু পরিচিতজনের সঙ্গেই যোগাযোগ করে, সেই পরামর্শ দিন। জিপিএস, ওয়েবক্যাম নিষ্ক্রিয় করে রাখুন।
সময় ঠিক করে দিন: আপনার সন্তান যখন কিশোর বয়সী, তখন তারা গেম খেলা ও ভিডিও দেখতে বেশি আগ্রহী হয়। যখন তখন যাতে ইন্টারনেটে যেতে না পারে, সে জন্য ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখুন। কম বয়সী শিশুদের েেত্র প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করুন এবং তারা কোন ওয়েবসাইটে যাবে তা ঠিক করে দিন। কখন তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করবে, সে সময়ও নির্ধারণ করে দিন।
দরকারি শিা: বাস্তব জীবনে যে বিষয়গুলো শেখার প্রয়োজন, অনলাইন দুনিয়ায় সেই বিষয়গুলো শিা দিন। শিশুকে সচেতন হওয়ার শিা দিন। সংযত হয়ে কথা বলা কিংবা কার সঙ্গে কিভাবে কথা বলবে, সে বিষয়টিও শিখিয়ে দিন।
যোগাযোগ: নিয়মিত শিশুর খোঁজখবর রাখুন। তার সঙ্গে কথা বলুন এবং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। শিশুর অনলাইন দুনিয়ার অভিজ্ঞতা শুনুন। সাইবার জগতের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তাকে জানান। বন্ধুদের কেউ এরকম কোনো সমস্যায় পড়েছে কি না, তা জেনে নিন।
নজরদারিতে রাখুন: আপনার শিশুকে একা একা পার্কে কি খেলতে দেবেন? নিশ্চয়ই না? অনলাইনের েেত্রও এ বিষয়টি মনে রাখুন। শিশুর ব্যবহৃত কম্পিউটার অবশ্যই সবার সামনে রাখবেন আর কম্পিউটারে স্ক্রিনটি দরজা বরাবর রাখবেন। অর্থাৎ শিশুদের আপনার চোখের আড়ালে কোনোরূপ যোগাযোগ করতে দেবেন না।
বিনামূল্যে কিছু পাওয়ার লোভ সামলান: অনলাইনে কোনো কিছু বিনামূল্যে পাওয়ার অফার সম্পর্কে শিশুদের সতর্ক করুন। আমরা সবাই যেমন জানি, বিনামূল্যে কিছুই পাওয়া যায় না, তাদেরও সেটা বোঝান। বিনামূল্যে ওয়ালপেপার, গেম, পোস্টার প্রভৃতি ডাউনলোড না করার জন্য বলুন।
এ ধরনের অফারের সঙ্গে ম্যালওয়্যার থাকতে পারে, যা বিভিন্ন তথ্যের বিনিময়ে ইনবক্সে চলে আসে।