Uncategorized

টার্গেট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮ : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এতে ২১টি বিশেষ অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে। আবারও ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে এসব অঙ্গীকার পূরণে দলটি জোর দেবে বলে ইশতেহারে বলা হয়েছে।
এসব অঙ্গীকারের মধ্যে দুটি বিষয়ের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো আমার গ্রাম-আমার শহর; যেখানে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা পৌঁছে দেয়ার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি।
একই সঙ্গে ইশতেহারে নির্বাচিত হলে ১ কোটি ২৮ লাখ তরুণের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। অঙ্গীকার করা হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করা হবে না। ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের মধ্যে বুলেট ট্রেন চালু করা হবে। উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করার জন্য যমুনা নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ করা হবে।
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ইশতেহার ঘোষণা করে বলেছেন, টানা তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেলে তাঁর দল টেকসই বিনিয়োগ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
প্রতিটি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের দলীয় অবস্থান, গত ১০ বছরের অর্জন এবং আগামী দিনের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা ধরে সাজানো হয়েছে ৮০ পৃষ্ঠার এই ইশতেহার। ২০০৮ সালের দিন বদলের সনদ, ২০১৪ সালের এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের পর আসন্ন ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারের শিরোনাম দেয়া হয়েছে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ। ঘোষিত ইশতেহার বিভিন্ন মেয়াদে সরকারে থাকার সময়কার অর্জনগুলোর পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়কার দুঃশাসন, লুটপাট, সন্ত্রাস, খুন, জঙ্গিবাদ ও বিদেশে অর্থপাচারের বিষয়গুলোও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান। পরে গত ১০ বছরের উন্নয়নের একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তথ্যচিত্রে সংক্ষিপ্ত আকারে উঠে আসে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা, মুক্তিযুদ্ধ, ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাযজ্ঞ, দেশে ফিরে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের হাল ধরা, সরকার গঠন, দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান, শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা, আগুনসন্ত্রাস এবং শক্ত হাতে অপশক্তি মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়া। দেখানো হয় ছিটমহল সমস্যা সমাধান থেকে শুরু করে সমুদ্র বিজয়, ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে মহাকাশ অভিযান, সার্বিক উন্নয়নে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার প্রক্রিয়া।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ড. আবদুর রাজ্জাক। বক্তৃতায় তিনি নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আসুন এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখে আমরা দেশকে আলোকিত করি, সমৃদ্ধ করি, বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াই।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, শুধু পরবর্তী নির্বাচন নয়, আমাদের লক্ষ্য পরবর্তী প্রজন্ম। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিগত ৪৩ বছরে সবচেয়ে দক্ষ ও বিচক্ষণ রাজনীতিক, সৎ নেতা এবং সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ভিশন ২১, ভিশন ৪১ বাস্তবায়ন করে দেশকে ভিশন ২১০০ দিকে নিয়ে যাব। বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে বিজয় আমাদের হবেই।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাসান মাহমুদ। মন্ত্রিসভার সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্যবৃন্দ, সুশীলসমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, প্রকৌশলী, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী, কূটনীতিক, দেশি-বিদেশি সংবাদিকসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইশতেহারে আওয়ামী লীগ বলেছে, জনগণের রায়ে আবার ক্ষমতায় যেতে পারলে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, সাম্প্রদায়িকতা ও দুর্নীতি নির্মূল করে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে সুসংহত করবে। সমাজের সকল পর্যায়ে নারীর প্রতিনিধিত্ব ও ক্ষমতায়নে তারা বদ্ধপরিকর। সেবামুখী দক্ষ জনপ্রশাসন ও জনহিতৈষী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গড়ে তুলে দুর্নীতিমুক্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের জন্য শান্তিশৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধির নিশ্চয়তা বিধান করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
ইশতেহারের শেষে বলা হয়েছে, আসুন আমরা সবাই মিলে এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলি যেখানে মানুষের মৌলিক সব চাহিদা পূরণ নিশ্চিত হবে, গড়ে উঠবে সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, নিশ্চিত হবে সামাজিক ন্যায়বিচার, যার যার ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও সমঅধিকার, নারীর অধিকার ও সুযোগের সমতা, তরুণদের শ্রম ও মেধার সৃজনশীল বিকাশ, আইনের শাসন, মানবাধিকার, সুশাসন, শহর ও গ্রামের বৈষম্য দূরীকরণ, দূষণমুক্ত পরিবেশ। গড়ে উঠবে এক অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল বিজ্ঞানমনস্ক উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র।
লিখিত ইশতেহারে পঞ্চাশ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিভেদ, হানাহানি, জ্বালাও-পোড়াও, অগ্নিসন্ত্রাস, অবরোধ, বিশৃঙ্খলার রাজনীতি চাই না। চাই গণতান্ত্রিক পরিবেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এ নির্বাচনে আমরা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি। আমি কথা দিচ্ছি, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আরও সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করব।
জাতির পিতার কাক্সিক্ষত ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ে তুলব। এদেশের মানুষ যাতে ভালোভাবে বাঁচতে পারেন, উন্নত-সমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী হতে পারেন, তা বাস্তবায়ন করাই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।
এবারের নির্বাচনি ইশতেহারে আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগরসুবিধা সম্প্রসারণ, তরুণ-যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর, কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গসমতা ও শিশু কল্যাণ, পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূল, মেগা প্রজেক্টসমূহের দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন; গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, দারিদ্র্যতা নির্মূল, সকল স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি, সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সকলের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা, সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, আধুনিক কৃষিব্যবস্থার লক্ষ্যে যান্ত্রিকীকরণ, দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন, জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, ব্লু-ইকোনমি ও সমুদ্রসম্পদ উন্নয়ন, নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা, প্রবীণ, প্রতিবন্দ্বী ও অটিজম কল্যাণ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন।
টানা ১০ বছরে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মহাসড়ক দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলে দেশের জন্য আরও যা করা হবে সে ব্যাপারে বিস্তারিত প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে সার্বজনীন মানবাধিকার সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা এবং নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পেলে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি দৃঢ় অবস্থান অব্যাহত রাখা। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারি বন্ধে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা। একইসঙ্গে আগামী ৫ বছরে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে জনবল নিয়োগ করা।
আওয়ামী লীগের এবারের নির্বাচনি ইশতেহারে দেশবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে আরও রয়েছে প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেয়া হবে। আগামী ৫ বছরে দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে। পাকা সড়কের মাধ্যমে সকল গ্রামকে জেলা ও উপজেলা শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এছাড়া আগামী ৫ বছরে জিডিপি ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনকালে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৩০ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ৫ হাজার ৪৭৯ ডলারের বেশি। টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি উপজেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবে। জাতীয় পর্যায়ে স্বল্প, মধ্যম ও উচ্চশিক্ষিত তরুণদের তথ্য সংবলিত একটি ইন্টিগ্রেটেড ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। তরুণদের সুস্থ বিনোদনের জন্য প্রতিটি উপজেলায় গড়ে তোলা হবে একটি করে যুব বিনোদন কেন্দ্র। প্রতিটি জেলায় একটি করে যুব স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। আগামী ৫ বছরে ১ কোটি ২৮ লাখ কর্মসৃজন করার পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। প্রতি উপজেলা থেকে প্রতি বছর গড়ে ১ হাজার যুব ও যুব মহিলাকে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
বাল্যবিবাহ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করবে তারা। নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে আলাদা ব্যাংকিং ও ঋণসুবিধা নিশ্চিত করা হবে। দারিদ্র্যের হার ১২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজনের নিয়মিত রোজগার নিশ্চিত করা হবে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।
সহজ শর্তে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে আয়বর্ধকমূলক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করা হবে। এছাড়াও ক্ষমতায় গেলে ছোট ও মাঝারি আকারের দুগ্ধ ও পোল্ট্রি খামার প্রতিষ্ঠা এবং মৎস্য চাষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, প্রয়োজনমতো ভর্তুকি, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও নীতি সহায়তা বৃদ্ধি করা হবে। ২০২০ সালের মধ্যে সকলের জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে। ২০২৩ সালের মধ্যে ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এবং ৫ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হবে।
ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে পদ্মাসেতুর দুইপাড়ে আধুনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আইটি শিল্পপার্ক স্থাপন করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে ১০০টি উপজেলায় এ ধরনের ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ চলছে। নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষায় শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে প্রয়োজনীয় বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেডসহ শিক্ষা খাতের কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে বৈষম্য রয়ে গেছে, তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে নিরসন করা হবে। এছাড়া ১ বছরের নিচে ও ৬৫ বছরের উপরে সকল নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে। সকল বিভাগীয় শহরে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।
দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোকে আধুনিকায়ন করা হবে। আগামী ৫ বছরে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন করা হবে। এছাড়া মহাসড়কের পাশে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের বার্ধক্যকালীন ভরণ-পোষণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং ষাট ও তদূর্ধ্ব বয়সের সকল মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মানিত নাগরিক হিসেবে রেল, বাস ও লঞ্চে বিনামূল্যে চলাচলের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গৃহীত ১০টি বৃহৎ মেগা প্রকল্প জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলে দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো হচ্ছে পদ্মাসেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা মাস-র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল, মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম, পায়রা সমুদ্রবন্দর, পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন স্থাপন।
এ বিষয়ে ইশতেহারে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ এসব মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। পায়রা বন্দরের পরিপূর্ণ উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এলএনজি টার্মিনাল বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনকালে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। আর ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।