প্রতিবেদন

ডেডলাইন ৩০ ডিসেম্বর: আওয়ামী লীগ-বিএনপি প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ-গণসংযোগে সরগরম নির্বাচনি মাঠ

এম নিজাম উদ্দিন
ডেডলাইন ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতির মাঠ। কারণ এবার দেশের দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ইসি কর্তৃক নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। তাই সারাদেশের মতো রাজধানী ঢাকার নির্বাচনি মাঠও এখন বেশ সরগরম। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। রাজধানীর আকাশ ছেয়ে গেছে নৌকা ও ধানের শীষের পোস্টারে। লিফলেট হাতে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। নিজেদের পক্ষে রায় নিতে ভোটারদের কাছে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা-ের কথা তুলে ধরছেন নৌকার প্রার্থীরা। বিপরীতে সরকারের কঠোর দমননীতির কথা তুলে ধরছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা।
বড় দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা, হামলা, পাল্টা হামলা, নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুর, পোস্টার ছিড়ে ফেলা ও পোস্টার লাগাতে না দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। দুই দলের প্রতিনিধি দলই এসব অভিযোগ নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনে। কমিশন মনোযোগ দিয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপির অভিযোগ শুনছে; কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থাও নিচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টাঅভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সকল দলের প্রার্থীরাই মূলত নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনি জণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সমালোচকরা বলছেন, প্রার্থীরা নির্বাচনি কৌশল হিসেবে প্রতিপক্ষ ও নির্বাচন কমিশনকে চাপে রাখার জন্য অভিযোগ-পাল্টাঅভিযোগ করে চলেছে।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে কাউকে বাধা দেয়া হচ্ছে না। গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-১২ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আয়োজিত সভায় আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিএনপি অভিযোগ করে তাদের নির্বাচনি প্রচারসহ পোস্টার লাগাতে দেয়া হচ্ছে না। আসলে তারাই পোস্টার লাগায় না। যে কারণে তাদের পোস্টার কোথাও দেখি না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি প্রচারে কাউকে বাধা দেয়া হচ্ছে না। সবাই নিজেদের মতো প্রচার চালাচ্ছেন। বিএনপির অভিযোগ সত্য নয়। তার প্রমাণ আমার এলাকায় রাস্তার যেদিকেই তাকাই কোদাল মার্কার পোস্টার দেখি, আমার পোস্টারই নাই।
ঢাকা-১২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত এ প্রার্থী বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করছে। এটাও ঠিক না। আমি স্পষ্টভাবে বলছি, তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে শুধু যাদের নামে ওয়ারেন্ট আছে। যারা ২০১৩-১৪ সালে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়েছে, শুধু তাদের ছাড়া আর কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
ঢাকা-৯ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা আব্বাসের নির্বাচনি প্রচারণার সময় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। খিলগাঁও এলাকার সবুজমতি ভবনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সাবের হোসেন। তিনি বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী আফরোজা আব্বাস একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও সম্মানীয় ব্যক্তি। সম্প্রতি তার প্রচার অভিযানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন এমন অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তার এ অভিযোগ কতটুকু সত্য তা সংবাদমাধ্যম অবগত আছে বলে আমার বিশ^াস।
গত ১২ ডিসেম্বর মাদারটেক এলাকায় নির্বাচনি প্রচারে হামলার ঘটনায় আফরোজা আব্বাসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবের হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমার অবস্থান স্পষ্ট। আইন সবার জন্য সমান। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যদি আমার দলের হয়, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। ইতোমধ্যে আমি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, মতিঝিল জোনের পুলিশের ডিসিসহ সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানিয়ে দিয়েছি।
সাবের হোসেন চৌধুরী বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচারে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেন, বিএনপি প্রার্থী বড় বাঁশের মাথায় প্লাস্টিকের তৈরি ধানের শীষ লাগিয়ে মিছিল করে, যা নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
১৮ ডিসেম্বর বিএনপির প্রচারের সময় আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে সাবের হোসেন বলেন, নির্বাচনি প্রচারের সময় একজন প্রার্থীর গাড়িতে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী থাকতে পারে না। আফরোজা আব্বাস চাইলে তার প্রচার কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আমি তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকা-ের কারণে এবারের নির্বাচনে ভোটাররা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির পক্ষে রায় দেবেন বলে আমার বিশ^াস।
ঢাকা-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদারের নির্বাচনি কার্যালয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপরীতে লড়ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান। অভিযোগে বলা হয়, ঢাকা-১৫ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামাল মজুমদারের মিরপুরের ৬০ ফুট সড়ক সংলগ্ন মোল্লাপাড়ার নির্বাচনি প্রচারকেন্দ্রে জামায়াত-শিবির পরিকল্পিতভাবে হামলা, বিস্ফোরণ, গুলি ও ভাঙচুর চালায়। ঘটনাস্থলে কয়েক রাউন্ড গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। হামলায় স্থানীয় শ্রমিক নেতা হারুন উর রশিদ আহত হন।
এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনের মিডিয়া সমন্বয়ক মু. আতাউর রহমান সরকার স্বাক্ষরিত এক বার্তায় বলা হয়, ঢাকা-১৫ আসনের মোল্লাপাড়ার আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা কাপুরুষোচিত কাজ। একটি বিশেষ মহল নির্বাচন বানচাল করার জন্য এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
এদিকে ঢাকা-৬ আসনের মহাজোটের প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশীদের পক্ষে দিনভর প্রচার চালিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। এ সময় কাজী ফিরোজ রশিদ ছাড়াও নগর আওয়ামী লীগের নেতাসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
গণসংযোগকালে শাহে আলম মুরাদ এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, লাঙ্গলে ভোট দিলে কাজী ফিরোজ এমপি হবেন, আর শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হবেন। এ আসনে শেখ হাসিনার মার্কা লাঙ্গল মার্কা।
ঢাকা-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে তার ওপর বারবার হামলা হচ্ছে জানিয়ে সব বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনি মাঠে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিএনপির সাবেক এ সংসদ সদস্য।
রাজধানীর শ্যামপুরে নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে আমার নির্বাচনি এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে। ১০ ডিসেম্বর নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হওয়ার পর পুলিশ ও আমার প্রতিদ্বন্দ্বী লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীর সন্ত্রাসী বাহিনীর বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা। নির্বাচনি কার্যক্রমে আমার শ্যামপুরের বাসাটি প্রধান অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে নেতাকর্মীরা এলে তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।
১০ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত গণসংযোগ এবং প্রচারে একাধিক হামলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকার ঘুণ্টিঘর এলাকায় গণসংযোগ চালানোর সময় একদল দুর্বৃত্ত আমার গাড়ি ভাঙচুর করে।
নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তিনি বলেন, আমার এলাকার ভোটাররা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরপেক্ষ আচরণ আশা করেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে পরিস্থিতি কারও জন্যই ভালো হবে না।
ঢাকা-৪ আসনের মহাজোটের প্রার্থী সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার পক্ষে মাঠে নেমে লাঙ্গলে ভোট চাইলেন সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সানজিদা খানম। ৫৩নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে কদমতলী থানা আওয়ামী লীগ। গণসংযোগকালে বাবলা সানজিদা ছাড়াও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিল হাজী নাসির, থানার সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন, সোহরাব হোসেন, ফারুক আহমেদসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও জাপার কয়েক সহস্রাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
একই দিন মীর হাজীরবাগের যুক্তিবাদী হুজুরের গলিতে জনসভা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এতে সভাপতিত্ব করেন ৫১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী হাবিবুর রহমান হাবু। এর আগে সকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মনির হোসেন স্বপনের নেতৃত্বে আলমবাগে গণসংযোগ করে জাপা ও শ্রমিকলীগ। মেরাজনগরের মোহাম্মদবাগে দিনব্যাপী গণসংযোগ করেন বাবলাপতœী সালমা হোসেন। শ্যামপুরের ঘুণ্টিঘরে যুবলীগ নেতা কাজী ইব্রাহিম খলিল মারুফের নেতৃত্বে লাঙ্গলের পক্ষে প্রচার মিছিল করে শ্যামপুর থানা যুবলীগ।
ঢাকা-১৫ নির্বাচনি আসনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থী ডা. আহম্মদ সাজেদুল হক রুবেলের কাস্তে মার্কা ও ঢাকা-৮ আসনের বাম গণতান্ত্রিক জোটের মই মার্কার প্রার্থী প্রকৌশলী শম্পা বসুর সমর্থনে গণসংযোগ করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতারা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার পালাবদল হলেও সাধারণ মানুষের মুক্তি আসেনি, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। দুর্নীতি ও লুটপাটে নিমজ্জিত দেশ। এমপিগিরি এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এর থেকে মুক্তি পেতে মহাজোট-জোট-ফ্রন্টের বাইরে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করে ক্ষমতায় আনতে হবে।
গণসংযোগে অংশ নেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সিপিবির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, নারী নেত্রী লক্ষ্মী চক্রবর্তী, রওশন আরা রুশো, ঢাকা-১৫ আসনের কাস্তে মার্কার প্রার্থী ডা. আহম্মদ সাজেদুল হক রুবেল, ঢাকা-৮ আসনের মই মার্কার প্রার্থী প্রকৌশলী শম্পা বসু, সিপিবি নেতা খান আসাদুজ্জামান মাসুম, সেকেন্দার হায়াৎ, বাসদ নেতা জুলফিকার আলী প্রমুখ।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশের প্রধান দ্বন্দ্ব হলো ১ ভাগ লুটেরা বনাম ৯৯ ভাগ শোষিত মানুষ। সাধারণ মানুষের উপার্জিত সম্পদ ১ ভাগ মানুষ ভোগ করছে। এই ১ ভাগ লুটেরার প্রতিনিধি হলো মহাজোট, জোট ও ফ্রন্ট। আর সাধারণ ৯৯ ভাগ মানুষের প্রতিনিধি হলো বাম গণতান্ত্রিক জোট।
তিনি আসন্ন নির্বাচনে ৯৯ ভাগ মানুষের স্বার্থরক্ষায় বাম জোটের প্রার্থীদের ভোট দেয়ার এবং ব্যবস্থা বদলের সংগ্রামে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপশক্তিকে পরাস্ত করার আহ্বান জানান।
খালেকুজ্জামান ভোটের দিন সকল মানুষকে নির্ভয়ে ভোট দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণকে ভোটাধিকারবঞ্চিত করে গণতন্ত্র রক্ষা করা যায় না। শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, নীতির পরিবর্তন ছাড়া দেশের মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করা যাবে না। বাম জোট নীতির পরিবর্তনের সংগ্রামে নেমেছে। জনগণকে এই সংগ্রামে এগিয়ে এসে নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে প্রচারে বাধা দেয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন ঢাকা-১৫ ও ১৭ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম। জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, নির্বাচনি প্রচারে মাঠে যাওয়ার পর আমাদের কর্মীদের বিভিন্নভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে, কেন্দ্র বানানোর চেষ্টা করেছি, সেখানে ভাঙচুর করেছে রাজনৈতিক দলের অতিউৎসাহী কর্মীরা। আমি একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করব, দেশটা কিন্তু আমাদের সবার। আমাদের নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা দেবেন না। আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীকেও আপনারা কথা বলার সুযোগ দেবেন না মাঠে, এটা তো হতে পারে না। আমরা যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী, তাদের খুব কষ্ট দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আমার কর্মীদের নির্বাচনি প্রচারণায় প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা ভয়-ভীতি এবং বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এসবের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।