কলাম

পুনঃভর্তির নামে অতিরিক্ত ফি আদায় থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষকে সংযত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে

স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের কারণে এবার ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন স্কুলে স্কুলে চলছে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। সেই সঙ্গে চলছে নতুন শ্রেণিতে ওঠার নামে পুনঃভর্তির প্রহসন। একসময় প্রাইমারি শিক্ষা শেষ করে হাইস্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে গিয়ে ভর্তি ফি দিতে হতো। একবার ওই ভর্তি ফি দিয়েই ওই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পাস করে বেরুতো। এখন সেই দিন আর নেই। সরকারি প্রাইমারি স্কুল ছাড়া অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই বছর বছর নতুনভাবে ভর্তি হওয়া স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম। শিক্ষার্থীটি যে টানা ১২ মাস বেতন ও ৩ বার পরীক্ষার ফি দিয়ে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করলো, তার যেন কোনো কৃতিত্বই নেই। ওয়ান থেকে এসএসসি পর্যন্ত তাকে একই স্কুলে ১১ বার ভর্তি হতে হয়, আর তার অভিভাবকের ওপর দিয়ে ওই কয়বারই অর্থনৈতিক ঝড় বয়ে যায়। পুনঃভর্তির বিষয়টি এখন আসলে অভিভাবকদের জন্য একপ্রকার আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। এক-দুইশ টাকার ব্যাপার হলে কোনো অভিভাবকই হয়ত পুনঃভর্তির বিষয়টি মাথায় নিতেন না। কিন্তু এটি শ ও হাজার পেরিয়ে কোনো কোনো স্কুলে লাখ টাকায় গিয়েও ঠেকেছে। পুনঃভর্তি ফি-র পাশাপাশি আরেক আতঙ্কের নাম উন্নয়ন ফি। এই ফি-ও পুনঃভর্তি ফিয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্রমে বেড়েই চলেছে। এসব দেখার যেন কেউই নেই। অনেক সচেতন অভিভাবকও এর প্রতিবাদ করতে চান না। কারণ এতে করে ওই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের স্কুল কর্তৃপক্ষের নেতিবাচক টার্গেটে পরিণত হওয়ার ভয় থাকে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না। একেক স্কুলের ফি একেক রকম। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া নিয়ম মেনে চললে এমন হওয়ার তো কথা নয়। ভর্তি, পুনঃভর্তি ও উন্নয়ন ফি আবার ওঠানামা করে স্কুলের গভর্নিং বডির সদস্যদের মেজাজ-মর্জির ওপর। অনেকের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে বড় ধরনের বাণিজ্য করে থাকে। এজন্য পুনঃভর্তি ফি ও উন্নয়ন ফি’র বিষয়টি পুরোপুরি বিলোপ করার পাশাপাশি ভর্তি ফি, মাসিক বেতন এবং অন্যান্য ফি নির্ধারণ করার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্টদের সরকারের শিক্ষাবান্ধব নীতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি দেয়া উচিত। তাছাড়া সারাদেশের শহর ও বিভাগীয় শহরগুলোতে অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা গ্রহণ করার পরও সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করে না; যা আদৌ কাম্য নয়। আমরা মনে করি, এক্ষেত্রে সরকারকে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাকেন্দ্রিক বাণিজ্য করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাই ভর্তি ও পুনঃভর্তি এবং উন্নয়ন ফি নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবতে হবে। অন্যথায় বর্তমান সরকারের গৃহীত উদার শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে; যা আমাদের মতো কারোরই কাম্য নয়।