রাজনীতি

ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ-বিএনপি উৎসবমুখর হয়ে উঠছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

এম নিজাম উদ্দিন
টানা ১০ বছর পর জাতীয় নির্বাচনের ভোটের মাঠে লড়াইয়ে নেমেছে দেশের শীর্ষ দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বড় এই দুই দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল। যে রাজনৈতিক দলগুলো কোনো জোটেই নেই, তারাও এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ফলে আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক। আর এ কারণে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নির্বাচনটি হয়ে উঠছে উৎসবমুখর। এখন দেশের প্রায় সকল আলোচনা-সমালোচনা এবং কর্মকা-ই আবর্তিত হচ্ছে ভোটকেন্দ্রিক।
ইতোমধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দেশের দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দল তথা জোটের মধ্যে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। দলীয়ভাবে মনোনীত প্রার্থীরা ইসি কর্তৃক বরাদ্দকৃত তাদের নির্ধারিত নির্বাচনি প্রতীক নিয়ে যার যার এলাকায় ভোটযুদ্ধে নেমে পড়েছেন। আর এবারের ভোটযুদ্ধের মূল আকর্ষণ ও লড়াই হচ্ছে নৌকা বনাম ধানের শীষ মার্কা বা আরো সহজ করে বলতে গেলে বলতে হয়Ñ আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি।
এবারের ভোট ও জোটের সমীকরণ বেশ জটিল হলেও সাধারণ জনমানুষের কাছে ভোটের হিসাব খুবই সহজ ও সরল। তারা জানে, জনগণের এ ভোটযুদ্ধের পর হয় আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপি নেতৃত্বাধীন দল বা জোট ২০১৯ সালে নতুন সরকার গঠন করে পরবর্তী ৫ বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।
উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি শান্তিপূর্ণ করার চেষ্টাও করছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বড় দুটি রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে অনেক অরাজনৈতিক সংস্থাও। তেমনি একটি সংস্থা হলো ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল।
‘শান্তি জিতলে জিতবে দেশ’Ñ এ স্লোগান নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে উৎসাহিত করতে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ‘শান্তিতে বিজয়’ ক্যাম্পেইন শুরু করে। এতে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতারা এক মঞ্চে বসে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অঙ্গীকার করেছেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করতে অবদান রাখার জন্য ৫ ডিসেম্বর রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির ৪০ জন নেতাকে সম্মাননা প্রদান করে ডেমোক্রেসি
ইন্টারন্যাশনাল। তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্লিন কোয়ান। তিন দলের সিনিয়র নেতারাই অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পরস্পরের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অঙ্গীকার করেন।
তিন দলের নেতারাই বলেন, দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির স্বার্থেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রয়োজন।
এ সময় অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সুপারিশ তুলে ধরা হয়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ৮ দফা ও বিএনপির তৃণমূল থেকে আসা ৭ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। আর ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা তুলে ধরে সবাইকে তা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
বিএনপির তৃণমূল থেকে উঠে আসা ৭ দফা সুপারিশে রয়েছে, শান্তির জন্য সকল দলের প্রার্থীদের শপথ গ্রহণ, সকল দলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সহিংসতা না করার জন্য সকল দলের কর্মীদের প্রতি কেন্দ্রের নির্দেশ, নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে প্রচার চালানো, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের একে অপরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, সকল প্রতিদ্বন্দ্বীর সহাবস্থানের জন্য নিরপেক্ষ কমিটি গঠন এবং কেউ কারও কর্মসূচিতে বাধা না দেয়া ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য না দেয়া।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে উঠে আসা ৮ দফা সুপারিশের মধ্যে রয়েছেÑ ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রাখতে কর্মীদের নির্দেশ, বিরোধী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার না করা, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার উৎসাহ প্রদান, নির্বাচনি প্রচারে নারীদের দায়িত্ব প্রদান, জয়-পরাজয় যা হোক ফলাফল মেনে নেয়া, ইশতেহারে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অঙ্গীকার, প্রতিটি কেন্দ্রে দল থেকে মনিটরিং টিম রাখা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সকল দলের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা। দলের তৃণমূল নেতা তন্ময় এ ৮ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেন, দেশ আজ যে উচ্চতায় এসেছে তা আরও অনেক দূর এগিয়ে নিতে সবাইকে কাজ করতে হবে। এ জন্য আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে করতে হবে। এবারের মতো এমন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আগে আর হয়নি। তাই এ নির্বাচন হবে দেশের জন্য মাইলফলক। এ নির্বাচন আমরা সবাই মিলে শান্তিপূর্ণভাবে করব। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অঙ্গীকার করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আমরা শান্তি চাই। তবে কবরের শান্তি চাই না। দেশে সুবিচার ও সুশাসন না থাকলে শান্তি থাকে না। যদি একটি দল কেন্দ্র দখল করে তাহলে কী করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে? তাই সব দল মিলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে চাইলেই কেবল তা করা সম্ভব। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি বন্ধ না হলে দেশে শান্তি আসবে না। তাই সকল রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করতে হবে। দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের স্বার্থেই তা করতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের উন্নয়নে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে হবে। আজকের (৫ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠানে আমরা সরকারি ও বিরোধী দলের নেতারা নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য একত্রিত হয়েছি। দেশের সব জায়গায় যদি আজকের অনুষ্ঠানের মতো শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকত তাহলে দেশ অনেক এগিয়ে যেত।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলু বলেন, দেশে এখন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। তাই এবারের নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ হবে।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্লিন কোয়ান বলেন, নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের একটি উৎসব। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই। আমরা চাই বাংলাদেশের সকল দল নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখবে। এর মাধ্যমে তারা দেশকে আরও এগিয়ে নেবে।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক র‌্যানডেল অরসন বলেন, আসন্ন নির্বাচনে শান্তি জিতলে জিতবে বাংলাদেশ। আমরা আশা করি, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য অংশগ্রহণকারী সকল দল সার্বিক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসবে।
অনুষ্ঠানে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য দেশবাসীর ভাবনা শীর্ষক একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে বলা হয়, সব মানুষের প্রত্যাশা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। শান্তি জিতলে জিতবে দেশ, সফল হবে বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করতে অবদান রাখার জন্য আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির যে ৪০ জন নেতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয় তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান, ড. আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ প্রমুখ। এদের সবাইকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়। অবশ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান, ড. আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ কিছু নেতা অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকায় তাদের ক্রেস্টগুলো বাহকের হাতে তুলে দেয়া হয়।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসলে কতটুকু অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ হবে, তা নির্ভর করছে নির্বাচনি মাঠে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সহাবস্থানের ওপর। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের অনুষ্ঠানে এক মঞ্চে উঠেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা। তবে দল দুটির শীর্ষ দুই নেতা ওবায়দুল কাদের ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। তারপরও দুই দলের সিনিয়র নেতাদের একমঞ্চে উপস্থিতি জনগণকে অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। যে জনগণ মাসখানেক আগেও রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা থেকে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছিল, সে জনগণই এখন নির্বাচন নিয়ে, রাজনৈতিক কথাবার্তা নিয়ে বেশ সরব।
তবে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জনসাধারণের শেষ আশা ও ভরসাস্থল হলো বঙ্গবন্ধুকন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নির্বাচন কমিশন। ইসি এবং শেখ হাসিনা বরাবরই বলছেন তাঁদের ওপর আস্থা রাখার জন্য। তারা জাতিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবেন। সমগ্র জাতি এখন সেই আশায় বুক বেঁধে নির্বাচনি মাঠে সরব ও সক্রিয় রয়েছে।
রাজনৈতিক দল ও জোটে এখন চলছে মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়ার পোস্টমর্টেম। প্রার্থিতা কেন বাতিল হলো তা নিয়েও বেশুমার বিতর্ক চলছে। কোন দলের প্রার্থী কতটুকু যোগ্য, কে অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রার্থী, কে টাকাওয়ালা ব্যবসায়ী প্রার্থী, কে তৃণমূলের ত্যাগী প্রার্থী, কোন যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন পাননিÑ এসব নিয়েও আলোচনা এখন
তুঙ্গে।
আশার কথা হলো নির্বাচনি বিষয় নিয়ে যেসব আলাপ-আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক চলছে, তা এখন পর্যন্ত অনেকটা শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে। অবশ্য বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত কয়েকজন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ৮ ডিসেম্বর দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে এবং দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
এদিকে গত ৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত ৩ হাজার ৭৮৩ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর কাছে পাঠানো এক খোলা চিঠিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে জোট মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সর্বাত্ম প্রচেষ্টা চালানোর অনুরোধ জানান।

শেষ কথা
নির্বাচনের মাঠে রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে মনোনয়নকেন্দ্রিক ক্ষোভ ও হতাশা থাকাটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারাদেশে চলমান ভোটের উৎসবে দল ও জোটের অভ্যন্তরে সৃষ্টি হওয়া সাময়িক ক্ষোভ ও হতাশা অচিরেই কেটে যাবে। সবাই ভোটের লড়াইয়ে মনোনিবেশ করবেন।
তাছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনি মাঠ পর্যবেক্ষণ করে অনেকেই মন্তব্য করছেন, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো বিরোধ দেখা যায়নি। তবে চাপা বিরোধ আছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী ও মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের মধ্যে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আহ্বান অগ্রাহ্য করে মনোনয়নবঞ্চিত অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন। যেসব আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটে দাঁড়িয়েছেন, সে আসনগুলো আওয়ামী লীগের জন্য হয়ে গেছে ঝুঁকিপূর্ণ। আবার জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি ১৪৫টি আসনে জোটের নৌকা প্রতীকের বাইরে গিয়ে সমান্তরালে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করছে। এদিকে বিএনপিতে মনোনয়নবঞ্চিতরা আরো একধাপ এগিয়ে। তারা মনোনয়ন না পেয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। মহাসচিবকে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং তার গাড়ি ভাঙচুর করেছে।
এখানেই থেমে থাকেনি তারা। ৮ ডিসেম্বর রাতে তারা খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে হামলাও চালিয়েছে। ফ্রি স্টাইলে ভাঙচুরও করেছে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিতরা।
তাই অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলছেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে যতটা না বিরোধ, তারচেয়ে বেশি বিরোধ তাদের নিজেদের মধ্যে। তারা বলছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনি মাঠে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নিজেদের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো না থাকলে নির্বাচনটি খুবই শান্তিপূর্ণ হতো। দল দুটি নিজেদের মধ্যে চলমান এসব সমস্যা যত দ্রুত নিরসন করতে পারবে, তত দ্রুতই নির্বাচনি পরিবেশ হয়ে উঠবে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর।