প্রতিবেদন

জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষা-২০১৮’র ফলাফল প্রকাশ : পাসের হার বাড়ায় উচ্ছ্বসিত জেএসসি ও জেডিসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা

হাফিজ আহমেদ : জেএসসি ও জেডিসি, পিইসি ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষার ফল ২৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় অর্ধকোটিরও বেশি পরিবারে এখন উচ্ছ্বাস। ২০১৭ সালের চেয়ে ২০১৮ সালে উভয় পরীক্ষায় পাসের হার বেড়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় এবার পাস করেছে ৯৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আর ইবতেদায়ীতে এ হার ৯৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। দুই পরীক্ষা মিলিয়ে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। ২০১৭ সালে পাসের এ হার ছিল ৯৪ দশমিক ০৬ শতাংশ। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে পাসের হার বেড়েছে ৩ শতাংশেরও বেশি। এছাড়া প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনীতে জিপিএ ৫ ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে অনেক বেড়েছে।
২০১৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় মোট ২৬ লাখ ৫২ হাজার ৮৯৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করে ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৯০৪ জন । পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। উত্তীর্ণদের মধ্যে ১১ লাখ ৮১ হাজার ১৯ জন ছাত্র এবং ১৪ লাখ ৭ হাজার ৮৮৫ জন ছাত্রী। ২০১৭ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ১৮ শতাংশ।
এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার ৪১১ জন এবং ছাত্রী ২ লাখ ৬ হাজার ৭৮২ জন। ২০১৭ সালে প্রাথমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৬০৯ জন। পাসের হার বিবেচনায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৭ বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে। এই বিভাগের পাসের হার ৯৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। ৬৪ জেলার মধ্যে জয়পুরহাট জেলা প্রথম স্থানে রয়েছে, এই জেলার পাসের হার ৯৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ৫১০ উপজেলা/থানার মধ্যে ১৬টি উপজেলায় শতভাগ পাস করেছে।
সারাদেশে ইংরেজি ভার্সণে ১১ হাজার ৮৫০ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, এরমধ্যে ১১ হাজার ৮০৪ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ৬২৪ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ১৭৯ জন।
চতুর্থ বিষয়ের নম্বর বাদ দিয়ে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি কার্যকর করায় এবার অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও (জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট) জেডিসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ কমেছে। তবে পাসের হার ১ বছরে ২ দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৮ হাজার ৯৫ জন। ২০১৭ সালে ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৬২৮ জন। কমেছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৩৩ জন।
নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির কারণে জিপিএ-৫ কমলেও পাসের হারসহ অন্য সকল সূচকেই অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে সারাদেশের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। এতে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ২৪ ডিসেম্বর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ২০১৮ সালের ফলের পরিসংখ্যান তুলে দেন। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক প্রমুখ।
ওই দিন দুপুর থেকে সারাদেশের শিক্ষার্থী নিজ নিজ কেন্দ্র ও স্কুল থেকে ফল জানতে পারে। ফল জানা যায়, ইমেইল, ওয়েবসাইট, মোবাইলে ও এসএমএস পাঠিয়েও। শিক্ষাবোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট (যঃঃঢ়://.িবিফঁপধঃরড়হনড়ধৎফৎবংঁষঃং.মড়া.নফ) এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও জেএসসি ও জেডিসির ফল জানা যায়। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ই-মেইলেও জেএসসি ও জেডিসির ফলের সফটকপি পাঠায় শিক্ষা বোর্ড।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১ থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশের ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ১৬৯ জন শিক্ষার্থী জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ২২ লাখ ৩০ হাজার ৮২৯ জন। আট বোর্ডের জেএসসিতে পাসের হার ৮৫ দশমিক ২৮ শতাংশ, গত বছর ছিল ৮৩ দশমিক ১০ শতাংশ। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে জেডিসিতে পাস করেছে ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। ২০১৭ সালে এ পাসের হার ছিল ৮৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।
পাসের হার বাড়লেও জিপিএ-৫ কেন কম হলো? ফল প্রকাশের পরই সামনে এসেছে এমন প্রশ্ন। অনেকে হঠাৎ এ সংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্নœ হলেও জানা গেল স্বাভাবিক পরিবর্তনেই এমন ফল।
তবে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আগে অষ্টমের শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বিষয়ের নম্বর ধরেই ফলাফল হিসাব করা হতো। নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির ধারাবাহিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এবার তা করা হয়নি। এ কারণেই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। চতুর্থ বিষয়ের নম্বর যোগ করলে দেখা যাবে জিপিএ ফাইভ আবার বেড়ে গেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মূল্যায়ন পদ্ধতির এ পরিবর্তন নিয়ে আগেই বলা হয়েছে। এবার এটা হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় নানামুখী সংস্কার করে চলেছে। এর মধ্যে উন্নত বিশ্বের ন্যায় শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা তৈরিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। সে লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় কিছু বিষয়ের মূল্যায়নে ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এ কাজটি পরীক্ষার্থীর নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান করে থাকে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বছর থেকে শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্মমুখী শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলা, কৃষিশিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, আরবি, সংস্কৃত পালি বিষয়সমূহ ধারাবাহিক মূল্যায়ন (ঈড়হঃরহঁড়ঁং অংংবংংসবহঃ)-এর আওতায় আনা হয়েছে। এ বিষয়গুলো স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মূল্যায়ন করে এবং প্রাপ্ত ফল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টে উল্লেখ থাকে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যাান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হওয়ায় এ বছর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় বোর্ডের ফল প্রক্রিয়াকরণে চতুর্থ বিষয় বিবেচনা করা হয়নি। এ কারণে ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালের ফলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। চতুর্থ বিষয় ব্যতীত ২০১৭ সালের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত পরীক্ষার্থী ও ২০১৮ সালের পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ-৫ পরীক্ষার্থী সংখ্যায় তেমন পার্থক্য নেই।
জেএসসিতে এবারও বরিশালে পাসের হার সবচেয়ে বেশি, সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে ঢাকা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা। এবার বরিশাল বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ৯৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, এবং সিলেট বোর্ডে সবচেয়ে কম ৭৯ দশমিক ৮৩২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে জেডিসিতে এবার ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। ঢাকা বোর্ড থেকে এবার সবচেয়ে বেশি ২২ হাজার ৩৩৪ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর মাদ্রাসা বোর্ডে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৮৭ জন। এছাড়া রাজশাহীতে পাস করেছে ৯৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ জিডিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ৬৩৮ জন।
কুমিল্লা বোর্ডে অংশ নিয়েছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ৮১১ জন। পাস করেছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৫ জন। পাসের হার ৮৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ২০১৭ সালে যা ছিল ৬২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৪২ জন, ২০১৭ সালে যা ছিল ৮ হাজার ৮৭৫ জন।
যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে এবার এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৮২২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫৩৬ জন। এ বোর্ডে গড় পাসের হার ৮৪ দশমিক ৬১ শতাংশ, ২০১৭ সালে যা ছিল ৮৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। যশোর বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ২৫৬ জন, ২০১৭ সালে যা ছিল ১৪ হাজার ৬১২ জন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ২ লাখ ২ হাজার ৪৫৫ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮ জন। গড় পাসের হার ৮১ দশমিক ৫২ শতাংশ, ২০১৭ সালে যা ছিল ৮১ দশমিক ১৭ শতাংশ। এ বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ২৩১ জন, ২০১৭ সালে যা ছিল ১০ হাজার ৩১৫ জন। বরিশাল শিক্ষা বোর্ড থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৫৭ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৬৯ জন শিক্ষার্থী। বরিশালে এবার গড় পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১৭ সালে যা ছিল ৯৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৯০৬ জন, ২০১৭ সালে যা ছিল ৮ হাজার ৪৩১ জন।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড থেকে অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৪ জন শিক্ষার্থী। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬ জন। পাসের হার ৭৯ দশমিক ৮২ শতাংশ, ২০১৭ সালে ছিল ৮৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৬৯৮ জন, ২০১৭ সালে যা ছিল ৭ হাজার ৬২১ জন।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ২ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮৯ জন ছাত্রছাত্রী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭৫৬ জন শিক্ষার্থী। গড় পাসের হার ৮১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ২০১৭ সালে যা ছিল ৮৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। দিনাজপুরে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৩০৩ জন, ২০১৭ সালে যা ছিল ২০ হাজার ৬২ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে এবার জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৩ লাখ ৮২ হাজার ২০৮ জন ছাত্রছাত্রী। এর মধ্যে পাস করেছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৩১১ জন। গড় পাসের হার ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ, ২০১৭ সালে যা ছিল ৮৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। মাদ্রাসায় এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৯৮৭ জন, ২০১৭ সালে যা ছিল ৭ হাজার ২৩১ জন। এবার শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শূন্য পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমেছে। ৪ হাজার ৭৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। আর ৪৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করতে পারেনি। ২০১৭ সালে জেএসসি-জেডিসিতে ৫ হাজার ২৭৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করেছিল। আর ৫৯টি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছিল। এই হিসাবে এবার শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫১০টি কমেছে। শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ১৬টি।
ঢাকা বোর্ডের ৪১৩টি, রাজশাহীর ৯১২টি, কুমিল্লার ১৫৮টি এবং যশোর বোর্ডের ২৭৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। চট্টগ্রামের ৮৯টি, বরিশালে ৮২১টি, সিলেটে ৭১টি, দিনাজপুর বোর্ডের ৩০২টি এবং মাদ্রাসা বোর্ডের ১ হাজার ৭২৭টি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। মাদ্রাসার ২০টি, দিনাজপুরের ১১টি, ঢাকার ৫টি, রাজশাহীর ২টি এবং যশোর ও চট্টগ্রামের একটি করে প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী জেএসসি-জেডিসিতে অংশ নিয়েও পাস করতে পারেনি।
জেএসসি পরীক্ষায় বিদেশে ৯টি কেন্দ্রের ৯৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬ জন। ২০১৭ সালে বিদেশের কেন্দ্র থেকে ৯৩ দশমিক ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। সেই হিসাবে এবার বিদেশের কেন্দ্রে পাসের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। এবার দেশের বাইরের ৯টি কেন্দ্রে ৫৪১ জন শিক্ষার্থী জেএসসিতে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৫৩০ জন। ৫টি কেন্দ্রের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
উল্লেখ্য, এবার জেএসসি-জেডিসিতে সম্মিলিতভাবে ৮৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৮ হাজার ৯৫ জন।