Uncategorized

বাংলাদেশের বিজয়

ড. মিল্টন বিশ্বাস : অবশেষে জনসমর্থন ও দেশ-বিদেশের বেশ কিছু জরিপ সত্য হয়ে দেখা দিল ৩০ ডিসেম্বর (২০১৮) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। পত্রিকায় প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফল অনুসারে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৮৮ আসন পেয়ে বিশাল জয় পেয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এই বিজয়ে টানা তৃতীয়বারের (হ্যাটট্রিক) মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন জোটটি। এই জয়ের ফলে টানা তৃতীয়বার এবং সবমিলে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। গত ১০ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকা-, নির্বাচনি ইশতেহারে বর্ণিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং প্রচারণায় দলের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি মহাজোটের বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়ার নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটের আগেই একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়নি। ইসি ঘোষিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, মহাজোটের বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের ২৫৯ জন, ওয়ার্কার্স পার্টির ৩, জাসদ (ইনু) ২, তরিকত ফেডারেশন ১, বিকল্প ধারা ২ এবং লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির ২২ ও বাইসাইকেল প্রতীকে জাতীয় পার্টি-জেপির ১ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ধানের শীষ প্রতীকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি (গণফোরামের ২টি) এবং ৩টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ২৩৪টি আসন পায় তারা। তখন এরশাদের জাতীয় পার্টি ৩৪টি আসনে জয়লাভ করে। অন্যরা পায় ৩২টি আসন। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে গণ্য হচ্ছে। কারণ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সবকয়টি দল এবারের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগসহ ৫টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ২৭২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এবারের নির্বাচনে ১ হাজার ৮৬১ জন প্রার্থী অংশ নেন। ভোটার ছিল প্রায় ১০ কোটি সাড়ে ৪২ লাখ। এজন্যই ভোটের সুন্দর পরিবেশ দেখে বিস্মিত হয়েছেন পশ্চিমা কূটনীতিকরা। ঢাকাস্থ ১১টি পশ্চিমা দূতাবাসের প্রতিনিধিরা দেখেছেন অতীতের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার সহিংসতার মাত্রা কম হয়েছে। তাছাড়া তারা জানেন অতীতে বিএনপি-জামায়াত সহিংসতা করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিল, যার নিন্দা করেছিলেন তারা নিজেরাই। এছাড়া দেশের মধ্যে ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপির ব্যর্থতার কথা তো সবারই জানা। সব মিলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিকল্প নেই বলে আজ বিশ^ব্যাপী প্রচারিত ও স্বীকৃত।
২.
শেখ হাসিনা গত ১০ বছরে ক্ষমতাসীন থেকে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকা- সম্পন্ন করেছেন। যদিও পদ্মাসেতুসহ মেগা প্রকল্পের বেশকিছু কাজ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ২০১৭ সালে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার পরও বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে তুলে এনেছেন তিনি। এজন্য ১০ কোটির বেশি ভোটার বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতাকে ঘৃণা করে দেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নতির দিকে গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনার নৌকার প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। কারণ বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপি-জামায়াত জোট যে ৬০০ স্কুল পুড়িয়েছিল, সে কথা বাংলাদেশের মানুষ ভুলে যায়নি। মুছে যায়নি প্রিসাইডিং অফিসারসহ অজস্র নাগরিককে হত্যার স্মৃতি। রাস্তা কেটে মানুষের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। সেই সময় জনগণই সহিংসতা রুখে দিয়েছিল এবং আওয়ামী লীগকে ভোটও দিয়েছিল। অন্যদিকে এবার বিএনপির মনোনয়নে জামায়াতে ইসলামীর ২৫ জন ভোটে দাঁড়িয়েছিল। এই জামায়াত ১৯৭১-এ গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল। মেয়েদের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া থেকে ঘরবাড়ি দখলÑ সবই করেছিল। ওদের নমিনেশন দেয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মানুষ শঙ্কিত হয় ঐক্যফ্রন্টের রাজনীতি নিয়ে। জনগণের মনে ছিল বেগম জিয়া ওসব স্বাধীনতাবিরোধীদের দেশের ক্ষমতায় বসিয়েছিল, এমনকি মন্ত্রিত্ব দিয়েছিল। তারও আগে মেজর জিয়াই দালাল আইন বাতিল করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতিদের এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। মনে রাখা দরকার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর অপতৎপরতা বন্ধ করেছিলেন সাংবিধানিক ধারা প্রণয়নের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে। অবশ্য ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনি ইশতেহারে এমন কিছু অঙ্গীকার ছিল না যা শুনে ভোটাররা তাদের ভোট দিতে ছুটে আসবে। তাদের ঘোষণাসমূহ ছিল অবান্তর, বাস্তবায়ন অযোগ্য ও অপেশাদার ঘোষণা। বেকার সমস্যার সমাধানে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কোনো পরিকল্পনা তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল না।
পক্ষান্তরে একটু লক্ষ্য করলেই আমরা দেখতে পাবো বাংলাদেশে অর্থনীতির উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক চাঙাভাব সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছিল। ২০০৯ সাল থেকে মাথাপিছু আয় তিনগুণ বেড়ে যাওয়া ও গত এক দশকে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি হয়েছে। এ প্রবৃদ্ধির বেশিরভাগই এসেছে দেশের ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গার্মেন্টস ব্যবসা থেকে। যেখানে ৪৫ লাখ মানুষ কাজ করেন। এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ দ্বিগুণ বেড়েছে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের সুবিধা বাড়ায় গড় আয়ু ৭২ বছর হয়েছে, যা ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছিল বলেই। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখানকার ব্যবসাবাণিজ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে। এজন্য আওয়ামী লীগ বিজয়ী হওয়া মানে বাংলাদেশের জয় হওয়া। কারণ এই দলটি সবসময় ‘ডেল্টা প্ল্যানে’র মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের কাছে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। কেবল অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি নয় সেই ইশতেহার বাস্তবায়নও তাদের দ্বারাই সম্ভব হয়েছে এই বাংলাদেশে।
‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ, ‘অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠন’, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি এবং তা বাস্তবায়নের ফলাফলের সঙ্গে স্মরণ করা যেতে পারে, আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং তা বাস্তবায়ন হয়েছে দারিদ্র্য হ্রাসের ক্ষেত্রেও। আমাদের দারিদ্র্যসীমার নিচে জনসংখ্যার হার ২০০৫-০৬ সালের ৪৫% থেকে নামিয়ে ২২%-এ আনা হয়েছে। অতি দরিদ্রের হার ১১%-এ নামানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি বেড়ে গড়ে ৭.৭ করে থাকবে। ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সার্বিক বিনিয়োগে স্থিতাবস্থাও থাকবে বলেও মনে করা হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত খাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের আরও একবার নির্বাচনে জয়ী হওয়া আবশ্যক ছিল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে কৌশলগতভাবে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ তার নিকটতম প্রতিবেশী ভারত, চীন ও জাপানের সহায়তায় অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।
প্রকৃতপক্ষে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি আশানুরূপভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ৭ দশমিক ১ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা বিগত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিগত ৬ বছর ধরে বাংলাদেশ শতকরা ৬ ভাগের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আসছে। ভোট দেয়ার সময় দেশবাসী মনে করেছেন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় দেশ সঠিক পথে আছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে সন্তুষ্টি প্রকাশের সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার, সেটাও তাদের মনে ছিল। কারণ সহিংসতা দমানোর চেষ্টা এবং জঙ্গিবাদ নির্মূলের সদিচ্ছা তারা স্পষ্টভাবেই প্রমাণ পেয়েছেন। তাছাড়া সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও জনসন্তুষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। জনস্বাস্থ্য খাতে সরকারি সেবা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে নাগরিকদের। আবার গ্রামীণ পর্যায়ে সড়ক ও ব্রিজের উন্নয়নের প্রভাবও ছিল।
মহাজোটের বিজয় ‘বাংলাদেশের বিজয়’ হিসেবে গণ্য। কারণ বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে এদেশ দুর্নীতিতে পর পর একাধিকবার শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ আমলে সেই চিত্র পাল্টে গেছে। এসময় দেশের অভ্যন্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৩তম। বাংলাদেশ ১০০-এর মধ্যে গত বছর (২০১৮) স্কোর করেছে ২৮। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৫তম, স্কোর ছিল ২৬। লিঙ্গসমতা সূচকে এশিয়ায় বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব লিঙ্গসমতা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এশিয়ার শীর্ষ ১০ দেশে বাংলাদেশ ছাড়া ঠাঁই পেয়েছে মিয়ানমার। এর আগে ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব লিঙ্গবৈষম্য সূচকে ২৫ ধাপ উন্নতি করে ৭২তম অবস্থান থেকে ৪৭তম অবস্থানে চলে এসে বিশ্বকে অবাক করে দেয় বাংলাদেশ। লিঙ্গসমতা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর শূন্য দশমিক ৭১৯ (০.৭১৯), যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। আসলে বিশ্বে দ্রুততম সময়ে নারী-পুরুষের বৈষম্য হ্রাসে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে লিঙ্গসমতায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ তার লিঙ্গবৈষম্যে ৭২ ভাগ নিরসন করতে সক্ষম হয়েছে। অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ, কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং আয়ের সমসুযোগ লাভ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব প্রদানে সফলভাবে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।
৩.
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসীন হলেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। জনগণের কাছে আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতীক। এখন অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়বে। ভোটের ফলাফল থেকে বুঝতে পারা যাচ্ছে জনগণ আওয়ামী লীগের বিষয়ে খুবই উৎসাহী ছিলেন। তরুণদের সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি আছে, যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি ও কোটা সংস্কার ইত্যাদি। এই বিষয়গুলো তরুণদের কাছে তুলে ধরে তাদের আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে উৎসাহী করতে সক্ষম হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। বিএনপির আমলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল। নতুন প্রজন্মের মধ্যে সত্যকে জানার একটা আগ্রহ রয়েছে বলেই গত ১০ বছরে ইন্টারনেটে একাত্তরের অনেক তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার বিষয়টি এখন অনেক সহজ হয়েছে। এর ফলে আওয়ামী লীগের প্রতি যুব সম্প্রদায়ের মতামত এখন ইতিবাচক। তাদের সমর্থন ও সর্বস্তরের জনতার হাত ধরেই আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত হয়েছে বলে আমরা মনে করি।
কারণ সকলে এখন অবগত আছেন যে, আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জন বিপুল। এ দলটি জনগণের সংগঠন ও বাংলাদেশ ভূখ-ের বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠনের অন্যতম। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশপ্রেমিক, সংগ্রামী, প্রতিবাদী, নির্ভীক ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যে ধাবমান। উদার জাতীয়তাবাদের আদর্শের কারণে আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রণীত অর্থনীতিতে বিশ্বাসী সংগঠন। মহাজোট তথা আওয়ামী লীগের বিজয় মানেই বাংলাদেশের বিজয়।
লেখক: অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ এবং পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়