প্রতিবেদন

অবৈধ গ্যাসসংযোগে মাসে হাতছাড়া হচ্ছে শত কোটি টাকার রাজস্ব এবার আবাসিকে গ্যাসসংযোগ দেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার

মো. শহীদ উল্যাহ
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের একটি সমৃদ্ধ এলাকা পূবাইল। অন্যসব নাগরিক সুবিধার পাশাপাশি এই এলাকার সব বাড়িতে আবাসিক গ্যাস সংযোগ আছে। তবে অধিকাংশ বাড়ির গ্যাস সংযোগই বৈধ নয়। তিতাসের গ্যাসলাইন থেকে লাইন টেনে এসব অবৈধ সংযোগ নেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী-ঠিকাদার ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা মিলে প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে এককালীন ২০ হাজার টাকা করে নিয়ে এসব সংযোগ দিয়েছে, দিচ্ছে।
যেসব গ্রাহক এসব সংযোগ নিয়েছেন, তারা জানেন বিষয়টি পুরোপুরি অবৈধ। কিন্তু প্রয়োজন আইন মানে না। বৈধভাবে গ্যাস সংযোগ পাওয়ার জন্য অনেকে আবেদন করেছেন, অনেকের আবেদন যথাযথ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের পর ডিমান্ড নোট পেয়ে টাকা জমা দিয়ে রেখেছেন বছরের পর বছর ধরে। সংযোগ পেলে মাসিক বিল জমা দিয়েই জ্বালানি চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত সবাই। কিন্তু নতুন সংযোগ আর মেলে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনৈতিকতার আশ্রয় নিতে হয়। আর তা নিতে গিয়েই শুধু পূবাইল নয়, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রায় সর্বত্রই এখন অবৈধ গ্যাস সংযোগের ছড়াছড়ি।
সবাই জানেন, অনেক চেষ্টা-তদবির এমনকি টাকা খরচ করেও বৈধ উপায়ে এখন আর আবাসিকে গ্যাস সংযোগ পাওয়ার উপায় নেই। তাই সবাই টাকা দিয়ে অথবা কেউ-বা টাকা না দিয়ে যার যার সুবিধা ও প্রয়োজন অনুযায়ী অবৈধ উপায়ে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ নিচ্ছেন গত কয়েকবছর যাবৎ। এতে সারাদেশের অবৈধ আবাসিক গ্যাসগ্রাহকদের নিকট থেকে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
এদিকে বৈধদের চুলায় গ্যাসপ্রবাহ কিছুটা কমে গেলেও যে লাখ লাখ গ্রাহক অবৈধ সংযোগ নিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের চুলায় কিন্তু গ্যাস জ্বলে। অথচ প্রাকৃতিক গ্যাসস্বল্পতার দোহাই দিয়ে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন। ভুক্তভোগী অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বৈধ-অবৈধ প্রত্যেকের চুলায় যেহেতু গ্যাস জ্বলে, তাহলে অবৈধদের বৈধ করে নিতে সমস্যা কোথায়?
তাছাড়া অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে প্রতি মাসে সরকারের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া শত শত কোটি টাকার রাজস্ব গিয়ে ঢুকছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন পেট্রোবাংলা ও এর আওতাধীন গ্যাস কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রিত গ্যাস সিন্ডিকেটের পকেটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অবৈধ গ্যাস সংযোগ থেকে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা, গ্যাস কোম্পানির স্থানীয় ও শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের অনেকেই এ টাকার ভাগ পেয়ে থাকেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়ার জন্য স্ব স্ব এলাকার সিন্ডিকেট নেতাকে এককালীন টাকা তো দিতে হয়, সেই সঙ্গে নিয়মিত মাসিক বিলও তাদের হাতে তুলে দিতে হয়। এর ব্যত্যয় ঘটলে গ্যাসসংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের পাশাপাশি জেল-জরিমানার ভয় রয়েছে। তাই অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়া গ্রাহকরা হয়রানির ভয়ে সিন্ডিকেটের সাথে মৌখিক চুক্তি করেন এবং সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেন। যদিও সাধারণ গ্রাহকরা (অবৈধ গ্রাহক) জানেন, তাদের দেয়া বিল (টাকা) সরকারের ঘরে জমা হয় না, হয় সিন্ডিকেটের ঘরে। সিন্ডিকেট বিল আদায়ের জন্য নিজস্ব জনবল পর্যন্ত নিয়োগ দিয়েছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাসান্তে বিল নিয়ে আসছে। বিল দিতে অস্বীকার করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে জেলে ঢোকানোর ভয় দেখাচ্ছে। এভাবে অনেক কিছুই চলছে গ্রাহক-সিন্ডিকেট সমঝোতার মাধ্যমে। মাঝখান থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
পেট্রোবাংলার নিয়ন্ত্রণাধীন গ্যাস কোম্পানিগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লাখ লাখ অবৈধ সংযোগের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও তাদের এ নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য নেই। কারণ অবৈধ সংযোগের সুবিধার ভাগ যেহেতু ঊর্ধ্বতনদের পকেটেও যায়, সেহেতু তাদের গলাটা এ নিয়ে একটু নিচুই থাকে। অনেক কর্মকর্তা স্বীকারই করতে চান না, দেশে অবৈধ গ্যাস সংযোগ আছে। কালেভদ্রে দু-একটি ক্ষেত্রে স্বীকার করলেও ‘আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি বা অবৈধ গ্যাস সংযোগ বরদাস্ত করা হবে না’ জাতীয় বুলি আওড়িয়ে দায়িত্ব শেষ করেন।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ও যে বিষয়টি জানে না, এমন নয়। কিন্তু পেট্রোবাংলা ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর অসহযোগিতার কারণে তাদের পক্ষেও কিছু করা সম্ভব হয় না।
আবাসিকে বৈধ উপায়ে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার কারণে সারাদেশে অবৈধ সংযোগ যে বেড়ে গেছে, তা মন্ত্রণালয় এতদিনে অবশ্যই বুঝতে পেরেছে। এজন্য আবাসিক খাতে পাইপলাইনে গ্যাসের নতুন সংযোগ দেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। নতুন সংযোগের এ সম্প্রসারণ কতটুকু সম্ভব এবং কোন নীতি মেনে করা হবে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জানা গেছে, পর্যালোচনা শেষে শিগগিরই আবাসিকে গ্যাস সংযোগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে এলএনজি গ্যাসের ব্যবহার শুরু হয়েছে। দেশজ গ্যাসের সঙ্গে এলএনজি মিশিয়ে পাইপলাইনে দেয়া হচ্ছে। এর ফলে গ্যাসের সার্বিক দাম বেড়ে গেছে। ব্যয়বহুল এ জ্বালানির ব্যবহার ধাপে ধাপে বাড়তে থাকবে। অন্যদিকে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পখাতে গ্যাসের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। গ্যাস সংকট সামলাতে দীর্ঘদিন ধরে গৃহস্থালীতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু সব এলাকাতেই আবাসিক গ্যাস সংযোগের দাবি তীব্র। বিতরণ সংস্থাগুলোতে অনেক আবেদন জমা পড়ে রয়েছে এবং বেশকিছু গ্রাহক ডিমান্ড নোটের টাকা দেয়ার দীর্ঘদিন পরও গ্যাস সংযোগ পাচ্ছেন না। অনেক জনপ্রতিনিধিও আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দেয়ার প।ে এ প্রোপটে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, এলপিজি ও এলএনজির মূল্যহার নির্ধারণ এবং গৃহস্থালীতে নতুন সংযোগ দেয়ার বিষয়ে পর্যালোচনা করতে প্রধানমন্ত্রীর অফিস ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য মিজানুর রহমানকে কমিটির প্রধান নিযুক্ত করা হয়েছে। কমিটিতে জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির ১ জন করে কর্মকর্তা রয়েছেন।
জানা যায়, আবাসিক গ্যাস সংযোগ দেয়ার ব্যাপারে নীতিগতভাবে সবপই একমত। তবে দেশজ গ্যাসের সংকটের মধ্যে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। এলএনজি আমদানি ও রেশনিং করে বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহ করার পরও দৈনিক ঘাটতি প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। তবে আগামী মার্চ-এপ্রিলে সামিট গ্র“পের এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সামিটের ভাসমান টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।
জ্বালানি বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা স্বদেশ খবরকে বলেন, আবাসিকে এলপিজি ব্যবহারকে অনুপ্রাণিত করছে সরকার। তবে এর ওপর শতভাগ নির্ভরতা এখনই ঠিক হবে না। এলপিজির ব্যবহার বৃদ্ধিতে ভারসাম্য রা করাও জরুরি।
এ অবস্থায় আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তবে কোন উপায়ে বা নীতিতে সংযোগ দেয়া হবে তা নিয়ে সবাই একমত নন। কারো মতে, ইতোমধ্যে ডিমান্ড নোট ইস্যু হয়ে গেছে অর্থাৎ সংযোগের জন্য টাকা জমা দিয়ে অপোরত আবেদনকারীদের পাইপলাইনের গ্যাস দেয়া হোক। এছাড়া যেসব বহুতল ভবনে ইতোমধ্যে সংযোগ রয়েছে কিন্তু ভবনের সম্প্রসারিত অংশ বা বর্ধিত ফ্যাটগুলোতে গ্যাস নেই সেগুলোতেও সংযোগ দেয়া হোক। কেউ বলছেন, বর্তমান বিতরণ লাইনে সিস্টেম লস হচ্ছে ১০ থেকে ১২ শতাংশ। শহরে বিতরণ লাইন সম্প্রসারণ ঝুঁকিপূর্ণও। তাই বিদ্যমান বিতরণ লাইন ব্যবহার করে যতটুকু সম্ভব সংযোগ বাড়ানো যেতে পারে। দ্বিমত করা দুই পই অবশ্য গৃহস্থালীতে অবাধ গ্যাস সংযোগের পে নন।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী এক বৈঠকে গৃহস্থালী সংযোগের জন্য আবেদনকারীদের সংখ্যা এবং আবাসিক খাতে গ্যাসের কতটুকু চাহিদা রয়েছে তা সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দিতে নির্দেশনাও দেন তিনি।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪২০ কোটি ঘনফুট। এলএনজিসহ দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহের সমতা রয়েছে প্রায় ৩২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। অর্থাৎ গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে ১০০ কোটি ঘনফুট।
গত ১৬ অক্টোবর দেশে বিদ্যমান গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি বলেছে, জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রবেশের কারণে যতটুকু খরচ বেড়েছে তা শুল্ক-কর মওকুফ এবং ভর্তুকির মাধ্যমে পুষিয়ে নিতে পারবে সরকার। এতটুকু সমতা জ্বালানি খাতের রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এলএনজি আমদানির পরিমাণ বাড়লে গ্যাসের দামও বাড়াতে হবে।
কমিশনের সদস্য আবদুল আজিজ খান স্বদেশ খবরকে জানিয়েছেন, এলএনজি আমদানির কারণে বেড়ে যাওয়া খরচের জন্য চলতি অর্থবছরে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে এলএনজির ব্যবহার বাড়লে দাম বৃদ্ধি করতে হবে।
বিইআরসি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করার যে পরিকল্পনা করছে, তা নিয়ে মানুষ যতটা না চিন্তিত, তারচেয়ে বেশি আলোচনায় ব্যস্ত আবাসিকে নতুন গ্যাস সংযোগ নিয়ে। বেশিরভাগই বলছেন, সরকারের উচিত শিগগিরই আবাসিকে গ্যাস সংযোগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া। বলা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্যই আবাসিকে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন মূল্যায়নের সময় এসেছে, আবাসিকের সংযোগে আসলে কত পরিমাণ গ্যাস খরচ হয়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম এ বিষয়ে স্বদেশ খবরকে বলেন, একটি মাঝারি মানের শিল্প প্রতিষ্ঠানে যে পরিমাণ গ্যাস খরচ হয়, তা দিয়ে অন্তত ২ হাজার পরিবার তার দৈনিক জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পারে। সে হিসাবে শিল্পোৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখা তেমন কার্যকর উপায় নয়।
অনেকের মতে, সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পা দিয়েই আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ নিয়ে মানুষের অভাব-অভিযোগও বিস্তর। গ্যাস সিলিন্ডারকে এখন বলা হচ্ছে মরণফাঁদ। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। অত্যন্ত চড়ামূল্যে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে গিয়ে একের পর এক দুর্ঘটনায় মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। মানুষ না পারছে একে পরিহার করতে, না পারছে জ্বালানির অন্য উৎস সন্ধান করতে। বিশেষজ্ঞমহলের মতে, সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবসায়ীদের প্ররোচনায় সরকারের সংশ্লিষ্টরা যদি আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখেন, তা হবে দুঃখজনক। ব্যবসায়ীরা তাদের লাভ দেখতে গিয়ে জনগণকে সরকারের প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলছেন।
আবাসিকের গ্যাস সংযোগের সঙ্গে সরাসরি মানুষের সেন্টিমেন্ট জড়িত। আবার এর সঙ্গে অনেক মানুষের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও জড়িত। সে দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারের উচিত হবে, চতুর্থ মেয়াদের যাত্রায় মানুষ যে বর্তমান সরকারের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিয়েছে, তার মূল্যায়ন হিসেবে সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতির আলোকে আবাসিকে গ্যাস সংযোগের দ্বার উন্মোচন করে দেয়া। এতে সরকারের ব্যবসা না হলেও সারাদেশে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ হবে এবং বৈধ উপায়ে সাধারণ মানুষ কাক্সিক্ষত সেবা পেয়ে খুশি হবে; পাশাপাশি এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে সরকার।