কলাম

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি: দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ চাই

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেছেন, কেউ দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা অনেক বাড়ানো হয়েছে। এখন আর দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়ার সুযোগ নেই। দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাই সরকারের অগ্রাধিকার। চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন অফিস করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। যেটা প্রয়োজন সেটাতো আমরা মিটাচ্ছি। তাহলে দুর্নীতি কেন হবে? কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনমানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কেউ দুর্নীতি করলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ যে হারে বেতন আমরা বাড়িয়েছি, এ উদাহরণ মনে হয় পৃথিবীর কোনো দেশেই নেই। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ল্য বাস্তবায়নে তার সরকার সন্ত্রাস, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রয়োজন সুশাসন, তার জন্য দরকার দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা। জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সততা ও আন্তরিকতা নিয়ে জনসেবা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রাণকেন্দ্র জনপ্রশাসন। আপনাদের সেভাবে কাজ করতে হবে, আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন। আপনাদের দায়িত্ব কিন্তু অনেক বেশি। বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। কারণ আমরা অনেক এগিয়েছি। এই এগিয়ে যাওয়াটা, এই যাত্রাটা আমাদের কিন্তু অব্যাহত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে দুর্নীতি না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেতন-ভাতা দ্বিগুণ করার পরও অনেকের মধ্যে দুর্নীতি কম করার আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গত ১০ বছরে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। দুর্নীতির ভয়ে উন্নয়ন কর্মকা- যেমন বন্ধ করে দেয়া যায় না, আবার ব্যাপক দুর্নীতি হলে উন্নয়ন কর্মকা-ের পরিপূর্ণ বাস্তবায়নও হয় না। প্রধানমন্ত্রী গত ১০ বছরে বহুবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাতে কোনো বোধোদয় হয়েছে বলে মনে হয় না। তাই আমরা মনে করি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার সরকারের দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপে যাওয়া উচিত। হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পাশাপাশি মোটা দাগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কয়েকটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিলেই অন্যরা সাবধান হয়ে যাবে। বড় দুর্নীতি কমে এলে, ছোট দুর্নীতি আপনাআপনি কমে যাবে। আর তখনই প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হলেই সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কর্মকা- টেকসই হবে এবং দেশ কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।