প্রতিবেদন

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশ : বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্ট’ প্রতিবেদন

স্বদেশ খবর ডেস্ক
বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্ট শীর্ষক প্রতিবেদনে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
গত ৮ জানুয়ারি প্রকাশিত বিশ্বঅর্থনীতির পূর্বাভাস প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে, সরকারের ঋণ বাড়ছে। আমদানি-রফতানির ঘাটতি বেড়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৭ দশমিক ৮৬ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। মূলত অভ্যন্তরীণ ভোগ ব্যয় প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। এর পাশাপাশি রেমিট্যান্স এবং সরকারি ব্যয় প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তবে খাদ্য ও মূলধনী পণ্য আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্যঘাটতি বেড়েছে। এসব সত্ত্বেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্বব্যাংক বলছে, এই প্রবৃদ্ধিরও চালিকাশক্তি হবে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয়। তাছাড়া মেগা প্রকল্পসহ সরকারের অবকাঠামো খাতে বড় বিনিয়োগের প্রভাবও থাকবে।
৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সরকারের ল্যমাত্রার চেয়ে কম হলেও একে জোরালো বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক।
উল্লেখ্য, প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের এ প্রাক্কলন সরকারের ল্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। চলতি অর্থবছরে সরকারের ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের ল্যমাত্রা রয়েছে। তবে গত অর্থবছরের অর্জনের পরিপ্রেেিত বর্তমান অর্থমন্ত্রী ও সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিভিন্ন সময়ে এবার প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছাড়াবে বলে আভাস দিয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরেও অর্থনীতিতে তেজি ভাব থাকবে। বেসরকারি খাতে ভোগব্যয় এবং বড় প্রকল্পের বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সারাবিশ্বে মাত্র ৯টি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এসব দেশের মধ্যে দণি এশিয়ার ৪টি ও আফ্রিকার ৫টি দেশ আছে। এই ৯টি দেশের একটি বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হতে পারে। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য ৮টি দেশ হলো ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ, জিবুতি, আইভরি কোস্ট, ইথিওপিয়া, ঘানা ও রুয়ান্ডা।
এই দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতকেই উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
৮ জানুয়ারি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস-২০১৯ প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি বলেছে, ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে এমন ৯টি দেশের অন্যতম বাংলাদেশ।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে। সেখানে দণি এশিয়ার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি নিয়ে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, দণি এশিয়া হলো বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসরমাণ অর্থনৈতিক অঞ্চল। মূলত ব্যক্তিখাতের ভোগ চাহিদা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিই এই অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর হওয়ার অন্যতম কারণ।
দণি এশিয়ার দেশগুলোর সম্ভাবনার েেত্র রাজনৈতিক কারণও বাধা হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। তারা বলছে, ২০১৯ সালে এই অঞ্চলের কয়েকটি দেশ জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে, যা একধরনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে; যার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে অর্থনীতিতে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দণি এশিয়ায় চলতি অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে ভুটান। দেশটি চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। এরপরই ভারতে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। তৃতীয় স্থানে থাকবে বাংলাদেশ। এ ছাড়া পাকিস্তান ও নেপাল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।
অর্থবছরের হিসাবে এই ৫টি দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে ২০১৮ সালে মালদ্বীপ ৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ৩ দশমিক ৯ শতাংশ ও আফগানিস্তান ২ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।
উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে দণি এশিয়া থেকে তিনটি দেশকে বিবেচনা করে বিশ্বব্যাংক। দেশগুলো হলো ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। চলতি অর্থবছরে ভারত ও বাংলাদেশই ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে মনে করে সংস্থাটি। আগামী তিন অর্থবছরে ভারত ও শ্রীলঙ্কা ছাড়া দণি এশিয়ার সব দেশেরই জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। তবে সার্বিকভাবে আগামী তিন অর্থবছরে দণি এশিয়ার প্রবৃদ্ধি বাড়বে।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির গতি বৃদ্ধির কথা বলা হলেও বিশ্ব অর্থনীতির গতি কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, ২০১৮ সালে অর্থনীতি যে গতিতে এগিয়েছে, সেটি ধরে রাখা যায়নি। ২০১৮ সালে বিশ্বে ৩ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হলেও ২০১৯ সাল শেষে এটি ২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে যেতে পারে।
প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস্টালিনা জর্জিয়া উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের শুরুর দিকে অর্থনীতির সবগুলো সূচকেই চাঙাভাব ল্য করা গেছে। কিন্তু শেষের দিকে এসে এর গতি কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে দারিদ্র্য বিমোচনের ল্য পূরণ না-ও হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আর্থিক খাতের সমস্যাগুলো আরো গভীর হয়েছে। ফলে অতি দারিদ্র্য বিলোপ করার ল্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে। দেশগুলোর অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে সাধারণ মানুষের জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন বাড়াতে হবে। সেইসাথে সামাজিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হবে।