প্রতিবেদন

চলতি বছরই উৎপাদনে যাচ্ছে সর্ববৃহৎ ইকোনমিক জোন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর’

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের সর্ববৃহৎ ইকোনমিক জোন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর’ ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ করতে বঙ্গোপসাগরের মহিসোপানে জেগে ওঠা বিশাল এ চরে চলছে কর্মযজ্ঞ। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে এই শিল্পনগরের একটি কারখানা উৎপাদনে যাবে। ২০২০ সালের শেষ নাগাদ অন্তত অর্ধশত শিল্প-কারখানা উৎপাদনে যেতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
প্রথম ধাপে এ শিল্পনগরের ১৫ হাজার একর ভূমির উন্নয়নকাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপ-বেজা। এ শিল্পনগরের কাজ শেষ হলে ৩০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অর্থনৈতিক অঞ্চল পুরোদমে চালু হলে চট্টগ্রাম তথা পুরো বাংলাদেশের চেহারাই পাল্টে যাবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড়তাকিয়া বাজারে এক সময়ের পরিত্যক্ত ভূমিতে গড়ে উঠছে এই শিল্পনগর। বেজার তত্ত্বাবধানে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল, সীতাকু- অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ফেনী অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরেই গড়ে উঠবে দেশের বৃহৎ এই শিল্পনগর। বৃহৎ এ শিল্পনগরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
প্রাথমিকভাবে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে জেগে ওঠা মিরসরাইয়ের ১৫ হাজার একর জমিতে ভূমি উন্নয়নের কাজ চলছে বিরামহীনভাবে। ইতোমধ্যে অবকাঠামো নির্মাণের মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে দেশের সর্ববৃহৎ এ শিল্পনগর।
চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রথম শিল্প-কারখানা হিসেবে আরমান হক ডেনিম লিমিটেড উৎপাদনে যাবে। এরই মধ্যে কারখানাটির নির্মাণকাজের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে। আরমান হক ডেনিম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এন আর তৌফিক জানান, ডিসেম্বরে কারখানায় উৎপাদন কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারখানায় বছরে ১০.৮ মিলিয়ন মিটার ডেনিম কাপড় তৈরি হবে। ইউরোপীয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডেনিম কাপড়ের বাড়তি চাহিদা মেটাতে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এ কারখানাটি নির্মাণ করা হচ্ছে। বেজার উদ্যোগে সড়ক, গ্যাস, বিদ্যুতের সংস্থান এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘেঁষে বঙ্গোপসাগর উপকূলে সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা থাকার কারণে এটির গুরুত্ব বিনিয়োগকারীদের কাছে দিন দিনই বাড়ছে। এরই মধ্যে দেশি-বিদেশি অনেক কোম্পানির ৮৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে বেজা।
ইকোনমিক জোনটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ এত বেশি যে, অঞ্চলটিতে এরই মধ্যে অনুমোদন পাওয়া বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ এখানে বিনিয়োগে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিটি গ্রুপের মতো বড় বড় অনেক দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শিল্প-কারখানা উৎপাদনে গেলে মিরসরাই বাংলাদেশের বিনিয়োগ রাজধানী হিসেবে পরিচিত হবে।
সিটি ইকোনমিক জোন লিমিটেড সিটি গ্র“পের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় শীতল্যা নদীর তীরে ৭৭ দশমিক ৯৬৫৫ একর জমির ওপর এটি অবস্থিত। সিটি ইকোনমিক জোন দেশের সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও জিডিপি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে বেজা মনে করছে। এরই মধ্যে মিরসরাই ইকোনমিক জোনে সিটি ইকোনমিক জোন যে প্লট পেয়েছে তাতে মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া এখানে কারখানা স্থাপনের জন্য ৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে।
সিটি গ্র“প বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। এমনকি পর্যটন খাতেও প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে। সিটি গ্র“প তার সুনাম অুণœ রেখে ইকোনমিক জোন সফলভাবে বাস্তবায়নে সম হবে এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করে বেজা।
বেজা জানিয়েছে, সিটি ইকোনমিক জোনে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পানি শোধনাগার প্ল্যান্ট, বর্জ্য পরিশোধনাগার প্ল্যান্ট, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ সব ধরনের পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা থাকবে। প্রস্তাবিত শিল্প খাতগুলোর মধ্যে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ও রফতানিমুখী শিল্প রয়েছে। বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রথম বছর থেকে সিটি ইকোনমিক জোনে দ-অদ, নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ৩ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।
অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মতবিনিময়কালে বেজা চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী স্বদেশ খবরকে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে মিরসরাই ইকোনমিক জোন ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশের সব শিল্প গ্রুপের কারখানার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলোর কারখানাও গড়ে উঠবে এ ইকোনমিক জোনে। বেজার তত্ত্বাবধানে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল, সীতাকু- অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ফেনী অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে দেশের বৃহৎ শিল্পনগর হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর’-এর কাজ শতভাগ শেষ হলে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রমই বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ডাবল ডিজিটে নিয়ে যাবে।