প্রতিবেদন

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নদী ও খাল দখলমুক্ত করতে কাজ করছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকার খাল-জলাভূমির অধিকাংশ এখন দখল হয়ে গেছে। তাই সামান্য বৃষ্টিতে ডুবে যাচ্ছে রাস্তাঘাট। কিছু কিছু এলাকায় দিনের পর দিন জমে থাকছে পানি।
রাজধানী ঢাকায় বর্ষা মৌসুমে গত কয়েক বছরের নিত্যদিনের চিত্র এটি। তবে এবারের বর্ষা মৌসুমে যাতে রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ পোহাতে না হয় সেজন্য তৎপর হয়েছে সরকার। বর্ষা মৌসুমের আগেই ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের লক্ষ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তা চায়। সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট এই দায়িত্ব পালন করছে। এতে খুশি সাধারণ মানুষ। তাদের ধারণা, সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততায় এবার ঢাকা শহরের হারিয়ে যাওয়া খাল ও জলাভূমি উদ্ধার করা সম্ভব হবে এবং খাল ও নদীনালা অবৈধ দখল থেকে মুক্ত হবে।
রাজধানীতে জলাবদ্ধতার নেপথ্যে এর খালগুলোর অবৈধভাবে দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, খাল, জলাধার ও নিম্নাঞ্চল দখল ও ভরাটের কারণে ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন নালাগুলোয় দখলদারিত্ব চলছে। ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের জন্য চারপাশের নদী ও খালগুলোকে দখলমুক্ত করে নাব্য ও পানি ধারণমতা বাড়াতে হবে।
রাজধানীর বেশিরভাগ খালের অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে। খালের ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে ওঠার কারণে দেখে বোঝার উপায় নেই যে এখানে একসময় খাল ছিল। আবার যেগুলোর অস্তিত্ব আছে, সেগুলোর নদীর সাথে সংযোগ নেই। ময়লা-আবর্জনা জমে বন্ধ হয়ে গেছে পানির প্রবাহ। ফলে স্বাভাবিক বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলো। একটু ঝুম বৃষ্টি হলেই নগরজীবনে নামে সীমাহীন দুর্ভোগ।
জানা যায়, ঢাকা শহরে একসময় ৬৫টি খাল ছিল। সময়ের আবর্তে সরকার, প্রভাবশালী মহল এবং সাধারণ মানুষের অযাচিত ব্যবহারে বেশকিছু খাল অস্তিত্ব হারিয়েছে।
অবিভক্ত সিটি করপোরেশনের ২০০৮ সালের এক জরিপে দেখা যায়, রাজধানীতে একসময় ৪৪টি খাল ছিল, যার মধ্যে ৩৫টি খাল শুকিয়ে গেছে। অনেক খাল ভরাট করে সড়ক ও ড্রেনেজ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে।
ঢাকা ওয়াসা এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের যৌথ জরিপের তথ্যমতে, খালের সংখ্যা ৪৩। বর্তমানে ২৬টি খাল আছে শুধু তালিকায়, বাস্তবে নেই। ১৩টি খালের প্রস্থ ১০ ফুটের বেশি নয়।
এখন দখল হওয়া এসব খাল উদ্ধারে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আশা করা হচ্ছে অবৈধ দখল ও ভরাট হওয়া এসব খাল মুক্ত করে নাব্য ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে সেনাবাহিনী।
জানা যায়, ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের সাথে নতুন যুক্ত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ৯৩ কিলোমিটার খালের মধ্যে সেনাবাহিনী ৭৪ কিলোমিটার খাল অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার করেছে। ডিএসসিসি’র আওতাধীন এলাকার কমবেশি ৯৩ কিলোমিটার খাল রয়েছে। এর ৩৪ কিলোমিটারের কাজ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন করছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন খাল দখলদাররা যে মতাদর্শের বা যে দলেরই হোক না কেন, কাউকে একবিন্দুও ছাড় দেয়া হবে না।
জেলা প্রশাসনের হিসাবে ঢাকায় খালের সংখ্যা ৪৩টি। এর মধ্যে অন্তত ২৬টি এখনো সচল করা সম্ভব বলে মনে করছে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)। তারা এই ২৬ খালকে ঢাকার চার নদীর সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে। তবে এর জন্য খালগুলোকে দ্রুত দখলমুক্ত করতে হবে।
ঢাকার চার পাশের নদী থেকে ভেতরের খালগুলো বিচ্ছিন্ন হওয়ার আরেকটি কারণ ’৯০-এর দশকে তৈরি করা ৩৪ কিলোমিটার শহররা বাঁধ। বন্যার পানি যাতে শহরে ঢুকতে না পারে সেজন্য এই বাঁধ দেয়া হয়। খালের পানি নদীতে নেয়ার জন্য নির্মাণ করা হয় পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো বা রেগুলেটর। রেগুলেটরগুলো অকার্যকর হওয়ায় খালের পানি আর নদীতে যাওয়ার সুযোগ থাকেনি।
অবৈধ দখলের কারণে নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ২৬ খালের মধ্যে রাজধানীর পশ্চিমাংশে আছে কাটাসুর, হাজারীবাগ, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, আবদুল্লাহপুর, রামচন্দ্রপুর, বাউনিয়া, দ্বিগুণ, দিয়াবাড়ি, ধোলাই, রায়েরবাজার, বাইশটেকি ও শাহজাহানপুর খাল। পূর্বাংশে আছে জিরানি, মান্ডা, মেরাদিয়া-গজারিয়া, কসাইবাড়ি, শাহজাহানপুর, শাহজাদপুর, সুতিভোলা, ডুমনি, বোয়ালিয়া, রামপুরা, গোবিন্দপুর, সেগুনবাগিচা, খিলগাঁও-বাসাবো খাল।
সোয়া পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ কাটাসুর ও রামচন্দ্রপুর খালটি কল্যাণপুর খাল হয়ে তুরাগ নদে পড়েছিল। কিন্তু খাল ও নদের সংযোগস্থলে মোহাম্মদপুর হাউজিং ও মোহাম্মদিয়া হাউজিং নামে দুটি আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে। তারা খালের যে অংশ দখল করেছে, তা মুক্ত করে তুরাগের সঙ্গে খালটিকে যুক্ত করার দাবি উঠেছে।
কল্যাণপুর খালও তুরাগ নদের সঙ্গে যুক্ত। এই খালের ক, খ, ঙ, ঞ ও চ শাখা মিলিয়ে মোট ১৫ দশমিক ১ কিলোমিটার এলাকা খনন করতে হবে। কিন্তু গাবতলী, দারুসসালাম, কল্যাণপুর, শ্যামলী, আদাবর, পীরেরবাগ, আগারগাঁও তালতলা, শেওড়াপাড়ার একাংশ, মাজার রোড, আনসার ক্যাম্প, লালকুঠি, টোলারবাগ, পাইকপাড়া, আহমেদাবাদ, শাহআলীবাগ, বড়বাগ ও মণিপুর এলাকায় খালটির বিভিন্ন অংশে বাড়িঘরসহ নানা স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি আছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে।
দিগুণ খাল প্রবাহিত হয়েছে মিরপুর-১, ২, ৬, ১১, ১২ নম্বর আবাসিক এলাকা, রূপনগর ও জাতীয় চিড়িয়াখানা এলাকার মধ্য দিয়ে। এটিও তুরাগে গিয়ে পড়েছে। খালটির বেশিরভাগ অংশ ময়লা ফেলে ও ছাপড়াঘর তুলে দখল করা হয়েছে। ওই খালের জমিতে বেশ কয়েকটি আবাসিক এলাকাও গড়ে উঠেছে।
মিরপুরের বাউনিয়া খালের সঙ্গে মিরপুরের সাংবাদিক কলোনি খাল, বাইশটেকি খাল ও মিরপুর হাউজিং এলাকার খালগুলো সংযুক্ত। সব মিলে এটি ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ লম্বা। দখলের কারণে বর্তমানে এই খালগুলো পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন। এগুলোকে যুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিনের। মিরপুরের পল্লবী, কালশী, মিরপুর ১০ নম্বর, ১৩ ও ১৪ নম্বর এবং মিরপুর ডিওএইচএস আবাসিক এলাকার সব নিষ্কাশন নালা খালের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় নালার পানি খালে পড়লেও তা তুরাগে যাচ্ছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেও মিরপুরের ওই এলাকাগুলোতে পানি জমে যায়।
উত্তরা ও বিমানবন্দর এলাকার সব নিষ্কাশন নালা যুক্ত হয়েছে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ আবদুল্লাহপুর খালের সঙ্গে। খালটি উত্তরার কাছে টঙ্গী খালের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু এখন তা বিচ্ছিন্ন। ফলে ১০ থেকে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে উত্তরা আবাসিক এলাকায় পানি জমে যাচ্ছে। পানি সরতে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগছে। তাই আবদুল্লাহপুর খালের সঙ্গে টঙ্গী খালের সংযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো।
ঢাকার একসময়কার অভিজাত আবাসিক এলাকা ধানমন্ডি এলাকার সব নিষ্কাশন নালার পানি ধানমন্ডি লেক হয়ে হাতিরঝিলে গিয়ে পড়ত। কিন্তু পান্থপথ সড়ক নির্মাণের সময় ধানমন্ডি লেক ও হাতিরঝিল বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। হাতিরঝিলের সঙ্গে সংযোগ ছিল বালু নদীর। সেই সংযোগও প্রায় বিচ্ছিন্ন। এই বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটানোও জরুরি।
এসব খালের দুই পাশে ২ থেকে ৩ মিটার আয়তনের সবুজ বেষ্টনী ও হাঁটার পথ করে দেয়ার সুপারিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বারবারই করা হয়েছে। আর বেশিরভাগ খাল দখলমুক্ত করে ১৫ থেকে ২০ ফুট প্রস্থে নিয়ে আসার জন্যও বলা হয়েছে। তবে বাস্তব অবস্থার কারণে কয়েকটি খাল ৮ থেকে ১০ ফুটের বেশি চওড়া করা সম্ভব নয় বলেও মনে করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
এসব গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সুপারিশে ঢাকা শহরের পানিনিষ্কাশন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য হাতিরঝিলের মতো বড় প্রকল্প নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এমনকি বড় ভবনের মধ্যে কংক্রিটবিহীন খোলা মাটির এলাকা রাখা বাধ্যতামূলক করার জন্যও বলা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা দূর হবে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গত মার্চে ঢাকা মহানগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঙ্গে অনেকাংশে নির্ভরশীল ৫টি খাল খনন ও পুনর্খননের উদ্যোগ নেয় ঢাকা ওয়াসা। খালগুলো হচ্ছে হাজারীবাগ খাল, বাইশটেকী ও সাংবাদিক কলোনি খাল, কুর্মিটোলা খাল, বেগুনবাড়ি খাল ও মা-া খাল। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সোয়া ১ কিলোমিটার বাইশটেকী খালটি ৪০ মিটার প্রশস্ত করা হবে। সেই সঙ্গে সাংবাদিক কলোনির খালটি ৩০ মিটার প্রশস্ত করা হবে। এছাড়া অন্য খালগুলোরও জমি অধিগ্রহণ করে খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে প্রশস্ত করে দুই ধার বাঁধাই করা হবে।
ঢাকা মহানগরীর ড্রেনেজব্যবস্থা প্রায় ১৫১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ৪৪টি খাল, ১০ কিলোমিটার বক্সকালভার্ট ও বিভিন্ন সংস্থার কয়েক হাজার কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কিছু খাল বর্তমানে নগরবাসীর ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যেখানে ঢাকা ওয়াসার আইনগত কোনো কর্তৃত্ব নেই। এতে করে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকরা যেকোনো সময় তাদের জমির শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের ইচ্ছামাফিক ব্যবহার করতে পারেন। সেেেত্র নগরীর সুষ্ঠু ড্রেনেজব্যবস্থা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এ জন্য ওই সব খালের ব্যক্তিগত জমি (যেখানে আছে) অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
জানা যায়, মহানগরীভুক্ত কুর্মিটোলা এলাকা, হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকার গৃহস্থালি ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঢাকা ওয়াসাকে অনুরোধ জানায়। এছাড়া হাজারীবাগ খাল, বাইশটেকি খাল, মা-া খাল ও বেগুনবাড়ি খালগুলোর জন্য জমি অধিগ্রহণ করে এ খালগুলোর উন্নয়ন করা জরুরি হয়ে পড়ে। বর্জ্য পানি ও বৃষ্টির পানি যাতে হাজারীবাগ খাল, বাইশটেকী খাল, মা-া খাল ও বেগুনবাড়ী খাল দিয়ে সহজে নেমে যেতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য বাইশটেকী খালের ভাটিতে অবস্থিত সাংবাদিক কলোনি খাল এবং মা-া ও বেগুনবাড়ী খাল প্রশস্ত করার জন্য এবং হাজারীবাগ খালের উজান ও ভাটিতে কুর্মিটোলা নামে একটি নতুন খাল খননের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন। এসব খালের উন্নয়নের মাধ্যমে এ এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও পরিবেশের উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে ৪ দশমিক ৩৫৫ একর হাজারীবাগ খাল, ৬ দশমিক ৩৮৫ একর বাইশটেকী ও সাংবাদিক কলোনি খাল, ৪ দশমিক ৬১৩ একর কুর্মিটোলা খাল, ১ দশমিক ৯০৫ একর বেগুনবাড়ী খাল, ১৩ দশমিক ৩০৪ একর মা-া খাল খনন-পুনর্খনন করা হবে। এছাড়া ০ দশমিক ১৫ কিলোমিটার রোড ক্রসিং কালভার্ট, ১৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার খাল খনন ও পাড় উন্নয়ন এবং ২ হাজার ২০০টি ডিমারকেশন পিলার স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের তত্ত্বাবধানে দখল হয়ে যাওয়া খাল ও নদীর তীর উদ্ধারে যে কাজ শুরু করেছে, তাতে নগরবাসী আশাবাদী যে, এবার হয়ত রাজধানীর চারপাশ ঘিরে থাকা নদী, রাজধানীর অভ্যন্তরে জালের মতো বিস্তৃত খাল-বিল-ঝিল উদ্ধার হবে। রাজধানীর হাতিরঝিল প্রকল্পটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। রাজধানীবাসী মনে করে হাতিরঝিল প্রকল্পটি যেমন পানি নিষ্কাশনের একটি উত্তম মাধ্যম হয়ে উঠেছে, তেমনি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের প্রকল্প গ্রহণ করায় ঢাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসন হবে।