প্রতিবেদন

নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ : দুর্নীতি নির্মূলে সচেষ্ট থাকুন ॥ আন্তরিকতা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ৭ জানুয়ারি (২০১৯ সাল) নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়। আর মন্ত্রিসভা গঠনের দুই সপ্তাহ পর এর প্রথম বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার এবং নির্বাচনি এজেন্ডা বাস্তবায়নের পাশাপাশি দুর্নীতি নির্মূলে সচেষ্ট থাকতে শুরু থেকে কাজ করার নির্দেশ দেন।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রতি জনগণের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণ করা আমাদের একমাত্র ল্য। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর যে আকাক্সক্ষা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল, সেই আকাক্সক্ষা পূরণ করার লক্ষ্যে একটি ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে আপনারা নিশ্চয়ই পড়েছেন, আমার দাদা তাঁকে যে কথাটা বলেছিলেন; যে কাজই করো না কেন, সিনসিয়ারিটি অব পারপাস অ্যান্ড অনেস্টি অব পারপাস। আমি মনে করি, এই দুটি কথা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কথাটি মনে রেখে যে কাজই করবেন, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করবেন। প্রতিটি কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করতে হবে Ñ এ কথাটি মনে রাখতে হবে। জনগণের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব, কর্তব্য রয়েছে, সেটা পালন করতেই আমরা এখানে এসেছি। একই সঙ্গে নির্বাচনি অঙ্গীকারের কথা মাথায় রেখে কাজ করে যেতে হবে। যার যে মন্ত্রণালয় আছে, সেখানে যেসব নির্বাচনি এজেন্ডা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে শুরু থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। সততার শক্তি অপরিসীম, সেটা আমরা বারবার প্রমাণ করতে সম হয়েছি। আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে এবং যে অগ্রযাত্রা আমরা শুরু করেছি সেটা আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
বৈঠকের পর অনির্ধারিত এক আলোচনায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আমি আগের মন্ত্রিসভার অনেক বড় পরিবর্তন এনে নতুন মন্ত্রিসভা করেছি। এর আগে কোনো মন্ত্রিসভায় এত বড় পরিবর্তন আসেনি, কেউ এত বড় পরিবর্তন করেনি। আমি নতুনদের মন্ত্রিসভায় এনেছি। আপনাদের ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে মন্ত্রিসভায় এনেছি, আশা করি, আপনারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে প্রমাণ করবেন যে, আপনাদের ওপর আমার আস্থা ও বিশ্বাস সঠিক ছিল। যদি সেটা না করতে পারেন তবে আমার উদ্দেশ্য সফল হবে না। অনেকে নানা কথা বলবে, শুনতে হবে, অনভিজ্ঞদের নিয়ে আসার কারণে এটা হয়েছে। এ কারণে আপনারা সততা রেখে চলবেন। বিত্ত, বৈভব অনেক করতে পারবেন। কিন্তু সেটা করতে গেলে পচে যাবেন।
একাদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি যে ভাষণ দেবেন, তার খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
জানা যায়, ৩০ জানুয়ারি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির ভাষণে যেসব বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে তার মধ্যে থাকছে Ñ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও সামষ্টিক অর্থনীতির চিত্র; সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের গৃহীত কার্যক্রম; রূপকল্প-২০২১ এবং রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে বিভিন্ন খাতে গৃহীত কর্মসূচির রূপরেখা; দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গৃহীত পদপে ও সাফল্য; কৃষির উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন েেত্র সরকারের সাফল্য; দেশি-বিদেশি কর্মসংস্থান; সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী; স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ও গ্রামীণ অর্থনীতি; শিা ও স্বাস্থ্য সেবা; যোগাযোগ ব্যবস্থা; ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি প্রযুক্তির উন্নয়নকল্পে বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন; তথ্য ও গণমাধ্যমের উন্নয়ন; আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও প্রতিরা; আইন প্রণয়ন ও বিচারিক কার্যক্রম; জনপ্রশাসনের উন্নয়নে গৃহীত কার্যক্রম; বৈদেশিক সম্পর্কের েেত্র অর্জিত সাফল্য; মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশ ও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে গৃহীত কার্যক্রম; প্রশাসনিক নীতি, কৌশল, উন্নয়ন দর্শন এবং অগ্রযাত্রার দিকনির্দেশনা।
রাষ্ট্রপতির মূল ভাষণে ৭৫ হাজার শব্দ থাকছে। সংপ্তি ভাষণে প্রায় ৬ হাজার শব্দ রাখা হয়েছে। বড় ভাষণটি টেবিলে দেয়া থাকবে। মূল ভাষণের একটি ইংরেজি সংস্করণও তৈরি করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা তুলে দিলেও আইনানুযায়ী প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরা আইন-২০১৩ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরা বিধিমালা-২০১৫ এর আলোকে প্রতিবন্ধী বিষয়ক জাতীয় কর্ম-পরিকল্পনার খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
আইন বা বিধিমালার আলোকে সেই বিষয়ে গাইডলাইন দেয়া হয়েছে। প্রবেশগম্যতা বা অ্যাক্সেসিবিলিটি অর্থাৎ প্রতিবন্ধীরা চলাফেরার েেত্র কোন জায়গায় কিভাবে যাবেন সেটা নিয়ে অনেকগুলো বিষয় রাখা আছে। প্রবেশগম্যতা যেমন ভৌত অবকাঠামো, পরিবহন ও যোগাযোগসহ জনসাধারণের প্রাপ্য সব সুবিধা ও সেবাসমূহে অন্যদের মতো সমসুযোগ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্যবহার উপযোগী নিশ্চিত করা। যেমন বাসে আজকাল প্রতিবন্ধীরা উঠতে গেলে একজন টেনে তুলতে হবে বা ল্যাডার লাগাতে হবে। অর্থাৎ গণপরিবহন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশনা আছে, এটা করতে হবে।
তাছাড়া ভবনগুলোতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড-২০০৬ এর বিধানগুলো কার্যকর করা। যেমন সব গণস্থাপনা ভবন, শিা ও প্রশিণ প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, আদালত, পুলিশ স্টেশন, আইনি সহায়তা কেন্দ্র, রেল স্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, বিমানবন্দর, নৌ ও স্থলবন্দর, দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র, সাইকোন শেল্টার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানস্থল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, উড়াল সেতু, পরিসেবার স্থান, বিনোদন ও খেলাধুলার স্থানসহ সব জায়গায় এটা (বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন) করা। বিমানে আই-চেয়ার, কেবিন চেয়ারের ব্যবস্থা রাখা, দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র ও সাইকোন শেল্টার, শিশুর প্রবেশগম্য টয়লেট রাখার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। এগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।