প্রতিবেদন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অনিশ্চয়তা: কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন

মো. শহীদ উল্যাহ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অনিশ্চয়তা দিনদিনই বাড়ছে। গত নভেম্বর থেকে তাদের প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মিয়ানমারের অসহযোগিতায় তা হয়ে ওঠেনি। ফলে রোহিঙ্গাদের নিয়ে স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ।
একটি নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ যে মানবিকতা দেখিয়েছিল, তার কোনো মূল্য মিয়ানমার তো দেয়ইনি, উপরন্তু প্রত্যাবাসন নিয়ে পুরোপুরি বিরোধিতায় নেমেছে দেশটি। মিয়ানমারের এমন আচরণে রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত উদ্বেগে কাটছে বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য মিয়ানমারকে চাপ দিতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাস্তবতা হচ্ছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার দিনণ এখন নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। এমনকি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্র“পের পরবর্তী বৈঠক কবে হবে, তার কোনো তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি।
এমতাবস্থায় রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এটি অগ্রাধিকারমূলক একটি বিষয়। এ সমস্যা সহজেই সমাধান হবে না। মিয়ানমার বাংলাদেশের বন্ধু দেশ। তারা যদি বন্ধুত্বের প্রতিফলন দেখায়, তবে এ সমস্যা সহজেই মিটে যাবে। এর জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চাই।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেই বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু জিইয়ে থাকলে ভারত-চীনসহ সবার স্বার্থই ব্যাহত হবে। কোনো দেশের স্বার্থই যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারত ও চীন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। আমি মনে করি, এই দুটি দেশ ভূমিকা রাখলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আর কোনো বাধা থাকবে না।
গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়েও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অবস্থান নিয়ে আমি একটি স্টাডি করতে বলেছি। এ গবেষণা থেকে রোহিঙ্গাদের কারণে আমাদের দেশের সামাজিক, আর্থিক ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় কী কী প্রভাব পড়েছে তা জানার চেষ্টা করা হবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম স্বদেশ খবরকে বলেন, প্রত্যাবাসন কবে থেকে শুরু হবে সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমরা প্রত্যাবাসনের জন্য যেসব কাজ সেগুলো চালিয়ে যাচ্ছি। রোহিঙ্গাদের কাউন্সেলিং করছি, যাতে ফিরে যেতে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়।
ভারত থেকে রোহিঙ্গা আসাকে একটি বাড়তি চাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাখাইনে এখন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির লড়াই চলছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে সেখানে নিরাপদ পরিবেশ নেই। এ অবস্থায় কেউ এখন ফিরে যেতে চাইবে না। বিষয়গুলো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।
রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান করবে ধরে নিয়েই নোয়াখালীর ভাসানচরে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে দ্বীপটি এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে জেটি, সাইকোন শেল্টার, ঘরসহ প্রয়োজনীয় স্থাপনা। নোয়াখালীর হাতিয়ার কাছাকাছি ভাসানচরে প্রায় ১০ হাজার একর জায়গায় রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়ণ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ১ লাখ রোহিঙ্গাকে সেখানে রাখা হবে। কিন্তু জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিরোধিতা করছে।
জাতিসংঘের অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা, রিলিফ ওয়েব এবং সংশ্লিষ্ট দেশের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে ২৮ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। অর্ধেকের মতো রোহিঙ্গা অর্থাৎ ৪৬ দশমিক ২৮ শতাংশের অবস্থান বাংলাদেশে। নিজ ভূমি মিয়ানমারে বর্তমানে অবস্থান করছে মাত্র ৪ লাখ। এছাড়া সৌদি আরবে ৫ লাখ, পাকিস্তানে সাড়ে ৩ লাখ, মালয়েশিয়ায় দেড় লাখ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫০ হাজার ও ভারতে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে ১২ হাজার, থাইল্যান্ডে ৫ হাজার, ইন্দোনেশিয়ায় ১ হাজার, জাপানে ৩০০, নেপালে ২০০, কানাডায় ২০০, আয়ারল্যান্ডে ১০৪ ও শ্রীলংকায় ৩৬ রোহিঙ্গা রয়েছে।
মূলত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন লাখ লাখ রোহিঙ্গা।
গত বছরের ১৫ নভেম্বর থেকে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তার কথা বলে রোহিঙ্গারা ফিরতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে যায়। এ প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে তাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের বিরূপ প্রভাব এরই মধ্যে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক েেত্র পড়েছে। তাছাড়া ক্যাম্পগুলোতেও রোহিঙ্গারা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোহিঙ্গাদের জন্য প্রথম বছর বাংলাদেশের নিজস্ব তহবিল থেকে উল্লেখযোগ্য খরচ হয়নি। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনসহ (ইউএনএইচসিআর) বিভিন্ন দাতা সংস্থা, বিভিন্ন দেশ ও সংগঠনের প থেকে যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তবে চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখে।
জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে সরকারি অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে ৫০০ কোটি টাকা। তবে রাস্তাঘাট নির্মাণ থেকে শুরু করে টয়লেট, টিউবওয়েল, ল্যাট্রিন, গোসলখানা নির্মাণ, বিদ্যুতের লাইন টানা ও চিকিৎসাখাতে এরই মধ্যে প্রায় ২০০ কোটির বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে। চার হাজার একর বনভূমি উজাড় হওয়ায় ভয়াবহ তি হয়েছে পরিবেশের। রোহিঙ্গা শিবিরে সামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে তিন হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। তাদের বেতনভাতা থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ সরকারের তহবিল থেকেই বহন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে ১৩ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ৮ লাখের বেশি এসেছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর। এ ছাড়া গত দেড় মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ১,৩০০-র মতো রোহিঙ্গা। আর গত মে মাস থেকে ধরলে এ সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। অনানুষ্ঠানিক হিসাবে এটি আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার অন্তর্বর্তীকালীন ট্রানজিট পয়েন্টের আশ্রয়শিবিরে জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তত্ত্বাবধানে তাদের রাখা হয়েছে।
সংস্থাটি চিঠি দিয়ে বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে। এ ছাড়া গত ৭ জানুয়ারি সৌদি আরব থেকে ১৩ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী রোহিঙ্গাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরও রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় আছে বলে জানা গেছে। সৌদি আরবের কারাগারে ৫-৬ বছর ধরে আটক থাকা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্যে জেদ্দার সুমাইসি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। তাদের ফেরত না পাঠানোর জন্য অনশন করছেন রোহিঙ্গারা। এ অবস্থায় বাংলাদেশ হয়ে উঠছে রোহিঙ্গাদের প্রধান আশ্রয়স্থল।
সম্প্রতি জানা গেছে, রোহিঙ্গারা গত ৮ মাসে ১৫টি হত্যাকা-সহ ১৬৩টি অপরাধে জড়িয়েছে বলে হিসাব দিয়েছে পুলিশ। খুনের পাশাপাশি অপহরণ ও চোরাচালানের মতো অপরাধও করছে তারা। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে ১২টি অস্ত্র মামলা, ৫৮টি মাদকসংক্রান্ত, দুটি ধর্ষণ, ৪০টি মামলা রয়েছে ফরেন অ্যাক্টে, চোরাচালানে পাঁচটি, চুরিসংক্রান্ত একটি, অপহরণ তিনটি এবং অন্যান্য ২২টি। এসব ঘটনায় করা মামলায় আসামি করা হয়েছে ৩৩৬ রোহিঙ্গাকে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আবসার ভারত থেকে রোহিঙ্গা আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুনেছি ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জোর করে মিয়ানমারে পাঠানো হচ্ছে। সেই ভয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক।
কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম বলেন, আমরা শুনেছি প্রায় ৩০০টি পরিবারের ১,৩০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে এসেছে। এদের বেশিরভাগকেই উখিয়া উপজেলার বালুখালী ইউএনএইচসিআরের ট্রানজিট ক্যাম্পে আপাতত রাখা হয়েছে। কিছু কিছু হয়ত এখনও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ক্যাম্পে আছে। সবাইকে ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এখন তাদের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে। জায়গা পেলে অন্যত্র সরানো হবে।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে একটি রোহিঙ্গা পরিবারকে ভারত থেকে জোর করে মিয়ানমারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। আর এ থেকে স্বদেশে ফেরত পাঠানোর ভয়ে রোহিঙ্গারা এখন বাংলাদেশে চলে আসা শুরু করেছেন। আমরা এ রকম শুনেছি। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গার চাপে আমাদের হিমশিম খাওয়ার অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে আবার ভারত থেকে রোহিঙ্গারা আসছেন, এটি আমাদের জন্য মোটেও ইতিবাচক নয়।
এদিকে সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত শুমাইসি বন্দিশালা থেকে সম্প্রতি কিছু অডিও ও ভিডিও ফাঁস হয়েছে। এসব থেকে জানা গেছে, ওই বন্দিশালায় আবার অনশন শুরু করেছে আটক রোহিঙ্গারা।
যুক্তরাজ্যের বার্তা সংস্থা মিডল ইস্ট আই ১৭ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রতিবেদন তুলে ধরেছে। এতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে রোহিঙ্গাদের আটক করে বন্দিশালায় নিয়ে রাখার পর জোর করে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই চলছে এ অনশন। বন্দিদের ভাষ্য, তারা মিয়ানমারের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও জোর করে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। অথচ অনন্যোপায় হয়েই তারা রাজতান্ত্রিক দেশটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বন্দিরা এ বিষয়ে জাতিসংঘের হস্তপে কামনা করেছেন।
বন্দিশালা থেকে ফাঁস হওয়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, অনশনকারী রোহিঙ্গা বন্দিরা তাদের জন্য বরাদ্দ প্রতিদিনের খাবার খেতে চাইছেন না। তাদের ফেরত দেয়া খাবার, সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক সামগ্রী মেঝেতে পড়ে আছে। এ ছাড়া দেখা গেছে, বেশকিছু বন্দিকে হাতকড়া পরিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
বন্দিরা বলছেন, আর কোনো উপায় নেই বলেই তারা অনশন শুরু করেছেন। হোয়াটসঅ্যাপসহ বার্তাবহ অন্যান্য অ্যাপের সাহায্যে তারা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনশন কর্মসূচি সংগঠিত করেছেন। শুরুতে প্রায় ৩০০ বন্দি অনশন শুরু করেন। এখন তা সব বন্দির মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
মিডল ইস্ট আইয়ের কাছে বন্দিদের তরফে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বেশকিছু অডিও বার্তা রয়েছে; রয়েছে বন্দিদের হাতে হাতকড়া লাগানো ছাড়াও তাদের ওপর স্থানীয় প্রশাসনের চালানো নির্যাতনের বেশকিছু ভিডিও। বার্তা সংস্থাটিকে পাঠানো অডিও বার্তায় জাহিদ নামের এক বন্দি বলেন, ‘তারা (সৌদি সরকার) আমাদের বলেছিল মুক্তি দেবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এখান থেকে একজনকেও মুক্তি দেয়া হয়নি। বরং গত মাসে আমাদের মধ্যে থেকে ৬০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তারা জেল খাটছে জাল কাগজপত্র তৈরি করে সৌদিতে পাড়ি দেয়ার জন্য। এসব জেনেশুনে আমরা কিভাবে সেখানে যাব? জানি না, এভাবে কতদিন আমরা অনশন করতে পারব। কারণ কর্তৃপ আমাদের যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। শুমাইসি জেলে আমাদের কিছু ভাই মানসিক পীড়ায় ভুগছে। আমাদের মা-বাবা মারা যাচ্ছে; ভাইয়েরা মারা যাচ্ছে। এ পীড়া বহন করার মতো নয়। তাই আমরা আবার অনশন শুরু করেছি। আমরা আপনাদের, সবার সাহায্য চাই।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের জাল পাসপোর্ট নিয়ে অসংখ্য রোহিঙ্গা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছে। এ ছাড়া কিছু রোহিঙ্গা ভুটান, ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের পাসপোর্ট নিয়েও মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। সৌদি আরবে গত ৪ মাসের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার রোহিঙ্গা বন্দিরা অনশন করছেন। সৌদি আরবে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে না আসার জন্য অনশন করছেন, ভারত থেকে পালিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছেন এবং মিয়ানমার থেকে এখনো প্রতিদিন ৫-১০ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছেন। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসার এই মিছিল যেন থামছেই না।
বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন চায়। মিয়ানমার এর বিরোধিতা করছে। বিশ্বসম্প্রদায় বিষয়টিতে জোরালোভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব নেতৃত্ব বিশেষ করে ভারত ও চীনের নেতাদের এ বিষয়ে আন্তরিক হস্তক্ষেপ দরকার। ভারত ও চীন যাতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে বাধ্য করে, বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সেরকমই হওয়া উচিত।