প্রতিবেদন

লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি পেলেন ৪ নারী মেজর

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে আরেকটি অধ্যায়ের সূচনা হলো। চারজন নারী সেনাকর্মকর্তা প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর আর্টিলারি ও ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ পেলেন। সেনাবাহিনীতে পেশাগত দতা প্রদর্শনে সফল এই চার নারী কর্মকর্তাকে মেজর থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।
তাদের এ পথচলার গল্পের শুরু ১৯ বছর আগে অর্থাৎ ২০০০ সালে। ওই বছর ৪৭ বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে প্রথমে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় শুধু পুরুষ কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য। পরে এ কোর্সে নারী কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেেিত আবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই কোর্সের জন্য পরীায় অংশ নিয়ে মনোনীত হন তারা। পরের বছর জানুয়ারি থেকে তাদের দুই বছর মেয়াদি প্রশিণ শুরু হয়। প্রশিণ শেষে তারা নিয়মিত কমিশন লাভ করেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অধ্যায়টিকে স্মরণীয় করে রাখতে গত ২৪ জানুয়ারি সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সেনাবাহিনী সদরদপ্তরে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই চারজন নারী কর্মকর্তাকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদের র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত চার নারী সামরিক কর্মকর্তা র‌্যাংক ব্যাজ পরিধান শেষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সঙ্গে এক ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত নারী সামরিক কর্মকর্তারা পরবর্তীতে ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত চারজন নারী কর্মকর্তা হলেন মেজর সানজিদা হোসেন, আর্টিলারি; মেজর সৈয়দা নাজিয়া রায়হান, আর্টিলারি; মেজর ফারহানা আফরীন, আর্টিলারি ও মেজর সারাহ আমির, ইঞ্জিনিয়ার্স।
আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নারীর মতায়নে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে নিয়মিতভাবে নারী অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে। ৪৭তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্স থেকে শুরু হওয়া এই নারী অফিসাররা এরই মধ্যে নিজ নিজ কর্মেেত্র পেশাগত দতা প্রদর্শনে সফল হয়েছেন। তাদের এই সমতার অংশ হিসেবে চারজন নারী অফিসারকে মেজর থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে।
জানা যায়, ৪৭তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমানের মেয়েও ছিলেন। ওই কোর্সে মোট ৩০ জন মনোনীত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২০০২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম ২০ জন তরুণী নিয়মিত কমিশন লাভ করেন। ওই কোর্সের বাকি ১০ জনের মধ্যে কয়েকজন ৪৮তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অংশ নিয়ে প্রশিণ শেষ করার সুযোগ পান। দ্বিতীয় এ কোর্স শেষে ২০০৩ সালের জুলাইয়ে আরো ২১ জন নারী কমিশন লাভ করেন। এরপর ৪৯তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স শেষে ২২ জন এবং ৫০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স শেষে আরো ১৩ জন নারী কমিশন লাভ করেন। এরপর প্রতি ৬ মাস পরপরই সেনাবাহিনীতে নারী কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়তে থাকে। সেনাবাহিনী ছাড়াও নারী কর্মকর্তাদের সংখ্যা বাড়ছে নৌ ও বিমান বাহিনীতেও।
সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণের েেত্র আরেকটি মাইলফলক হয়ে রয়েছে ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি। ওই দিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথম সংযোজিত ৮৭৯ জন নারী সৈনিক মৌলিক সামরিক প্রশিণ শেষে শপথ গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, সেনাবাহিনীতে মেডিকেল কোরে সর্বোচ্চ মেজর জেনারেল পদে রয়েছেন একজন নারী কর্মকর্তা। তিনি হলেন ডা. সুসানে গীতি।
আইএসপিআরের গত বছর ৬ মার্চের তথ্য অনুসারে, সেনাবাহিনীতে ওই সময় নারী কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল চিকিৎসকসহ ১ হাজার ২৮০ জনের কাছাকাছি। এ ছাড়া নারী সৈনিকের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮৬০ জনের কাছাকাছি।