প্রতিবেদন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে পুলিশ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বান : দুর্নীতি মাদক ও জঙ্গিবাদ উচ্ছেদ করে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বার ও মোট চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন উপলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ২০ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
দুর্নীতি, মাদক ও জঙ্গিবাদ উচ্ছেদ করে বাংলাদেশকে দণি এশিয়ার একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যেতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমাদের সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি একটি কালব্যাধির মতো ছেয়ে গেছে। কারণ যে দেশে সামরিক সরকার মতায় আসে তারা প্রথমে সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। দুর্নীতিকেই তারা নীতি হিসেবে নেয় এবং দুর্নীতির সুযোগও সৃষ্টি করে দেয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ঋণখেলাপি থেকে দুর্নীতিবাজ; যাদেরকে আমরা দেখি তাদের সৃষ্টি হয় ’৭৫-এর পর যারা মতায় এসেছিল তাদের কাছ থেকে।
এসব কালব্যাধি থেকে সমাজকে মুক্ত করার ল্েযই সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, এটি এখন সময়ের প্রয়োজন এবং তার জন্য যা যা করণীয় সরকার করে যাবে।
তিনি বলেন, দেশকে যদি আমরা উন্নত করতে চাই তাহলে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির হাত থেকে আগে মুক্ত করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরের প্রধান উপস্থিত ছিলেন।
সমাজে অপরাধপ্রবণতার হার কমিয়ে আনার জন্য অপরাধ দমনের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের কারণ খুঁজে বের করা এবং তার প্রতিকারের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরকে শাস্তি দিলেই যে অপরাধ দমন হয়ে যাবে তা নয়, বরং সমাজে তাদের সুস্থ জীবন দিয়ে ফিরিয়ে আনতে পারাটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কারা দেশে মাদক নিয়ে আসছে, কারা ব্যবসা করছে, কারা সেবন করছে Ñ সকলের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যারা মাদক সেবন করে শুধু তাদেরই নয়, যারা মাদক আনে, সাপ্লাই দেয়, তৈরি করে, তাদেরকেও ধরতে হবে। পাশাপাশি যারা সুস্থভাবে সমাজে ফিরতে চাইবে তাদের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। মাদকাসক্তদের নিরাময়েরও উদ্যোগ নিতে হবে।
শেখ হাসিনা এ সময় সরকারের প থেকে মাদক নিরাময়কেন্দ্র স্থাপন ও মাদকের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি বিশাল মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে অতীতে এর পর্যাপ্ত লোকবল না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এজন্যই সরকার এই মন্ত্রণালয়কে দুটি ভাগে ভাগ করে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কোস্ট গার্ড গঠন করেছে এবং জাতিসংঘ শান্তিরা বাহিনীতে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রেরণের ব্যবস্থা করেছে। সেদিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। জাতিসংঘ মিশনে আমাদের পুরুষ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি নারীরাও সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।
এ সময় দেশের কারাগারগুলোকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েদিদের জন্য সৃজনশীল জীবিকা সংস্থানে সরকারের বেশকিছু পদপে নিয়েছে। সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তারা যেন কিছু পুঁজি নিয়ে যেতে পারে এবং পরবর্তী জীবনে তাদের যেন সেটা কাজে লাগে সেজন্য নানা প্রশিণ দেয়া হচ্ছে।
এ সময় তিনি জঙ্গি ও জলদস্যু মোকাবিলায় র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকার প্রশংসা করে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্যদের অপরাধ দমনে আরো প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উন্নয়নে সরকারের পদপে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে প্রতি উপজেলাতেই একটি করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন হবে। আগুন লাগলে তাতে জনগণ তাৎণিকভাবে সেবা পাবে।
সন্ত্রাস এবং জঙ্গি দমনে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী তথা সমগ্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাফল্যের পুনরুল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এর পে জনমত সৃষ্টি করে সকল শ্রেণি-পেশার জনগণকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে পারাতেই সাফল্য এসেছে বলে মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী ১২৩ ভাগ বেতন বৃদ্ধি ও সরকারি কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা নিরসনে সরকারের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরে বলেন, আমি ইতোমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আমাদের সরকারি কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা করে দিতে। কারণ যারা জনগণের জন্য কাজ করে তারা যেন ভালো থাকতে পারে, নিরাপদে থাকতে পারে সে ব্যবস্থাও আমাদের নিতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার জাতির পিতার রেখে যাওয়া স্বল্পোন্নত দেশ থেকে আজকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছে এবং উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এই উন্নত দেশ করার জন্য মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সচেষ্ট থাকার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।