কলাম

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

সরকারের নানামুখী উদ্যোগ এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম সত্ত্বেও সড়ক দুর্ঘটনা যেন কমছেই না। অপ্রত্যাশিতভাবে ক্রমেই এটি বাড়ছে। গত বছর সারাদেশে ৫ হাজার ৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ২২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আর পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ১৫ হাজার ৪৬৬ জন। যাত্রীকল্যাণ সমিতির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়লেও হতাহতের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল, আহত হয়েছিলেন ১৬ হাজার ১৯৩ জন। গত বছর ২৩ জুন একদিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২ জনের প্রাণহানির খবর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। উদ্বেগজনক ওই প্রাণহানিতে গত বছরের ২৫ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সড়ক নিরাপত্তায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। এছাড়া নতুন সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে নিরাপদ সড়কের অঙ্গীকার করা হয়। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, সড়ক-মহাসড়ক ও রাস্তাঘাটের নির্মাণত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেড ফোন ব্যবহার, মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো, মহাসড়ক ও রেলক্রসিংয়ে ফিডার রোডের যানবাহন উঠে পড়া, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত অপদখলে থাকা, যানবাহনে অতিরিক্ত পণ্য বা যাত্রী বহন এবং সড়কে ছোট যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ হলো, ট্রাফিক আইন, মোটরযান আইন ও সড়ক ব্যবহার বিধিবিধান সম্পর্কে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থী ও সাধারণের মধ্যে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে।
জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে হাট-বাজার অপসারণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, রোড সাইন (ট্রাফিক চিহ্ন) স্থাপন করা, জেব্রাক্রসিং দেয়া, চালকদের পেশাগত প্রশিণ ও নৈতিক শিার ব্যবস্থা করা, যাত্রীবান্ধব সড়ক পরিবহন আইন ও বিধিবিধান প্রণয়ন, গাড়ির ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স দেয়ার পদ্ধতিগত উন্নয়ন-আধুনিকায়ন, জাতীয় মহাসড়কে কম গতি ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা এবং লাইসেন্স নবায়নের সময় চালকদের ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করার কথা এসেছে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশে।
সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে বিশেষজ্ঞরা যেসব সুপারিশ করেছেন, তার অনেকগুলোর সঙ্গেই বিআরটিএ’র সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং এ সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। তাই এ খাতে শৃঙ্খলা আনয়নের জন্য বিআরটিএ, সড়ক ব্যবহারকারী পথচারী, ড্রাইভার ও পরিবহন মালিকদের পরিবহন আইন যথাযথভাবে মানার পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ-দুর্নীতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।