প্রতিবেদন

তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে এবার দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি। দলটির একপক্ষ বলছে, এমন হারের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বের দুর্বলতাই দায়ী। আরেকপক্ষ বলছে, তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ না করায় এমন পরাজয় ঘটেছে।
অনেকে বলছেন, ৩০০ আসনের প্রার্থী নির্বাচনে তারেক রহমানের একক সিদ্ধান্তকে শিরোধার্য করতে গিয়ে এমন ফল বিপর্যয় ঘটেছে।
অনেকে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মনোনয়নবাণিজ্যের অভিযোগও আনেন। অভিযোগকারীরা বলছেন, লন্ডনে বসে ঢাকার বাস্তবতা বোঝা যায় না। সকালে একজনকে মনোনয়ন দিয়ে বিকেলে আরেকজনকে মনোনয়ন দেয়া Ñ সেটা কী কারণে হয়েছে, তা বুঝতে কারোরই অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। লন্ডন থেকে এ জাতীয় ঘটনা এক-দুটি নয়, অসংখ্য ঘটেছে। ফলে অনেক প্রার্থীই আসলে নিশ্চিত ছিলেন না, তিনি মনোনয়ন পাবেন কি না।
এসবের ফলে বিএনপির অনেক প্রার্থী পোস্টার ছাপিয়ে সময়মত এলাকায় বিতরণও করতে পারেননি। লন্ডনের ডকট্রিনে একেবারে আনকোরা একজন বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে যাওয়ায় ত্যাগী নেতারা থ হয়ে পড়েন। তারা পুরোপুরি বিরত থাকেন ধানের শীষের প্রচারকাজ থেকে। অনেকে অবস্থা বুঝে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের দিকেও মনোযোগী হন। এতে করে প্রায় সকল আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা তাদের দলীয় সমর্থকদের কাছ থেকেই সমর্থন হারিয়ে ফেলেন।
নেতা-কর্মীবিচ্ছিন্ন অবস্থায় নির্বাচনে নেমে বিএনপি প্রার্থীরা সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি। ভোটের দিন বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই ভোটকেন্দ্রে যাননি। তার পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিয়ে অতিথি একজনকে মনোনয়ন দেয়ায় দলটির তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী নির্বাচন নিয়েই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এর প্রভাব পড়ে নির্বাচনে। ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে সারাদেশ থেকে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট মিলে আসন পায় মাত্র ৮টি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দলটি কখনোই এতো করুণ দশায় পড়েনি।
বিএনপির এই করুণ পরিণতির জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়ী বলে দলের ভেতরই এখন আলোচনা হচ্ছে। পদচ্যুত হওয়ার ভয়ে নেতারা অবশ্য তা সরাসরি বলছেন না। তবে আকারে-ইঙ্গিতে বলা শুরু হয়েছে। বিএনপির যেসব প্রবীণ নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্ব পছন্দ করেন না, তারা বেশ আরাম করেই বলছেন, অভিজ্ঞদের মূল্যায়ন না করলে নির্বাচনের ফল এমনই হয়।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রশ্নে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা একরকম ধোঁয়াশার মধ্যেই ছিল। বেশিরভাগের ধারণা ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু যখন খালেদা জিয়াকে জেলে রেখেই বিএনপি নির্বাচনে গেল, তখনই দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান। অনেকে ড. কামালের দিকে ইঙ্গিত করে বলতে থাকেন, ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’।
তারেক রহমানের নির্দেশে ড. কামাল হোসেনকে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বানানোয় চরমভাবে হতাশ হয়ে পড়েন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি ছিল দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি থেকেই কাউকে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বানানো হোক। সেটি না করায়, নির্বাচনের পরে এসে এখন তারেক রহমানের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেক নেতা। তাদের কথা হলো ৩০০ আসনে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে তারেক রহমান এবার নিঃসন্দেহে অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন।
তারেক রহমানের অনুকম্পা না পেয়ে যেসব নেতা মনোনয়নবঞ্চিত হন তারা চরম ুব্ধ হন এবং নির্বাচনকালে বিএনপিকে পরোভাবে অসহযোগিতা করতে শুরু করেন। এ কারণেও দেশজুড়ে বিএনপির ভালো অবস্থান থাকার পরও শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয়। তাদের এই ভূমিধস পরাজয়ের জন্য এখন অনেকেই দায়ী করছেন তারেক রহমানকে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলকে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিতে পারেননি বলে যে অভিযোগ উঠছে, দিন দিনই তা জোরদার হচ্ছে। বিএনপির এক আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য দলের নেতৃত্বকে দায়ী করেন। এছাড়া তারা অবিলম্বে জাতীয় কাউন্সিল করে দল পুনর্গঠনের দাবি জানান। তাদের এ বক্তব্যে নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য কাকে দায়ী করা হয়েছে তা সরাসরি না বলা হলেও পরোভাবে এর জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিই যে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তা সবাই বুঝতে পেরেছেন।
বিএনপির সিনিয়র এসব নেতার মনোভাব দেখে তারেক রহমান চরম ুব্ধ হন। আর এ ােভের প্রতিফলন তিনি ঘটান বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। স্থায়ী কমিটির নেতাদের কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে স্কাইপেতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার পাশাপাশি এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তও দেন। এর বাইরে বিএনপির ৭ সিনিয়র নেতাকে লন্ডনে গিয়ে তার কাছ থেকে নির্দেশনা নিয়ে আসার নির্দেশনা দেন তারেক রহমান।
তারেক রহমানের এমন নির্দেশনা পেয়ে দলের কোনো কোনো সিনিয়র নেতা বিব্রত হয়েছেন। দলের ভেতরে এমন কথাবার্তাও হচ্ছে দেশে রাজনীতি করতে বিদেশে গিয়ে তারেক রহমানের নির্দেশনা নিয়ে আসতে হবে কেন? তিনি নিজেও তো দেশে এসে রাজনীতি করতে পারেন, দল পরিচালনায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারেন।
এদিকে বিএনপির বর্তমান করুণ পরিণতির জন্য যে তারেক রহমান দায়ী তা বুঝতে পেরে ুব্ধ হন দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপিসমর্থক বুদ্ধিজীবীরাও।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপিসমর্থক বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে তারেক রহমানের চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তের বিপরীতমুখী বক্তব্য দেন।
বিএনপিসমর্থক আরেক বুদ্ধিজীবী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী। সম্প্রতি তিনিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি ও দলটির বর্তমান অবস্থার জন্য তারেক রহমানকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, তারেক রহমানের উচিত অন্তত ২ বছর রাজনীতি থেকে দূরে থাকা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব.) সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে সাাৎকার দিয়ে বলেছেন, দলের নেতৃত্ব দিতে হলে তারেক রহমানকে দেশে ফিরে আসতে হবে।
তাদের এসব কথাবার্তার মধ্যেও বর্তমানে তারেক রহমান যে দল পরিচালনায় ব্যর্থ এবং তার প্রতি যে দলের নেতাকর্মীরা ুব্ধ তা ফুটে উঠেছে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তৎকালীন বিএনপির প্রাথমিক সদস্য তারেক রহমানকে বনানীতে হাওয়া ভবন নামে একটি বাড়ি ভাড়া করে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই বাড়িতে মাঝে মধ্যে খালেদা জিয়াও অন্য নেতাদের নিয়ে বসতেন। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে এই ভবনে বসেই তারেক রহমান সারাদেশে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনার সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমান হয়ে উঠেন মহামতাধর। মা খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় তারেক রহমান সর্বেেত্র প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। হাওয়া ভবন থেকে নিজের পছন্দের কিছু তরুণ নেতাকে নিয়ে তিনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়, তারেক রহমান হাওয়া ভবনে বসে কার্যত ‘বিকল্প সরকার’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর মাধ্যমে সরকারি কর্মকা-সহ সবকিছুতে হস্তপে করায় তখন দলের ভেতরে-বাইরে তারেক রহমানের প্রতি ােভের সঞ্চার হলেও কেউ তা প্রকাশ করেননি।
অবশ্য ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই খালেদা জিয়া মুক্তি পান, আর তারেক রহমানও মুক্তি পেয়ে তিনি আর রাজনীতি করবেন না জানিয়ে মুচলেকা দিয়ে লন্ডন চলে যান। আশা ছিল নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন। কিন্তু সে আশা পূরণ না হওয়ায় নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত তারেক রহমান দেশে ফেরার চেষ্টা করেননি।
এদিকে তারেক রহমান লন্ডনে থাকলেও আদালতে বিচারাধীন কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তারেক রহমান দেশে এসে মামলা মোকাবিলা করবেন – বিএনপি নেতাকর্মীরা এমন আশা করলেও গ্রেফতার এড়াতে তিনি দেশে আসেননি। তবে গেল বছরের ৮ ফেব্র“য়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে তারেক রহমান লন্ডনে বসেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন এবং তার নির্দেশেই দল পরিচালিত হতে থাকে। তবে একাধিক মামলায় ফেরারি আসামি হয়েও কিভাবে তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করছেন এ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়। দলের ভেতরেও এ বিষয়টি আলোচনা হলেও কেউ সাহস করে তা প্রকাশ করেননি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারাগার থেকে খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র নেতাদের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের সহযোগিতা নিয়ে সার্বিক প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিলেও সে নির্দেশনা মতে কাজ করতে পারেননি বিএনপির সিনিয়র নেতারা। দলীয় মনোনয়নসহ সকল সিদ্ধান্ত লন্ডনে থেকে চাপিয়ে দেয়া হয়।
এ কারণে দলের সর্বস্তরের অনেক নেতাকর্মী গাছাড়া ভাব দেখিয়ে নির্বাচনে বিজয়ের তেমন চেষ্টা করেননি। অনেক সিনিয়র নেতা প্রার্থী হয়েও ভোট চাইতে যাননি। তারেক রহমানের প্রতি ুব্ধ থাকার কারণেই তারা নির্বাচনকে বেশি গুরুত্ব দেননি। আর এ জন্যই নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হলেও যে ৬টি আসনে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে তারা সংসদে গিয়ে প্রতিদিন বিএনপির পে কথা বলতে পারেন। তাই বিএনপির উচিত সংসদে যোগ দেয়া। কিন্তু তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপির নির্বাচিত ৬ জন এখনও শপথগ্রহণ করেননি এবং সংসদেও যাবেন না বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনসহ সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে সক্রিয় রাখার যে সুযোগ ছিল সে সুযোগ নেয়ার পথও বন্ধ করে দিয়েছেন তারেক রহমান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, তারেক রহমান দেশের বাইরে থেকে নির্দেশনা দিয়ে দল পরিচালনা করুক Ñ এটা সিনিয়র নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ পছন্দ করছেন না। তবে দলীয় পদ হারানোর ভয়ে তা প্রকাশ্যে স্পষ্ট করে কেউ বলতেও চাচ্ছেন না। পরোভাবে অবশ্য কেউ কেউ বলেছেন। দলের নির্বাহী কমিটির বৈঠক বা জাতীয় কাউন্সিল হলে হয়ত এ বিষয়ে কেউ না কেউ মুখ খুলতেন। আর এ কারণেই নির্বাহী কমিটির বৈঠকও ডাকা হচ্ছে না, জাতীয় কাউন্সিলও সহসা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না বিএনপিতে।
নির্বাহী কমিটির বৈঠক বা জাতীয় কাউন্সিল যা-ই অনুষ্ঠিত হোক না কেন, বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই কিন্তু তারেক রহমান বর্তমানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। নির্বাহী কমিটির বৈঠক বা জাতীয় কাউন্সিল করে নেতৃত্বের পরিবর্তন হয় Ñ বিএনপিতে এমন নজির নেই বলেই এখন চরম হতাশায় দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী।