প্রতিবেদন

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অঙ্গীকার

অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল রউফ মামুন
পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ আজ এক বিষ্ময়কর উন্নয়ন ও অগ্রগতির উদাহরণ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশকে পেছনে ফেলে লাল-সবুজের এই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অদম্য। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রত্যয়ে একটি সুস্থ-সবল, মেধাবী ও কর্মক্ষম জাতি গড়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারই ফলশ্রুতিতে দেশ আজ খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে।
আমরা জানি, জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা বিধান ও সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করে সুস্থ-সবল একটি জাতি গঠনের পূর্বশর্ত হলো নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করেই বর্তমান সরকার দেশের জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত, ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে যুগান্তকারী নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করে। এই আইনের আওতায় ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে একটি জাতীয় বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের
দায়িত্ব, রূপকল্প ও অভিলক্ষ্য
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অর্থাৎ বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, বিপণন ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা মূলত একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যার মাধ্যমে মাঠ থেকে খাবার টেবিল পর্যন্ত খাদ্য শৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা যায়। এ কারণেই নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর শুরুতেই বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের কথা বলা হয়েছে। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিম্নরূপ রূপকল্প ও অভিলক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রূপকল্প: জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্য।
অভিলক্ষ্য: নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা, খাদ্যশিল্প ও খাদ্যব্যবসায়ী এবং সুশীলসমাজকে সাথে নিয়ে যথাযথ বিজ্ঞানসম্মত বিধি-বিধান তৈরি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন শৃঙ্খল পরিবীক্ষণ এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সংস্থাসমূহের কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে ভোক্তার জীবনমান ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা।

খাদ্যে ভেজাল বা দূষণ
খাদ্যে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা শুধু বাংলাদেশ নয়, এই উপমহাদেশজুড়ে আদিকাল থেকেই একটি অপসংস্কৃতি হিসেবে রয়ে গিয়েছে। দুধে পানি মেশানো এর একটি অন্যতম উদাহরণ। কিছু অসৎ খাদ্য ব্যবসায়ীর অতিমাত্রায় লোভ এবং ভোক্তা সাধারণকে প্রতারিত করে রাতারাতি ধনী হওয়ার প্রবণতা খাদ্যে ভেজাল দেয়ার মূল কারণ। অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণে উৎকৃষ্ট পদ্ধতিসমূহ অনুসরণ না করার কারণে খাদ্যদ্রব্য বিভিন্ন রাসায়নিক ও অণুজৈবিক দূষক দ্বারা দূষিত হয়ে পড়ছে। এই দূষণের মূল কারণ মাঠ পর্যায়ে খাদ্য উৎপাদক এবং শিল্পকারখানায় খাদ্য প্রক্রিয়াকারকদের অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাব। শুধু উৎপাদক বা প্রক্রিয়াকারক নয়, আমাদের নিজেদের তথা জনগণের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পদ্ধতিতে খাদ্যপণ্য রান্না, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ব্যাপারে অসচেতনতা বা অজ্ঞতার কারণেও ক্ষেতে উৎপাদিত একটি নিরাপদ খাদ্য খুব সহজেই আমাদের পাতে এসে অনিরাপদ হয়ে যেতে পারে।

প্রকৃত অবস্থা কী?
এ কথা অনস্বীকার্য যে আমাদের দেশের উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াজাত যত ধরনের খাদ্যপণ্য বাজারজাত হয়ে থাকে, তার সবটুকু শতভাগ নিরাপদ নয়, যা মানুষ নিশ্চিন্তে বা নির্ভয়ে খেতে পারবে। বিগত কয়েক বছর ধরে ভেজাল ও দূষিত খাদ্য সম্পর্কে দেশের পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে আসছে, যার ফলে জনমনে খাদ্যপণ্যের নিরাপদতা নিয়ে শুধুমাত্র প্রশ্নই নয়, জনগণ রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এতে জনগণের কোনো দোষ নেই, কারণ তারা যা দেখে এবং শুনে তাই সরল মনে বিশ্বাস করে এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে মিডিয়া রিপোর্টার বা প্রতিবেদকগণ তাদের কাজের দায়িত্বের অংশ হিসেবে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে সমাধানের সৎ উদ্দেশ্যেই এসকল সমস্যা তাদের প্রতিবেদনে তুলে ধরেন এবং এটাই সকলের কাম্য। কিন্তু তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল বা দূষণের যে অবস্থা ঢালাওভাবে গণমাধ্যমে লেখা বা সচিত্র প্রতিবেদন আকারে প্রচারিত হয় তার কতটা বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আর কতটা ধারণাপ্রসূত?
কেননা একটি খাদ্য কতটা অনিরাপদ তথা রাসায়নিক বা অনুজৈবিক দূষক দ্বারা দূষিত, কিংবা ভেজালের কারণে কতটা নিম্ন পুষ্টিমানের হলো তা জানতে হলে অবশ্যই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ভেজাল বা দূষণের মাত্রা নিরূপণ করতে হবে। বলা বাহুল্য, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সমৃদ্ধ খাদ্য পরীক্ষাগার, সুদক্ষ জনবল, পরিকল্পনামাফিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সার্বিকভাবে আমাদের দেশের খাদ্যের নিরাপদতা কতটুকু সেটাও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে নিরূপণ করা হয়নি কখনো। সময় এসেছে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা করে ধাপে ধাপে বিভিন্ন সেক্টরের খাদ্যপণ্যের সার্বিক নিরাপদতার প্রকৃত অবস্থা বৈজ্ঞানিকভাবে নিরূপণপূর্বক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে এর স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মপরিকল্পনা: প্রতিকারের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা
বিগত কয়েক দশক ধরে খাদ্যে ভেজাল ও দূষণের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা বলতে আমরা যা দেখে এসেছি তা হলো খাদ্যে ভেজাল বা দূষণের কোনো ঘটনা আমাদের নজরে এলে আমরা তা তদন্তসাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করি। কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অভিযানের সময় ভেজাল মেশানো হচ্ছে বা ভেজালের সামগ্রী হাতেনাতে ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীকে কিছু জরিমানা করা, যা অপরাধের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতূল। ভেজাল বা অনিরাপদ খাদ্য খাওয়ার ফলে মানব স্বাস্থ্যের যে ক্ষতিসাধন হয়, তার কাছে এই গর্হিত অপরাধের শাস্তি হিসেবে অল্পকিছু জরিমানা কি গ্রহণযোগ্য? তাছাড়া প্রতিদিন খাদ্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান কিংবা প্রতিটি খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করে খাওয়া কি সম্ভব? একজন ভোক্তা কি সকল সময় ‘টেস্ট-কিট’ নিয়ে হোটেল রেস্তোরাঁয় খেতে কিংবা বাজার থেকে পরীক্ষা করে প্রতিদিন খাদ্যপণ্য ক্রয় করতে পারবেন? পারবেন না, কারণ এটা বাস্তবসম্মত সমাধান নয়। অথচ শঙ্কা, ভয়, আতঙ্ক কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। এর সমাধান কী?
এ সকল সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ৭২৮ জন নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শককে ‘ঝুঁকিভিত্তিক খাদ্য পরিদর্শন’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে যারা নিয়মিত খাদ্য স্থাপনা পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এতে করে খাদ্যে ভেজাল বা দূষণসংক্রান্ত দুর্ঘটনা এড়িয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। অপরদিকে মাঠে খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারে বিক্রয় পর্যন্ত খাদ্য-শৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপে উৎকৃষ্ট উৎপাদন চর্চাসমূহ যথা এড়ড়ফ অমৎরপঁষঃঁৎধষ চৎধপঃরপবং (এঅচ), এড়ড়ফ অয়ঁধপঁষঃঁৎব চৎধপঃরপবং (এঅছচ), এড়ড়ফ গধহঁভধপঃঁৎরহম চৎধপঃরপবং (এগচ), এড়ড়ফ ঐুমরবহরপ চৎধপঃরপব (এঐচ), ইত্যাদি অনুশীলন করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ এসকল সমস্যার স্থায়ী সমাধান। ‘নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩’-এ ঠিক এই পদ্ধতি অনুসরণ করেই খাদ্য উৎপাদন, আমদানি প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়েছে। এতে করে খাদ্য অনিরাপদ হবার ঝুঁকি যেমন কমে আসে, তেমনি খাদ্যের পুষ্টিমানও বজায় থাকে প্রায় শতভাগ।

কর্তৃপক্ষের কর্মকৌশল ও সুদীপ্ত অগ্রযাত্রা
একটি আধুনিক নিরাপদ খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সীমিতসংখ্যক জনবল নিয়ে আন্তরিকতার সাথে বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মকৌশল অবলম্বন করে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এবং বাংলাদেশসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরে প্রণীত বৈশ্বিক দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য ঝঁংঃধরহধনষব উবাবষড়ঢ়সবহঃ এড়ধষং (ঝউএ) বা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি)-এর দু’টি লক্ষ্যমাত্রায় ২০৩০-এর সালের মধ্যে সকল মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র জনগণ ও শিশুদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকারসহ বছরব্যাপী নিরাপদ, পুষ্টিকর ও পর্যাপ্ত খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করে ক্ষুধার অবসান ঘটানো এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যাদি, বায়ু, পানি, মাটি দূষণ ও সংক্রামক ব্যাধির কারণে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।
এসব লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইতোমধ্যে ৬টি লক্ষ্যমাত্রা সংবলিত ৫ বছরমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে যাত্রা শুরু করে মাত্র ৪ বছর বয়সের এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে বেশকিছু সাফল্য অর্জন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিধি-প্রবিধানমালা প্রণয়ন, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেমিনার, কর্মশালা, গণবিজ্ঞপ্তি, টিভি-স্ক্রল, পোস্টার-লিফলেটের মাধমে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক প্রচারণা, নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ নানাবিধ কার্যক্রম সম্পন্ন।

এছাড়াও জনগণের স্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবনের কথা বিবেচনায় রেখে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিশেষ কিছু কার্যক্রম সম্পাদন করেছে
ষ নকল ডিম এবং ফলমূল ও শাকসবজিতে ফরমালিন প্রয়োগ বিষয়ে বিভ্রান্তি দূরীকরণের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি।
ষ বাংলাদেশ ‘এনার্জি ড্রিংকস’ নামের কোনো কোমল পানীয়ের জাতীয় মান (ইউঝ) না থাকায় এনার্জি ড্রিংকস উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রয় বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ।
ষ ফ্রান্সের ল্যাকটালিস কোম্পানি কর্তৃক উৎপাদিত এবং জেস ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক আমদানিকৃত ও বাজারজাতকৃত বেবিকেয়ার ফুডে ‘সালমোনেলা এগোনা’ নামক জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়ায় উক্ত সকল পণ্য (১৯,৫৮১.১১ কার্টুন) জব্দ করে বাজার থেকে প্রত্যাহারকরণ।
ষ ভোক্তাদের নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে প্রাণি ও মৎস্য খাদ্য ‘মিট অ্যান্ড বোন মিল্ক (এমবিএম)’ উপাদান আমদানি, মজুদ, পরিবহন ও বিক্রয় বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ।
ষ খাদ্যে ভেজাল ও দূষণ বিষয়ে জনমনে প্রচলিত ধারণাগত উপলব্ধি যাচাইকরণের নিমিত্ত বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের নমুনা বিদেশের আক্রিডিটেড ল্যাবরেটরির পাশাপাশি সরকার কর্তৃক স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পরীক্ষাকরণ।
ষ পাস্তুরিত তরল দুধ উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের যথাযথ গুণগত মান ও নিরাপদতা নিশ্চিত করণে মনিটরিং গ্রহণ।
ষ ঢাকার হোটেল রেস্তোরাঁগুলোতে নিরাপদতার মান নিয়ন্ত্রণপূর্বক গ্রেডিং পদ্ধতিতে স্টিকার প্রদান চালুকরণ।
ষ নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কিত সকল কার্যক্রম বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ব্যাপকভাবে প্রচারের নিমিত্ত কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাংবাদিক ফোরাম গঠন।

শেষ কথা
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে একটি বিজ্ঞানসম্মত নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠিত করা দীর্ঘমেয়াদি জটিল প্রক্রিয়া। যদিও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিদ্যমান সকল সরকারি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে একযোগে সমন্বয়ের মাধ্যমেই নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কোনো একক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই মহৎ ও জটিল কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। কেননা খাদ্য যে শুধু ইচ্ছাকৃতভাবে ভেজাল কিংবা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে দূষক দ্বারাই অনিরাপদ হয় তা নয়, পরিবেশ দূষণ এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দূষিত পরিবেশ তথা মাটি, পানি ও বায়ু যদি নানাবিধ ক্ষতিকারক রাসায়নিক ও অনুজৈবিক দূষক দ্বারা দূষিত হয়ে থাকে, তাহলে সকল প্রচেষ্টাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমাদের খাদ্যপণ্য অনিরাপদ হতে বাধ্য। সীসা, মারকারি কিংবা ক্যাডমিয়ামের মতো ভয়ানক ক্ষতিকর ভারী ধাতু কেউ খাদ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করে না। অথচ এসকল ক্ষতিকর ভারী ধাতুর উপস্থিতি বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে সহনীয় মাত্রার উপরে উপস্থিতির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হলে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পাশাপাশি পরিবেশ মন্ত্রণালয়কেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। রাসায়নিক ও অনুজৈবিক দূষকমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ উৎকৃষ্ট উৎপাদন চর্চাসমূহ অনুশীলন করে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ করলে বাংলাদেশ একদিন নিরাপদ খাদ্যের দেশে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দেশের চলমান উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে সকলের সহযোগিতায় নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশ, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশে গর্বিত অংশীদার হবে।
লেখক: সদস্য, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ