কলাম

পলিথিনের দৌরাত্ম্য রোধে পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা জরুরি

মাটির উর্বরাশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়ার মূলে রয়েছে পলিথিন। এটি এমন জিনিস, যা মাটিতে কোনো সময়ই মেশে না। কোনো ব্যাকটেরিয়ার মতা নেই তাকে ধ্বংস করে। তাই মাটিতে পলিথিন মিশে যাওয়ার অর্থ সেই মাটির উর্বরতাশক্তি চিরকালের মতো হারিয়ে ফেলা। পলিথিনের তিকর দিক জানার পরও ভালো বিকল্পের অভাবে ভোক্তারা এটি বর্জন করতে পারছেন না। ফলে পলিথিনে সয়লাব সর্বত্র।
এদিকে পলিথিনের দৌরাত্ম্য থেকে দেশবাসীকে শিগগিরই মুক্তি দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। জানা গেছে, সরকার পাট থেকে উৎপাদিত পচনশীল পলিমার ব্যাগ বা সোনালি ব্যাগ শিগগিরই বাজারজাত শুরু করবে। সোনালি ব্যাগ বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে ব্র্যান্ডিং করবে। সে জন্য সরকার যত দ্রুত সম্ভব পাট থেকে তৈরি পলিথিন ব্যাগ বাজারজাতকরণে যাবে। সরকারিভাবেই সেটি করা হবে। পরে বেসরকারিভাবে সোনালি ব্যাগের উৎপাদন ও বাজারজাতের চিন্তা আছে।
পরিবেশবান্ধব এই ব্যাগ খুব সহজে পচে যায়। পলিথিনের মতোই এটি সহজলভ্য হবে। পাটের তৈরি এ পলিব্যাগ দেখতে বাজারের সাধারণ পলিথিন ব্যাগের মতো হলেও এটি অনেক বেশি টেকসই ও মজবুত হবে। পাটের সূক্ষ্ম সেলুলোজকে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা এ পলিব্যাগ কয়েক মাসের মধ্যে পচে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। ফলে এটি পরিবেশ দূষণ করে না। এটিকে তাই পরিবেশের জন্য তিকর পলিথিনের একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে।
আশার কথা হলো, মানুষ পলিথিন ব্যাগের বিকল্প পেলে তা যে সানন্দে গ্রহণ করবে, ঢাকায় চলমান বাণিজ্যমেলায় তার প্রমাণ মিলেছে। মেলায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার আলাদা প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে পাটপণ্যের ক্রেতা-দর্শনার্থীদের কাছে নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শন করছে। সেখানে মানুষের বেশ সমাগম দেখা গেছে। তাদের আগ্রহ মূলত পাটের ব্যাগের দিকে। সোনালি ব্যাগ যদি বাজারে ছাড়া হয় তাহলে আমাদের পরিবেশের ওপর দারুণ ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বেসরকারি উদ্যোক্তারাও পাটের তৈরি ব্যাগ উৎপাদনে এগিয়ে আসবেন, এমন সম্ভাবনা ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পাটের তৈরি ব্যাগ উৎপাদনের পাশাপাশি নজর দিতে হবে এর ব্যবহারের দিকেও। পলিথিনকে নিরুৎসাহিত করে মানুষকে পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহারে বাধ্য করতে হবে। এর জন্য পলিথিন নির্মূল করতে হবে। পলিথিন উৎপাদকদের পাটের তৈরি ব্যাগ উৎপাদনে নিয়ে আসতে হবে। এতে পলিথিনের ব্যবহার কমে গিয়ে সবার হাতে হাতে ঘুরবে পাটের তৈরি ব্যাগ। নিরাপদ হবে পরিবেশ।