প্রতিবেদন

বিদেশে পড়তে যেতে যেসব প্রস্তুতি প্রয়োজন

স্বদেশ খবর ডেস্ক
দেশের বেশিরভাগ শিার্থীরই উচ্চশিার জন্য বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন থাকে। বিদেশে উচ্চশিায় আগ্রহী এসব শিার্থীর মাথায় সবার প্রথমেই যে প্রশ্নটা ঘুরপাক খায়, কিভাবে যাওয়া যেতে পারে, কত সিজিপিএ প্রয়োজন হতে পারে ইত্যাদি।
বিদেশে পড়তে যাওয়া খুব কঠিন কাজ নয়। তবে এক্ষেত্রে অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পিছে না ঘুরে নিজে নিজে চেষ্টা করাই শ্রেয়। এতে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।
ধরুন, আপনি ৬ মাস কিংবা ১ বছর পর বিদেশে পড়তে যেতে চাইছেন। প্রথম স্টেপ হচ্ছে আপনাকে প্রতিদিন বেশকিছু সময় ইন্টারনেট ঘাঁটতে হবে। ইন্টারনেটে আপনি কী তথ্য জানতে চাইবেন? শুরু করবেন গুগল সার্চ দিয়ে। ধরুন, আপনি আমেরিকায় পড়তে যেতে চাচ্ছেন কিংবা ইংল্যান্ড, সুইডেন বা জার্মানি।
এখন আপনার কাজ হচ্ছে গুগলে সার্চ দিয়ে এসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা। বিশ্বের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে তাদের ভর্তির তথ্য দেয়া থাকে এবং বেশিরভাগ েেত্র অনলাইনেই আবেদন করা যায়।
এখন আপনি যে তথ্যগুলো নেবেন, সেটা হচ্ছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে কিংবা স্কলারশিপ পেতে কী কী যোগ্যতা লাগে। দেখবেন বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা একটা সেকশন থাকে, যেখানে লেখা থাকবে ইংলিশ রিকয়ারমেন্ট। অর্থাৎ আপনাকে ইংলিশ টেস্ট স্কোর কত পেতে হবে। এছাড়া আপনার সিজিপিএ কত থাকা উচিত ইত্যাদি।
অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্য সিজিপিএ চায়ও না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়ত দেখবেন অনেক বেশি ইংলিশ টেস্ট স্কোর চাইছে, অনেক জায়গায় হয়ত আপনার যে যোগ্যতা তাতেই হয়ে যাবে, আবার এমন বিশ্ববিদ্যালয়ও পাওয়া যেতে পারে, যেখানে হয়ত টেস্ট না দিলেও চলছে।
এই তথ্যগুলো জানার জন্য আপনাকে প্রতিদিন ১০-১৫টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘাঁটতে হবে। এভাবে ওয়েবসাইট ঘাঁটতে ঘাঁটতে একটা সময় আপনি নিজে নিজেই আবিষ্কার করবেন, আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি আবেদন করতে পারবেন।
যখন আপনি দেখবেন ওদের ওয়েবসাইটে দেয়া যে যোগ্যতাগুলো দরকার সেগুলোর সঙ্গে মিলে যাচ্ছে, তখন আপনি আবেদন করবেন। সেখানে দেখবেন দেয়া আছে আবেদন করার শেষ সময় কবে কিংবা ঠিক কবে থেকে আবেদন করা যাবে। এভাবে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করবেন, সেই সঙ্গে আপনার সার্টিফিকেটগুলো আপলোড করে দেবেন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় হয়ত আপনাকে বলবে কাগজগুলোর হার্ড কপি পাঠাতে, সেেেত্র বাই পোস্টে পাঠিয়ে দেবেন।
আপনি যদি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে চান, সেই েেত্র ওরা হয়ত আলাদা একটা মোটিভেশন লেটার চাইবে, ঠিক কেন আপনি মনে করছেন, আপনাকে স্কলারশিপ দেয়া উচিত ইত্যাদি। সেটাও লিখে পাঠিয়ে দিতে পারেন। মাসখানেক বা মাস দুয়েক পরে ওরা আপনাকে ই-মেইল করে জানাবে, আপনি অ্যাডমিশন পেয়েছেন কি না। অ্যাডমিশন যদি পান, তাহলে ওরা অ্যাডমিশন লেটার পাঠিয়ে দেবে। সেই সঙ্গে আপনাকে বলবে ভিসার জন্য আবেদন করতে।
ভিসার আবেদন করা মোটেই কঠিন কিছু না। ধরুন, আপনি সুইডেনের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাডমিশন পেয়েছেন। এখন আপনাকে ভিসা কিংবা রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে। যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি চান্স পেয়েছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেই দেখবেন আলাদা করে একটা লিঙ্ক দেয়া আছে, সেই দেশের মাইগ্রেশন বোর্ডের। সেখান থেকে আপনি জেনে নিতে পারবেন কিভাবে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
তাছাড়া আপনি বাংলাদেশের সুইডিশ অ্যাম্বাসিতেও যোগাযোগ করতে পারেন। ওরা আপনাকে তথ্য দেয়ার জন্য বসেই আছে। শুধু সুইডেন না, অন্য যেকোনো দেশের দূতাবাসের েেত্র সেটা প্রযোজ্য। ভয়ের কিছু নেই! এরা বসেই আছে আপনাকে তথ্য কিংবা ভিসা দেয়ার জন্য। আপনাকে শুধু নিয়ম মেনে এগুতে হবে। বেশিরভাগ েেত্র আপনি যদি ছাত্র হিসেবে বিদেশে পড়তে যেতে চান- আপনার অ্যাডমিশন লেটার, যদি স্কলারশিপ পান- সেটার সিদ্ধান্ত আর একাডেমিক কাগজপত্র দেখাতে হয়। আর যদি স্কলারশিপ না পান, তাহলে টিউশন ফি পরিশোধ করে থাকলে সেটার স্লিপ কিংবা কিভাবে ফি পরিশোধ করবেন তার একটা ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হয়।
স্কলারশিপ না নিয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়া একদম উচিত না, যদি না আপনি ধনী পরিবারের সন্তান হয়ে থাকেন। নইলে দেখা যায়, অনেক সময়ই বিদেশে এসে আর পড়াশোনা হয় না, কাজে-কর্মে লেগে যেতে হয়। তাই স্কলারশিপ পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আর সেেেত্র অবশ্যই ভালো রেজাল্ট থাকা উচিত। তবে ভালো রেজাল্ট না থাকলে যে স্কলারশিপ পাওয়া যায় না, ব্যাপারটা কিন্তু এমনও না। অনেক সময় আপনার মোটিভেশন লেটার কিংবা আপনার এপ্রোচের কারণেও স্কলারশিপ হয়ে যেতে পারে। যে যত বেশি ইন্টারনেট ঘাঁটবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে তথ্য নেবে, তার চান্স তত বেশি। আর যদি মনে করেন স্কলারশিপ ছাড়াই বিদেশে পড়তে যাবেন, তাহলে এমন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেখানে টিউশন ফি দিয়ে পড়তে যাওয়া যায়। সেই েেত্র চান্স পাওয়া খুব কঠিন কাজ নয়।
আপনার রেজাল্ট কেমন, আপনার ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ টেস্ট স্কোর কেমন Ñ তারচেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আপনি কী পরিমাণ তথ্য ওয়েবসাইট ঘেঁটে পেয়েছেন। হয়ত এমন একটা দেশ বা বিশ্ববিদ্যালয় পেয়ে যাবেন- যেখানে সবকিছু মিলে যাচ্ছে!
আপনার যদি ইচ্ছে থাকে এবং ওয়েবসাইট ঘেঁটে ইংরেজিতে তথ্য সংগ্রহ ও সেটা বুঝার সামর্থ্য থাকে, আপনি বিদেশে পড়তে যেতে পারবেনই।