আন্তর্জাতিক

রুশ-মার্কিন নয়া স্নায়ুযুদ্ধের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে ভেনেজুয়েলা

স্বদেশ খবর ডেস্ক
রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধের নতুন ত্রে হয়ে উঠেছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। দেশটিতে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ও বিরোধীদের মধ্যে যে লড়াই শুরু হয়েছে, তা নতুন এক মাত্রা নেবে বলে মনে হচ্ছে। ২৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত জাতীয় পরিষদের নেতা হুয়ান গুইয়াদোকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার সময় স্পষ্ট হয়, দেশটিতে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে যাচ্ছে।
এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির তেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে মার্কিন সরকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন জানিয়েছেন, মাদুরোর নিয়ন্ত্রণ থেকে ভেনেজুয়েলা সরে এলে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া ও চীন। ভেনেজুয়েলার প্রতিরামন্ত্রী লোপেজ বলেছেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সেনাবাহিনী প্রাণ দিতে প্রস্তুত। অন্য দিকে বিরোধী নেতা হুয়ান গুইয়াদো বলেছেন, আমরা এখন স্বৈরশাসনের অধীনে।
মাদুরোর পত্যাগী কিছু সেনা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র চেয়েছে। আর সুপ্রিমকোর্টে গুইয়াদোর সম্পদ জব্দ ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আর্জি জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এসব ক্রিয়া-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, ভেনেজুয়েলার অবস্থা একটি সামরিক হস্তক্ষেপের দিকেই যাচ্ছে।
সামরিক হস্তেেপর জল্পনার তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর তেল অবরোধ আরোপ করে দেশটির সব অর্থ-সম্পদ আটকে দিয়ে এর কর্তৃত্ব যখন গুইয়াদোকে সমর্পণ করার কথা বলেছে, ঠিক একই সময়ে মাদুরোর পত্যাগী সেনারা অস্ত্র দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি। ভেনেজুয়েলার আটকে দেয়া অর্থ দিয়েই এখন গুইয়াদো বিদ্রোহকে সশস্ত্র রূপ দিতে অস্ত্র কিনতে পারবেন।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবেশী কলাম্বিয়ায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা পাঠাবে বলে খবর বেরিয়েছে। এই খবরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালাতে যাচ্ছে মর্মে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যথারীতি এর বিপে অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া ও চীন। রাশিয়ার কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকটের সমাধানে মধ্যস্থতার কথা বললেও দেশটি ভেনেজুয়েলাকে দুটি অত্যাধুনিক পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সম বো¤¦ার সরবরাহ করেছে। এ ধরনের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান অন্য কোনো দেশকে সরবরাহ করার দৃষ্টান্ত রাশিয়ার নেই।
রাশিয়া মাদুরো সরকারের মূল সমর্থক এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভেনেজুয়েলার সাথে তার জ্বালানি ও সামরিক সম্পর্ক অনেক উচ্চপর্যায়ে সম্প্রসারিত করেছে। এর মধ্যে ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে বাইরের হস্তেেপর বিরোধিতা করেছে কারাকাসের বৃহত্তম ঋণদাতা চীন। চীন-রাশিয়া দুই পরাশক্তি মিলেই নিরাপত্তা পরিষদে এ ব্যাপারে হস্তপে করার মতো যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো প্রস্তাব নিতে দেয়নি।
ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘস্থায়ী সংকট চীনের বড় অংকের বিনিয়োগ ও ঋণ পরিশোধকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এরপরও কূটনৈতিক পন্থার বাইরে গিয়ে সামরিকভাবে এই সংঘাতে সম্পৃক্ত না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বেইজিংয়ের।
ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থি শাসন চলে আসছিল উদার গণতান্ত্রিক ধরনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। দেশটির এক সময়ের ক্যারিসম্যাটিক বাম নেতা হুগো শ্যাভেজের অকাল মৃত্যুতে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাদুরো মতায় আসেন। এক সময়ের গাড়িচালক মাদুরো নিজ প্রতিভাবলে হুগো শ্যাভেজের হাত ধরে মতার শীর্ষ স্থানে চলে যান। তবে প্রথম মেয়াদেই তাকে শক্তিশালী বিরোধী পরে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এ সময়ে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি।
২০১৮ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৬৭ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি জয়ী হন। তবে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক বয়কটের মধ্য দিয়ে। আগের ৬ বছর শেষ হওয়ার পর গত ১০ জানুয়ারি থেকে এই নতুন মেয়াদ শুরু হয়েছে। এই মেয়াদকে অবৈধ ঘোষণা করে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা ও মাদুরোর প্রতিপ ৩৫ বছর বয়সী হুয়ান গুইয়াদো নিজেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার পর বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইয়াদোকে সমর্থন করে স্বীকৃতি দেয় আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কানাডা, চিলি, কলাম্বিয়া, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর, জার্মানি, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, পানামা, প্যারাগুয়ে, পেরু, স্পেন, ইসরাইল, যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
অন্য দিকে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সমর্থন করে বলিভিয়া, চীন, কিউবা, নিকারাগুয়া, রাশিয়া, ইরান, সিরিয়া ও তুরস্ক।
নতুন পরিস্থিতিতে ল্যাটিন আমেরিকার জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার সামনে একধরনের অনিশ্চিত অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির শাসক পরিবর্তনের এজেন্ডা যে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে, সেটি আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। ল্যাটিন আমেরিকায় বাম ধারার সরকার একের পর এক পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি করা হয়েছে প্রধানত নির্বাচনকে প্রভাবিত করার টুলসগুলোকে ব্যবহার করে। বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি মজুদের এই দেশটি তেল রফতানিনির্ভর। আর বিশ্ববাজারে এর দাম কমে যাওয়ার কারণে প্রচ- চাপে পড়ে দেশটি। রাজস্ব আয় কমে যাওয়ার কারণে দরিদ্রদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীতে ভর্তুকি দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়। মানুষের দুর্ভোগও বাড়ে। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক অবরোধ থেকে শুরু করে সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হতে থাকে ভেনেজুয়েলার ওপর।
ভেনেজুয়েলায় সমান্তরাল সরকার গঠনের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক চাপ কিছুটা বাড়লেও দেশটিতে মাদুরোর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে বলেই মনে হচ্ছে। মাদুরোকে ৮ দিনের মধ্যে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশে শাসন পরিবর্তন করতে চেয়েছে সেসব দেশে মিডিয়ার প্রচার এবং অর্থনৈতিক উপকরণকে কাজে লাগাতে চেয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকার ব্রাজিলসহ বেশ কটি দেশে নির্বাচনের মাধ্যমেই বাম ধারার সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ভেনেজুয়েলা হলো দণি আমেরিকার এমন একটি দেশ, যেখানে তীব্র মার্কিনবিরোধী জনমত এবং সমাজতান্ত্রিক ভাবাদর্শের প্রভাব রয়েছে। তবে কিউবার কমিউনিজম বা সমাজতান্ত্রিক একদলীয় শাসনের পরিবর্তে ভেনেজুয়েলার শাসনপদ্ধতি উদার গণতান্ত্রিক। এখানে নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ও সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে আসছিল। হুগো শ্যাভেজ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে মতার বাইরেও ছিলেন আবার জনগণের সমর্থনেই ফিরে এসেছেন। অর্থাৎ ভেনেজুয়েলার মডেল মধ্যপ্রাচ্যের মিসর বা আলজেরিয়ার সাথে মেলে না। এর ফলে মাদুরো প্রেসিডেন্ট থাকাকালেই তার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংসদে বিরোধী প জয়লাভ করেছে।
মাদুরোর প্রথম দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ও বিরোধী প কারচুপির অভিযোগ আনে। এবার সেই একই অভিযোগে নির্বাচন বয়কট করে বিরোধী প। বিরোধী প বিােভ সমাবেশের মাধ্যমে সরকারকে চাপে ফেলে নতুন নির্বাচনে বাধ্য করতে চাইছে। ভেনেজুয়েলার নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট মাদুরো কতটা কারচুপির জন্য প্রভাব বিস্তার করেছেন, সেটির চেয়ে বড় বিষয় হলো দেশটির সর্বশেষ এই ঘটনা ল্যাটিন আমেরিকায় রুশ-মার্কিন নতুন পর্বের স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা করলো বলে মনে হয়। এরকম একটি পরিস্থিতি যে সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, তার জন্য মাদুরো ও তার সোশ্যালিস্ট জোট আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল।
এ জন্য মাদুরো মার্কিন নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্যের বিকল্প যে বলয় রয়েছে, সে বলয়ের দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরালো করেছেন। ইরানের ওপর অবরোধ আরোপের পর যে কটি দেশ তেহরানের পাশে দাঁড়িয়েছিল তার একটি হলো ভেনেজুয়েলা। তুরস্কের অর্থনীতির ওপর যে আঘাত স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে করা হয় তখনো মাদুরো দেশটির পাশে দাঁড়ান।
মাদুরো তুর্কি অর্থনীতিকে সহায়তার জন্য বাকিতে ও ডিসকাউন্টে আঙ্কারাকে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব করেন, যার প্রতিদান হিসেবে মাদুরোর দুঃসময়ে এরদোগান তার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।
চলমান বিশ্বব্যবস্থার জন্য ভেনেজুয়েলার ঘটনাটি একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করবে বলে মনে হচ্ছে। এককেন্দ্রিক ব্যবস্থার পর ক্রিমিয়া দখল এবং জর্জিয়া অঞ্চলে রাশিয়ান প্রভাব বিস্তারের মধ্য দিয়ে আমেরিকাকে প্রথম চ্যালেঞ্জ করেন পুতিন। ইউক্রেন ও জর্জিয়া ফ্রন্টের এই লড়াইয়ে রাশিয়ার এক ধরনের জয় হয়েছে। এরপর পুতিন হাত বাড়ান মধ্যপ্রাচ্যে। সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক হস্তপে মাঠের পুরো পরিস্থিতি পাল্টে দেয়। পতনোন্মুখ বাশার আল আসাদের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় সিরিয়ায়।
ইরানে শাসন পরিবর্তনের একাধিক প্রচেষ্টায় তেহরানের পাশে দাঁড়ায় রাশিয়া। পাশ্চাত্যের প্রতি এই চ্যালেঞ্জে চীনের সাথে জোট গঠন করে রাশিয়া। চীনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক শক্তি এবং রাশিয়ার প্রতিরাসমতা মিলে একটি চ্যালেঞ্জিং জোট তৈরি হয়। পাশ্চাত্যের এই বিকল্পশক্তি কৌশলগত লড়াইয়ের নতুন কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেয় আফগানিস্তানকে। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এখন পরিণতির কাছাকাছি পৌঁছেছে। সেখানে তালেবানের সাথে আলোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কাতারের সর্বশেষ আলোচনায় হওয়া খসড়া চুক্তি অনুসারে ১৮ মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দেশটি থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে।
ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতিকে সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে হলে এই সমঝোতা হতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া-চীনের মধ্যে। তারা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পগুলোর মধ্যে সমঝোতার ব্যবস্থা করে দিতে পারে। এই সমঝোতার আওতায় একটি মধ্যমেয়াদি নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকতে পারে। কিন্তু তা না করে যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে সমাধানের পথ খোঁজা হলে এই সংঘাত ল্যাটিন আমেরিকার অন্যান্য দেশে এমনকি আমেরিকান উপমহাদেশেও ছড়িয়ে যেতে পারে। এর আগে সামরিক অভিযান বা শক্তি প্রয়োগের কৌশলে শাসন পরিবর্তনের একাধিক প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র সফল হয়নি।
এখানে অর্থনৈতিক অবরোধ ও সামরিক উপায়ে যে সমাধানের চেষ্টার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তাতে রাশিয়া-চীন বসে থাকবে না। রুশ বার্তা সংস্থা স্পুটনিককে দেয়া এক সাাৎকারে নিকোলাস মাদুরোর বক্তব্যেও বিষয়টি স্পষ্ট। ওই সাাৎকারে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন সর্বদা সর্বেেত্র আমাদের সহায়তা করছেন এবং এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে তিনি আমাদের সমর্থন দিয়েছেন। কয়েক দিন আগে তিনি আমাকে বলেছিলেন, আমরা অর্থনীতি, বাণিজ্য, তেল, গ্যাস, সামরিকবিষয়ক তথা সব এলাকায় সহযোগিতাকে জোরদার করব। সামরিক সহযোগিতার েেত্র, আমাদের সর্বোচ্চ স্তরের রাশিয়ান সরঞ্জাম আছে; সবচেয়ে আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থা এখন ভেনেজুয়েলায় রয়েছে। আমরা রাশিয়া থেকে আকাশ প্রতিরা, আর্টিলারি ও রকেট প্রযুক্তি উন্নত করার জন্য আরো সহযোগিতা নেয়ার পরিকল্পনা করেছি।
চলমান উত্তেজনাকর সময়ে মাদুরোর এই বক্তব্যে স্পষ্ট ভেনেজুয়েলায় আমেরিকা সামরিক অভিযান চালালে সেখানে রুশ সমরাস্ত্র ও সামরিক উপদেষ্টাদের মোকাবিলা করতে হবে। এ পথে এগোনোর আগে ট্রাম্পকে বিশেষভাবে ভাবতে হবে।
আর ট্রাম্প প্রশাসন উত্তেজনা তৈরি করে নিজ দেশের শাট ডাউন বা অন্যান্য ব্যর্থতার বিষয়গুলোকে আড়াল করা অথবা অভিসংশনের সম্ভাব্য উদ্যোগ ঠেকাতে চাইলে এই উত্তেজনা বেশি দূর না-ও এগোতে পারে। সে েেত্র ভেনেজুয়েলার জন্য জাতিসংঘের মাধ্যমেও একটি সমাধানের রাস্তা বের করার চেষ্টা হতে পারে।