কলাম

কোচিংবাণিজ্য বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে

গত ২ ফেব্র“য়ারি সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীা। এরই মাঝে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কোচিং চালু রাখার দায়ে রাজধানীর ফার্মগেট ও ধানমন্ডি এলাকার ৬টি কোচিং সেন্টার সিলগালা করে দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ধানমন্ডির ঝিগাতলায় জয়যাত্রা, নবদিগন্ত, অনন্য ও ব্লেইজ নামে চারটি কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম চলমান দেখতে পান র‌্যাব সদস্যরা। পরে কোচিং সেন্টারগুলো সিলগালা করে দেয় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্র“য়ারি কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকারি নীতিমালা বৈধ বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ রায়ের ফলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দেশে কোচিংবাণিজ্য বন্ধ থাকবে। এই রায়ের আগে এসএসসি ও সমমানের পরীার সময় ২৭ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন শিামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শিা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতেও এসব পরীা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। তারপরও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে বন্ধ হয়নি বেশিরভাগ কোচিং সেন্টার। জানা যায়, কোচিং সেন্টারগুলো দরজা-জানালা বন্ধ করে এবং অভিভাবকদের গোপনীয়তা রার অনুরোধ জানিয়ে পাঠদান চলাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও হাইকোর্টের রায়কে উপেক্ষা করেই বেশিরভাগ কোচিং সেন্টার তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এ কথা ঠিক যে, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে কোচিংবাণিজ্য বেড়ে যায়। বেশিরভাগ কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধেই প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ থাকে। পাবলিক পরীক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে কোচিং সেন্টারগুলোর কাজই হলো শিক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্নপত্র তুলে দেয়া। আবার অনেক অভিভাবকই তার সন্তানকে কোচিং সেন্টারে পাঠান ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্র হাতে পেতে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, অভিভাবকদের এই মনোবৃত্তির অবসান ঘটবে কিভাবে? কোচিং সেন্টার বন্ধের বিষয়ে সরকার নীতিমালা করেছে, কিছু কোচিং সেন্টার রিট করে সেই নীতিমালার বাস্তবায়ন বন্ধ রেখেছে, আবার সর্বোচ্চ আদালতই সরকারি নীতিমালাকে বৈধ ঘোষণা করে কোচিংবাণিজ্যকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। ফলে এখন কোচিং সংক্রান্ত সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নের সময় এসেছে। এজন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত অভিযান জরুরি। এ বিষয়ে সরকার শিথিলতা প্রদর্শন করলে কোচিং সেন্টারগুলো হয়ত সাইনবোর্ড খুলে দরজা-জানালা বন্ধ করে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় কোচিংবাণিজ্য চালিয়ে যাবে। তাই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদেরও কিভাবে কোচিং সেন্টারে যাওয়া থেকে বিরত রাখা যায়, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি নীতিমালা প্রণয়ন ও জরিমানা ধার্য করতে হবে। তাতে কোচিংবাণিজ্যের আগ্রাসন অনেকটাই কমে যাবে।