প্রতিবেদন

শেখ হাসিনাকে বিশ্বে দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী নেতা হিসেবে অভিহিত করলেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ও হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

স্বদেশ খবর ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বে দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত ও হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত হিসেবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থা দেখার জন্য বাংলাদেশে এসে হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেন, বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেখ হাসিনা।
গত ৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সাাৎকালে এ কথা বলেন জোলি।
জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো নেতা বর্তমান বিশ্বে বিরল। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় দেয়া একটি দুরূহ কাজ। এই কাজটিই মানবিকভাবে সম্পন্ন করছেন শেখ হাসিনা।
জাতিসংঘ, ইউএনএইচসিআর ও বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে এই চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।
রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে জোলি বলেন, তাদের শিা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ইস্যুতে বাংলাদেশ সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতা করা সত্ত্বেও রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
জোলি উল্লেখ করেন যে তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নারীদের ওপর নির্যাতন ও তাদের হত্যার সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে শুনেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের বিশেষ দূতকে গণভবনে স্বাগত জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট অবশ্যই সমাধান করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার বাংলাদেশের নিকট প্রতিবেশী এবং তাদের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তিও স্বারিত হয়েছে। তবে সেই চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারের অনীহায় হতাশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে আশ্রয় শিবিরগুলোতে ৪০ হাজারের মতো শিশুর জন্ম হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তার সরকারের গৃহীত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১ লাখের বেশি শরণার্থী সেখানে অপোকৃত উন্নত পরিবেশে সাময়িক আশ্রয় পাবে।
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের ১ কোটির বেশি লোক পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নেয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার বিবরণ দেন।
শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে তাঁর মা, তিনি ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের গৃহবন্দি থাকার এবং ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকা-ের পর ৬ বছর ধরে তার নির্বাসনে থাকার মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলির কাছে।
জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সেই বেদনাদায়ক কাহিনি শুনে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এর আগে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ৪ ফেব্রুয়ারি রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে কক্সবাজার সফর করেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূত হিসেবে তিনি রোহিঙ্গাদের মানবিক প্রয়োজনীয়তা এবং তাদেরকে আশ্রয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশ যেসব সমস্যা মোকাবিলা করছে তার সবকিছু সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
কুতুপালংয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ওই ক্যাম্পে ৬ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে।
২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এরপর ৭ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এখন দেশে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোতে অবস্থান করছে।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে ঢাকায় এসে জোলি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমিন এবং সরকারের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন।
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ইউএনএইচসিআর কিভাবে বাংলাদেশ সরকারকে আরও সহযোগিতা করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেন জোলি। এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত এই সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মানুষের সমস্যা সমাধান কিভাবে নিরাপদ ও টেকসই উপায়ে করা সম্ভব, সে বিষয়েও আলোচনা করেন হলিউড অভিনেত্রী ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।