প্রতিবেদন

শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে কাজ করতে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন নরেন্দ্র মোদি

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নতুন মেয়াদে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে ভারতের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাাৎ করতে গেলে নরেন্দ্র মোদি বলেন, বিগত কয়েক বছর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ায় ড. মোমেনকে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ভারতকে বেছে নেয়ার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপীয় সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিষয় অবহিত করেন।
আব্দুল মোমেন ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) ৫ম বৈঠকে যোগ দিতে ৬ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লি পৌঁছান। এ সফরে তিনি উচ্চ পর্যায়ের এক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। জেসিসি বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারতের কাছ থেকে কার্যকর সহায়তা প্রত্যাশা করেন।
এর আগে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক করেন ড. মোমেন। এই সফরে দু’দেশের মধ্যে দুর্নীতির তদন্ত, টেলিভিশন সম্প্রচার ও ওষুধ স্থাপনাসহ ৫টি সমঝোতা স্মারক স্বারিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পর ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে শিগগিরই তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মনমোহন। দিল্লিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মনমোহন সিংকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প থেকে শুভেচ্ছা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দল পুনরায় নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান ড. মনমোহন সিং।
বৈঠকে মনমোহন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পে ভারতের সমর্থন রয়েছে। দু’দেশের মধ্যে তিস্তাসহ সব অমীমাংসিত ইস্যু দ্রুত সমাধান হবে বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
ভারত সফর সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো আমাদের প্রতিবেশীর সঙ্গেও বিভিন্ন আলোচনার বিষয় রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা সমুদ্র এবং স্থল সীমানাসহ এর অনেক ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেছি। অন্যান্য বিষয়ও সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করি। পারস্পরিক এই সমঝোতার মাধ্যমে আমাদের মাঝে বর্তমানে সবচেয়ে অধিক ঊষ্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জেসিসি বৈঠকে দ্বিপাকি সম্পর্ক থেকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা, যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, প্রতিরা সহযোগিতা, জ্বালানি, শিপিং এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ গুরুত্ব পায়।
জেসিসি বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারত তাদের অংশীদারিত্ব দৃঢ়করণে দ্বিপীয় সহযোগিতার েেত্র একটা দূরদর্শী রোডম্যাপ তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। দুই দেশই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত লোকদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে সম্মত হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের উপস্থিতিতে ৫ম ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। মোমেন-সুষমা বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন।
যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক লোককে মানবিক সহায়তা দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করে সুষমা স্বরাজ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত লোকদের নিরাপদ, দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবর্তনে ভারতের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সর্বশেষ জেসিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায় ২০১৭ সালের ২২-২৩ অক্টোবর। এতে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সুষমা স্বরাজ। বর্তমান বৈঠককালে উভয় প ২০১৭ সালের অক্টোবরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেসিসির সর্বশেষ বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকালে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়নসহ চলমান সহযোগিতার বিষয়ে পর্যালোচনা করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাকি ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি যৌথ নদীর পানি বণ্টন, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, পরিবহন ও যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ প্রত্যেকটি েেত্র দুইটি দেশ অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তারা মহাকাশ, পারমাণবিক জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্সের মতো নতুন ও উন্নত প্রযুক্তির েেত্র বর্তমানে বিস্তৃত হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানান।
দ্বিপাকি সহযোগিতার অংশীদারিত্বকে অপরিবর্তনীয় করার ল্েয একটি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রোডম্যাপ প্রণয়নের জন্য তারা এসময় উপস্থিত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। বিশেষত তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বিষয়টিকে অংশীদারিত্ব গঠনের েেত্র গুরুত্ব দেয়ার আকাক্সক্ষা প্রকাশ করেন।
পরে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বহুমুখী সহযোগিতাকে জোরদার করার ল্েয ৪টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বার করা হয়। সমঝোতা স্মারকগুলো হলো: বাংলাদেশের ১০২৮ জন মধ্যম পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার প্রশিণ, মেডিসিন প্ল্যান্টের েেত্র বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ভারতের আয়ুস-এর মধ্যে সহযোগিতা, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)-এর মধ্যে সহযোগিতা এবং বাগেরহাটের মোংলায় ভারতীয় অর্থনৈতিক এলাকায় বিনিয়োগের ল্েয হিরানান্দানি গ্র“প ও বাংলাদেশের বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপরে মধ্যে সহযোগিতা।