ফিচার

জেনে নিন আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার নিয়মকানুন

স্বদেশ খবর ডেস্ক
প্রতি বছর বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় মিশরের আল আযহার থেকে হাজার হাজার বিদেশি ছাত্রকে স্কলারশিপ দেয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশকেও প্রতি বছর ১৫-২০টি স্কলারশিপ দেয়া হয়। শিা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ছাত্র বাছাইয়ের কাজ করে থাকে।

স্কলারশিপ
আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প থেকে যে স্কলারশিপ দেয়া হয়, তা সম্পূর্ণ বেসরকারি, তবে সুযোগ-সুবিধা সরকারি থেকে বহু গুণ বেশি।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ইসলামিক ফ্যাকাল্টিগুলোতে শিার মাধ্যম আরবি ভাষায় হওয়াতে অনারবদের জন্যে এসব ফ্যাকাল্টিতে ভর্তি কষ্টকর। যদি অন্য ফ্যাকাল্টিতে পড়তে ইচ্ছুক হন এবং সেই সাথে শিার মাধ্যম ইংরেজি চান তাহলে আপনার জন্যে রয়েছে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে অধিকাংশ ফ্যাকাল্টির শিার মাধ্যম ইংরেজি এবং আল আযহার থেকেও শিার ব্যবস্থাপনা আরো উন্নত।
বাংলাদেশ থেকে যে সার্কুলার দেয়া হয় তা এমন Ñ প্রথমে পেপার জমা হওয়ার পর সিলেক্টকৃত ছাত্রের ব্যাপারে এমব্যাসির মাধ্যমে যাবতীয় তথ্য গ্রহণ করে মিশরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী। এসব তথ্য সংগ্রহ করতে তিন-চার মাস লেগে যায়। প্রথমে পেপার্স যায় আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের স্কলারশিপ বিভাগে। সমস্ত পেপার ঠিকমতো পেলে তারা সিলেক্ট করবে।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে পেপার্স পাঠানো হয় আল আযহার বোর্ডে। সেখান থেকে আবার বাছাই হয়ে মিশরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে যায়। যাবতীয় তথ্য পাওয়ার পর তাদের কাছে যদি মনে হয়, উল্লিখিত ছাত্রটি মিশরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, তখন তারা বাংলাদেশে অবস্থিত মিশরের দুতাবাসে তাদের লিস্ট পাঠাবে। তারপর দূতাবাস সেই লিস্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

যাতায়াত
আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নিয়ম অনুযায়ী এয়ার টিকেটের খরচ আল আযহার বহন করবে। মিশরে আসা নিশ্চিত হলে আসার সময় আর তারিখ বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনকে ফোনে বা এসএমএসের মাধ্যমে জানালে অর্গানাইজেশনই এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করা এবং থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় সব কিছুর দেখাশুনা করবে।
সতর্কতা
বাংলাদেশের সাথে আল আযহার ইউনিভার্সিটির যে ইকুভিলেন্ট ছিল তা নবায়ন না করায় বাংলাদেশ থেকে আগত সমস্ত ছাত্রের ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি বন্ধ। এর আওতায় বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ ১১টি দেশ রয়েছে। তাই বর্তমানে কেউ আসার আগে তাকে অবশ্যই ভেবে আসতে হবে যে, এখানে ইউনিভার্সিটি পড়ার আগে স্কুল লেভেল থেকে শুরু করতে হবে এবং এ লেভেল মানের সার্টিফিকেট নিয়ে আল আযহার ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে হবে। এর জন্য কম পে তিন বছর সময় লাগতে পারে। এটা নির্ভর করে ছাত্রের চেষ্টা আর মেধার উপর। আরবি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। এসব বিষয় ভেবে সিদ্ধান্ত নেয়াই উত্তম।

খাবার
এখানে দৈনিক দুই বেলা খাবার দেয়া হয়। সকালে জনপ্রতি দুইটি মিশরী রুটি, ডাল, ২৫০ মিলিলিটার দুধ, একটি সেদ্ধ ডিম, জেলি, পনির, মিশরীয় মিষ্টি ও চা।
দুপুরে জনপ্রতি দুইটি মিশরী রুটি, নুডুলস মিশ্রিত মিশরীয় ভাত, সপ্তাহে তিনদিন গরুর গোশত বাকি তিন দিন ১/৪ মুরগির ফ্রাই। শুক্রবারে টুনা মাছ (কৌটা) আর সাথে ফল বা জুস। রাতের জন্য একটি প্যাকেট দেয় তাতে থাকে দুটি কাঁচা ডিম, দই, মধু, মিশরের সব চেয়ে দামি পনির ১০০ গ্রাম, রাতে রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ, মরিচ, ক্যাপসিকাম, টমেটো, গাজর, আর শসা।

খরচ
আল আযহার ইউনিভার্সিটির প থেকে বিদেশি স্কলারশিপপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের প্রতি মাসে ২০০ ইজিপ্সিয়ান পাউন্ড করে দেয়া হয়। অন্যান্য সব মিলিয়ে এটা মাসিক ৩০০ পাউন্ড হয়। এটা যথেষ্ট, যেহেতু থাকা ও খাওয়া আল আযহার বহন করে থাকে। ছাত্রপ্রতি তারা ৫০০ ডলারের মতো ব্যয় করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে সব ধরনের খেলাধুলার সুযোগ এবং জিমনেসিয়ামসহ সার্বণিক ফ্রি মেডিকেলের সুবিধা।

সুযোগ-সুবিধা
আল আযহারের বিদেশি ছাত্রাবাস কম্পাউন্ড ৪৫টি ভবন নিয়ে অবস্থিত। এসব ভবনে ১০৫টি দেশের ৫ হাজার ছাত্রের বসবাস। প্রত্যেক ছাত্রের জন্য আলাদা আলাদা রুমের ব্যবস্থা এবং তিনজন মিলে এক সাথে থাকার ব্যবস্থাও আছে। গোসলের জন্য ঠা-া ও গরম পানির ব্যবস্থা আছে।
ছেলেরা যে কম্পাউন্ডে থাকে তাকে মদিনায়ে কোবরা বা বড় শহর বলা হয়। সার্বণিক কঠোর নিরাপত্তা, দোকানপাট, ব্যাংক, হাসপাতাল, অফিস সব কিছু এবং শহর বলতে যা বোঝায়, সেরকম সমস্ত সুবিধা এখানে বিদ্যমান। মেয়েদের জন্য রয়েছে মদিনায়ে সুগরা বা ছোট শহর। এখানেও সমান সুবিধা বিদ্যমান। এখানে ৫৫টি দেশের ৫০০ জন মেয়ে পড়াশুনা করে। এই কম্পাউন্ড দুটি পরিচালনার জন্য একজন হল প্রভোস্ট আছেন। তার মতা অসীম।

আল আযহারে বাংলাদেশি ছাত্ররা
আল আযহার ইউনিভার্সিটির সুদীর্ঘ ইতিহাসে বিদেশি কোনো ছাত্রের এতো ভালো ফলাফলের রেকর্ড নেই, যা আছে বাংলাদেশি ছাত্রদের। ভারত ও পাকিস্তানের ছাত্রদের চেয়ে বাংলাদেশি ছাত্ররা ভদ্র ও নম্র বলে এখানে তাদের আলাদা কদর রয়েছে।
মিশরে বাংলাদেশি ছাত্রদের তিনটি সংগঠন কাজ করে থাকে। এই তিনটি সংগঠন থেকে নির্বাচিতদেরকে নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন, মিশর। এখানে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের কার্যক্রম হলো, বাংলাদেশ থেকে নতুন আগত ছাত্রদের যাবতীয় সহযোগিতা করা, বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ রাখা, ছাত্রদের পড়াশুনার বিষয়ে খোঁজখবর রাখা, নতুন ছাত্রদের ভর্তি ও স্কলারশিপের বিষয়াদি নিশ্চিত করা।