প্রতিবেদন

দেশের উপকূল ও সমুদ্রসীমার অতন্দ্র প্রহরী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড

স্বদেশ খবর ডেস্ক
দেশের উপকূল ও সমুদ্রসীমার অতন্দ্র প্রহরী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ১৪ ফেব্রুয়ারি সাড়ম্বরে পালিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার দুই যুগে এসে কোস্ট গার্ড বাহিনী দেশের সমুদ্র এলাকা, জলসীমা ও উপকূল এলাকায় জনসাধারণের জানমাল রক্ষা, চোরাচালান দমন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, মানবপাচার রোধ, অপরাধ দমন ইত্যাদি কাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে জনসাধারণের কাছে একটি আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
দুই. দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ নৌবাহিনী অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কোস্ট গার্ডের কার্যাবলি সম্পন্ন করলেও এটিকে একটি স্বতন্ত্র বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। অবশেষে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন সংসদে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার একান্ত উদ্যোগে একটিমাত্র বিরোধীদলীয় বিল পাস হয় Ñ সেটি ছিল বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড প্রতিষ্ঠার বিল।
১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘গার্ডিয়ান অ্যাট সি’ মূলমন্ত্রে দীক্ষিত কোস্ট গার্ড বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনী হতে ধার নেয়া দুটি টহল জাহাজ দিয়ে অপারেশনাল কর্মকা- শুরু করে।
সময়ের পরিক্রমায় কোস্ট গার্ডের অপারেশনাল কর্মকা-ের ব্যাপকতা ও ব্যাপ্তি বেড়েছে। এই বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ যুগোপযোগী আইন পুনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আইন, ২০১৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়। এই আইনের অধীনেই বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূল ও সমুদ্রসীমার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে তার অপারেশনাল কর্মকা- পরিচালিত করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আইন ২০১৬ অনুযায়ী, এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় দেশের নির্ধারিত জলসীমা ও সন্নিহিত এলাকার জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, অপরাধ সংগঠন প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, পরিবেশ ও প্রতিবেশ দূষণরোধ, মাদক পাচার প্রতিরোধ, মৎস্য সংরক্ষণ ইত্যাদি হলো এ বাহিনীর মূল দায়িত্ব। এছাড়াও এ বাহিনীর একটি প্রধান দায়িত্ব দেশের জলসীমায় কর্তব্যরত ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনাকবলিত মানুষ, নৌযান ও মালামাল উদ্ধার করা। অর্থাৎ সমুদ্র এলাকায় সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ও স্যালভেজ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব এ বাহিনীর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
কিন্তু এক্ষেত্রে এ বাহিনীর সক্ষমতা প্রত্যাশিত পর্যায়ে উন্নীত না হওয়ায় নৌবাহিনী কর্তৃক এ দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতে গধৎরঃরসব জবংপঁব ঈড়ড়ৎফরহধঃরড়হ ঈবহঃৎব (গজঈঈ)-এর দায়িত্ব বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাহিনীকে ন্যস্ত করা হবে।
কোস্ট গার্ডের আওতাধীন এলাকা দেশের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটার সমুদ্রসীমা, মহীসোপান (ঈড়হঃরহবহঃধষ ঝযবষভ), চট্টগ্রাম ও মোংলা হতে ঢাকা পর্যন্ত নৌপথ, নির্ধারিত নদ-নদী এলাকা এবং সুন্দরবনের অভ্যন্তরের সকল নদ-নদী ও খাল-বিল এলাকা যার আয়তন সমগ্র দেশের আয়তনের চেয়েও বেশি।
তিন. বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জন্মলগ্ন থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী হতে প্রেষণে নিযুক্ত অফিসার ও নাবিকগণ এ বাহিনীতে প্রশংসনীয় কর্মদক্ষতা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। এ বাহিনীর সদর দফতর ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত। ৪টি জোন (ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা ও ভোলা) ও সংশ্লিষ্ট ৫টি বেইস, ২০টি জাহাজ, ১০৩টি বোট ও ৫৪টি স্টেশান/আউটপোস্টসমূহে মাত্র ৩ হাজার জনবলের মাধ্যমে কোস্ট গার্ড বিভিন্ন অপারেশনাল কর্মকা- পরিচালনা করছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। জনবলের এ তীব্র সংকট সত্ত্বেও কোস্ট গার্ড সকল দুরূহ ও ঝুঁকিপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং কার্যক্রম নিষ্ঠার সাথে পরিচালনা করছে।
চার. কোস্ট গার্ডের প্রতিটি সদস্য পেশাগত দক্ষতা, নৈপূণ্য, সর্বোচ্চ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সীমিত জলযান ও যানবাহনের মাধ্যমে সকল ধরনের অপারেশনাল কর্মকা- পরিচালনা করে যাচ্ছে। এ বাহিনী ৪টি জোন হতে অভিযান পরিচালনা করে। তাছাড়া উপকূলীয় এলাকাসমূহ ও গভীর সমুদ্রে জেলেদের নিরাপত্তা, দেশি ও বিদেশি জাহাজের নিরাপদে গমনাগমন ও দেশের সমুদ্র এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখে। সুন্দরবন (মোংলা) এলাকা, পায়রা বন্দর, চট্টগ্রাম ও কুতুবদিয়া বহিঃনোঙ্গরে এবং সেন্টমার্টিনসসহ গভীর সমুদ্রে কোস্ট গার্ডের জাহাজ সার্বক্ষণিক টহলে নিয়োজিত থাকে।
এক সময়ে ওহঃবৎহধঃরড়হধষ গধৎরঃরসব ইঁৎবধঁ (ওগই) বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরকে ডাকাতি/ছিঁচকে চুরির (চবঃঃু ঞযবভঃ) কারণে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বন্দর হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। কিন্তু কোস্ট গার্ডের অপারেশনাল সক্ষমতায় ২০১২ সালে চট্টগ্রাম বন্দরকে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ বন্দরের তালিকা হতে বাদ দিয়ে নিরাপদ বন্দর হিসেবে ঘোষণা করে আইএমবি। যা আমাদের অর্থনীতির জন্য একটি বিশাল অর্জন।
২৫ আগস্ট ২০১৭ হতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার কারণে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলার ক্ষেত্রে কোস্ট গার্ড বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বাহিনীর জাহাজ ও বোটসমূহ নাফ নদী ও সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় টহলদানসহ টেকনাফ, সেন্টমার্টিনস, শাহপরী দ্বীপ, ইনানী বিচ, বাহারছড়া ও কক্সবাজার এলাকার সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকে।
পাঁচ. দেশের স্থলভাগে যেমন কোনো প্রকার অনুপ্রবেশ বা নিরাপত্তা সম্পর্কিত ঘটনার ক্ষেত্রে বিজিবি বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও সংস্থা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়, তেমনি সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে কোস্ট গার্ড সর্বাগ্রে সাড়াদানকারী (ঋরৎংঃ ঃড় জবংঢ়ড়হফ) সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে আধুনিক একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় (২০১৮-২১) ২টি হোভারক্রাফট, ৪টি পল্যুশান কন্ট্রোল বোট, ৪টি পল্যুশান কন্ট্রোল ইকুইপমেন্ট (সেট), ২টি ডাইভিং বোট ও ৪টি ড্রোনের পাশাপাশি ৪৪টি হাইস্পিড বোট সংযুক্ত করা হবে। এছাড়াও, রিক্রুটিংয়ে মাধ্যমে বাহিনীর নিজস্ব জনবল (অফিসার ও নাবিক) ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় (২০২১-২৫) গভীর সমুদ্রে চলাচল উপযোগী (৩৫০০ টনের ঊর্ধ্বে) জাহাজ এ বাহিনীর বহরে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ১৩০০ টনবিশিষ্ট আরো ২টি জাহাজ (ওপিভি) এ সময় সংযুক্ত করা হবে। এছাড়াও ১টি পল্যুশান কন্ট্রোল ভেসেল, ১৭টি আইপিভি ও এফপিবি, ৮টি হাইস্পিড ইন্টারসেন্টার, ৪টি হোভারক্রাফট, ২টি এমপিএ, ৬টি হেলিকপ্টার, ৪টি ড্রোন, ৪টি প্লেন ও ছোট-বড় ১০৬টি হাইস্পিড বোট সংযুক্ত করা হবে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় (২০২৬-৩০) ৩৫০০ টন ও ১৩০০ টনবিশিষ্ট ২টি করে মোট ৪টি ওপিভি, ২৩টি আইপিভি ও এফপিবি, ৪টি হাইস্পিড ইন্টারসেন্টার, ২টি হোভারক্রাফট, ৪টি এমপিএ ও ১০০টি হাইস্পিড বোট এ বাহিনীর বহরে যুক্ত করা হবে। এছাড়াও অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কর্তৃক হসপিটাল শিপ বাহিনীর বহরে যুক্ত করা এবং কোস্টাল র‌্যাডার অ্যান্ড সার্ভিলেন্স স্টেশনও পরিচালনা করা হবে।
ছয়. বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড তাদের অপারেশনাল কর্মকা- পরিচালনার পাশাপাশি দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গরিব জেলে ও স্থানীয় প্রান্তিক মানুষের মাঝে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকে:
ক. প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে পূর্বাভাস, ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা: কোস্ট গার্ডের অধিকাংশ স্থাপনা উপকূল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে বাহিনীর সদস্যরা জনসাধারণকে সতর্কবার্তা পৌঁছায়। দুর্যোগ শেষে এ বাহিনীর সদস্যরা সবসময়ই ‘সর্বাগ্রে সাড়াদানকারী’ হিসেবে সর্বপ্রথম ত্রাণ সহায়তা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণের পাশে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগকালে মানুষ ও গবাদিপশুর আশ্রয়ের জন্য এ বাহিনী উপকূল অঞ্চলে ৩০টি কোস্টাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (ঈঈগঈ) স্থাপন করেছে, যেগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ের ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু ও মোরা আঘাত হানার সময় ৫ হাজারের অধিক মানুষকে আশ্রয় দেয়া সম্ভব হয়েছে।
খ. চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ ও অন্যান্য: কোস্ট গার্ডের কর্মক্ষেত্র উপকূলীয় অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকাতেই দরিদ্র জনসাধারণের বসবাস। তাই এ বাহিনী তার কার্যক্রমের আবশ্যিক অংশ হিসেবে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের কাজ করে থাকে। বাহিনীর সদস্যরা নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকাতে মেডিকেল ক্যাম্পেইন, শীতবস্ত্র বিতরণ, লাইফজ্যাকেট বিতরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্কুল-কলেজে শিক্ষাসামগ্রী প্রদান, প্রতিবন্ধীদের স্কুলে হুইলচেয়ার প্রদান ইত্যাদি পরিচালনা ও সমন্বয় করে থাকে, যার ফলে দরিদ্র জনসাধারণের দুঃখকষ্ট লাঘব হয়।
গ. অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি: িি.িপড়ধংঃমঁধৎফ.মড়া.নফ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিভিন্ন সেবা ও তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হয়েছে। অ্যাপ্লিকেশনটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ঈঙঅঝঞ এটঅজউ ইঅঘএখঅউঊঝঐ’। অ্যাপ্লিকেশনটি গুগল প্লে স্টোরে আপলোড করা হয়েছে। যেখানে কোস্ট গার্ড সম্পর্কিত সকল তথ্য এবং প্রয়োজনীয় মোবাইল নম্বর পাওয়া যাবে।
সাত.
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতা, সুদূরপ্রসারী দিকনির্দেশনা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অপারেশনাল কর্মকা- বর্তমানে অনেক বেশি বেগবান হয়েছে এবং সাফল্যের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুত গতির জলযান সংযোজনের ফলে যেকোনো পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ের মধ্যে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। নিচের তুলনামূলক চিত্রে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সাফল্যের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপিত হলো:
অভিযান/ অপারেশনের নাম বিগত ১০ বছরের সাফল্য(২০০৯-১৮) বিগত ২০১৮ সালের সাফল্য বিগত ১০ বছরের সাফল্য(২০০৯-১৮) বিগত ২০১৮ সালের সাফল্য
চোরাচালান প্রতিরোধ ৪৯৩ কোটি ৭১ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯৭২ টাকা মূল্যমানের বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী আটক করা হয় ২৩ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা মূল্যমানের বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী আটক করা হয়।
মৎস সম্পদ রক্ষা ৮,২২০ কোটি ৩২ লক্ষ ৩২ হাজার ৭৬১ টাকা মূল্যমানের নিম্নলিখিত অবৈধ দ্রব্যাদি আটক করা হয় : ক. ২৩,৩৬,৪৮৫ কেজি জাটকাখ. ১৯৪,৮৬,৮৬,৮৪২ বর্গ মিটার কারেন্ট জালগ. ২৮,০০,৯৯,৯১৫ বর্গ মিটার অন্যান্য জালঘ. ৮,২৬,২৬৯ পিস বেহুন্দী/মশারী জালঙ. ৫৯,৫৬,৭৭,৮৫০ পিস চিংড়ি/ফাইসা পোনা ১৪৪৫ কোটি ৩ লক্ষ টাকা মূল্যমানের নিম্নলিখিত অবৈধ দ্রব্যাদি আটক করা হয় : ক. ১,৫৮,৮৫৮ কেজি জাটকাখ. ২৬,২৯,৫২,১০০ বর্গ মিটার কারেন্ট জালগ. ৭,৮৫,৩৭,৮১৫ বর্গ মিটার অন্যান্য জালঘ. ৭,৪০৫ পিস বেহুন্দী/মশারী জালঙ. ৭,১৭,৯৪,৭৫৫ পিস চিংড়ি/ফাইসা পোনা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ১,০৫৫ কোটি ৫৫ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৮ টাকা মূল্যমানের নিম্নলিখিত অবৈধ মাদক দ্রব্যাদি আটক করা হয় :ক. ১৮,২৯,২১,০৭৭ পিস ইয়াবাখ. ১,২৯,৪৬৬ বোতল/ক্যান বিভিন্ন প্রকার মদ গ. ১৫৭,৮২ কেজি গাঁজাঘ. ৪২৬ গ্রাম হেরোইনঙ. ৬,৪১,৮০০ শলাকা সিগারেট ৪৭৭কোটি ২০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের নিম্নলিখিত অবৈধ মাদক দ্রব্যাদি আটক করা হয় :ক. ৯৪,৭৪,২০০ পিস ইয়াবাখ. ১২,৭১৩ বাতল/ক্যান বিভিন্ন প্রকার মদগ. ৮৬,১৭৫ কেজি গাঁজাঘ. ৮,২০০ লিটার দেশীয় মদঙ. ১,৫২,২০০ শলাকা সিগারেট
বনজ সম্পদ রক্ষা ৫৯ কোটি ৪৬ লক্ষ ৭ হাজার ২৫৯ টাকা মূল্যের প্রায় ১,৭০,৩১৫.৭৪ ঘনফুট বিভিন্ন প্রকার কাঠ আটক করা হয় ২ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা মূল্যের প্রায় ৯,৫১০.২৮ ঘনফুট বিভিন্ন প্রকার কাঠ আটক করা হয়
দেশের ভৌগলিক স্বত্ব রূপালী ইলিশ রক্ষা কোস্ট গার্ড কর্তৃক জাটকা নিধন প্রতিরোধ ও মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের ফলে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও ভৌগলিক স্বত্ব (এবড়মৎধঢ়যরপধষ ওহফবী) প্রাপ্ত ইলিশ মাছের উৎপাদন আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী দেশে ইলিশের উৎপাদন প্রতিবছর ৮% বেড়েছে মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে এ বাহিনীকে জাতীয় মৎস্য পুরষ্কার (স্বর্ণ) প্রদান করা হয়েছে।

আট. বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পেশাগত দক্ষতা ও একনিষ্ঠভাবে অর্পিত দায়িত্ব এবং বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় কোস্ট গার্ডকে যুগোপযোগী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে ৪টি অফসোর পেট্রোল ভেসেল সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া ৭টি ইনসোর পেট্রোল ভেসেল, ২টি ফাস্ট পেট্রোল বোট, ১টি ফোটিং ক্রেন, ২টি টাগ বোট এবং ১২টি হাইস্পিড বোট সংযোজনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সাথে বাহিনীর ঘাঁটিসমূহে প্রশাসনিক অবকাঠামো নির্মাণ ও বাহিনীর সদস্যদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। বাহিনীর সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে অদূর ভবিষ্যতে এ বাহিনীতে অষষ ডবধঃযবৎ ঈধঢ়ধনষব জাহাজ, হোভারক্রাফট, ড্রোন, হেলিকপ্টার ও মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মতো প্ল্যাটফর্ম সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দেশের সমুদ্রসীমায় কার্যকরী টহল প্রদান, গভীর সমুদ্রে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন পরিচালনা, চোরাচালান প্রতিরোধ, সমুদ্রপথে মানবপাচার রোধ, উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ বিতরণ, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে অগ্নিনির্বাপণ এবং পরিবেশদূষণ রোধসহ সমুদ্র এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। এছাড়াও বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সুদক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় চলমান সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ইষঁব ঊপড়হড়সু বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিকট ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সমুদ্র এবং তার আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা বিধান অগ্রগণ্য। দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্য একটি শক্তিশালী কোস্ট গার্ডের বিকল্প নেই। সময়ের পরিক্রমা ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিপূণভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে কার্যকর, শক্তিশালী ও সক্ষম বাহিনী হিসাবে গড়ে তুলে উপকূল ও সমুদ্র এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রেখে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য উজ্জীবিত ও বদ্ধপরিকর।
উৎস: বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ক্রোড়পত্র থেকে সংগৃহীত