প্রতিবেদন

মাদক ও অস্ত্র মামলার তদন্ত ৩০ দিনে শেষ করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

স্বদেশ খবর ডেস্ক
অস্ত্র ও মাদক মামলায় ১ মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ১ মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে কী কারণে এই ব্যর্থতা তা সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতের কাছে ব্যাখ্যা করতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা যাতে যথাসময়ে তদন্ত সম্পন্ন করতে পারেন তা তদারকির জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের জন্য পুলিশ মহাপরিদর্শক ও সব এসপির প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া নরওয়েপ্রবাসী বাংলাদেশি ড. নুরুল ইসলাম শেখকে ইয়াবা মামলায় আসামি করায় মামলার বাদী জয়দেবপুর থানার এসআই আবদুল হালিমকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ওই থানা থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকা-ের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজউদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ১২ ফেব্রুয়ারি এক রায়ে এ আদেশ দেন। নরওয়েপ্রবাসী বাংলাদেশি ড. মো. নুরুল ইসলাম শেখকে একটি ইয়াবা মামলায় জড়ানোকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মামলায় এ রায় দেন আদালত।
আদালত ড. নুরুল ইসলাম শেখের প্রসঙ্গে বলেন, একজন প্রবাসী সমাজসেবা ও দেশপ্রেম থেকে দেশে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই ব্যক্তি কোনোভাবেই ১০ পিস ইয়াবা বহনের সঙ্গে জড়িত হতে পারেন না।
ভবিষ্যতের জন্য পুলিশকে সতর্ক করে দিয়ে আদালত বলেন, একজন নিরীহ মানুষকে এভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানো নিন্দনীয়। আর যাতে কোনো নিরীহ মানুষকে এভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা না হয় সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলেন আদালত।
গত বছর ২৯ নভেম্বর জয়দেবপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে পুলিশ। মামলায় ১০ পিস ইয়াবাসহ রাজু আহমেদ নামের এক আসামিকে আটক দেখানো হয়। আর আটক ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিনই রাজেন্দ্রপুরের ড. মো. নুরুল ইসলাম শেখের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। তবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ অবস্থায় ড. মো. নুরুল ইসলাম শেখ হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্ট গত বছর ৬ ডিসেম্বর তাকে জামিন দেন। একই সঙ্গে তাকে ইয়াবার মামলায় আসামি করার ঘটনা তদন্তের জন্য গাজীপুর জেলার এসপিকে নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের পর এসপি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এরই মধ্যে নুরুল ইসলাম শেখকে বাদ দিয়ে অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে এসপির করা তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে ইয়াবা আটকের ঘটনার সঙ্গে নুরুল ইসলাম শেখের কোনো সম্পৃক্ততা পায়নি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজু আহমেদের সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্র“তার কারণেই ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে নুরুল ইসলাম শেখকে। এ অবস্থায় হাইকোর্টে ওই মামলায় শুনানি শেষে উল্লিখিত আদেশ দেয় আদালত।

সরকারি ডাক্তারের প্রাইভেট প্র্যাকটিস
নীতিমালা ও কমিশন করতে হাইকোর্টের নির্দেশ
সরকারি ডাক্তারদের রোগী দেখা নিয়ে একটি নীতিমালা করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিশন গঠন করতেও বলা হয়েছে। আদালত বলেছে, বেসরকারি হাসপাতাল ও কিনিকে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার নামে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে যাতে কেউ ব্যবসা করতে না পারে, সে বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন থাকা উচিত। এই গাইডলাইন করতে স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, বিএমডিসি সভাপতি এবং বিএমএ সভাপতির প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট কিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স-১৯৮২-এর ৪ নম্বর ধারা কেন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ১২ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ দেন। স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশেনের (বিএমএ) সভাপতিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সালাহ উদ্দিন রিগ্যান, সুজাদ মিয়া, মো. আমিনুল হক ও মো. কাউছার উদ্দিন ম-লের করা রিট আবেদনে এ আদেশ দেয়া হয়।
আদেশের সময় আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকার চিকিৎসা খাতে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গেলে সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না, ওষুধ পাচ্ছে না। প্যারাসিটামল ছাড়া আর কোনো ওষুধ দেয়া হয় না।
আদালত বলেন, চিকিৎসাব্যবস্থা একটি সেবামূলক পেশা। অথচ সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে বাণিজ্য হচ্ছে। চিকিৎসকদের কাছে বাণিজ্যই যেন মুখ্য না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।