প্রতিবেদন

অবৈধভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক: যেকোনো মুহূর্তে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

হাফিজ আহমেদ
দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লি. কি সমবায় সমিতি নাকি তফসিলি কোনো ব্যাংক Ñ এ নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ। কারণ সকলের নাকের ডগায় গুরুত্বপূর্ণ স্পটসমূহে অফিস সাজিয়ে ব্যাংকের সাইনবোর্ড দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে আসছে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড। দেশে আইন-আদালত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সমবায় অধিদফতর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রয়েছে অথচ এক্ষেত্রে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। তাই অনেকে অজ্ঞতাবশত দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভকে নিয়মিত ব্যাংক মনে করে তাদের সাথে লেনদেন করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, দেশে সরকার অনুমোদিত তফসিলি ব্যাংক রয়েছে ৬২টি, যার মধ্যে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড বলে কিছু নেই। তারা অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যে কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক সংবাদমাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে কোনো ধরনের লেনদেন না করার জন্য জনসাধারণকে পরামর্শ প্রদান করেছে। পাশাপাশি সমবায় অধিদফতরও সংবাদমাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে লেনদেন করার ব্যাপারে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে।
জানা গেছে, অবৈধ ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড ১ হাজার ১২০ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করেছে। ১৫ বছর ধরে এ আমানত সংগ্রহ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগও রয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কয়েকটি সরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়ার সুপারিশ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ কিংবা দেউলিয়া হলে প্রায় পথে বসবে এ প্রতিষ্ঠানের সাথে লেনদেনকারী ২ লাখের বেশি গ্রাহক। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ না করে প্রশাসক নিয়োগের চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সমবায় সমিতির আড়ালে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড। উচ্চ সুদ বা অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সারাদেশে ১২০টি শাখার মাধ্যমে ২ লাখের বেশি গ্রাহক থেকে আমানত সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মাত্র ৩ কোটি টাকার শেয়ার মূলধনের বিপরীতে ১ হাজার কোটি টাকার আগ্রাসী আমানত সংগ্রহের চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, সমবায় অধিদফতর ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার পরিদর্শন প্রতিবেদনে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিদর্শন শেষে ২১টি পর্যবেণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটির আমানত ১ কোটি এবং বিনিয়োগ ছিল মাত্র ৫৩ লাখ টাকা। ২০১৮ সাল শেষে আমানত গিয়ে ঠেকেছে ১ হাজার ১২০ কোটি টাকায় এবং বিনিয়োগ ১ হাজার ৭১ কোটি টাকায়। সে হিসাবে সমিতির আমানত ১ হাজার ১২০ গুণ ও বিনিয়োগ ২ হাজার গুণ বেড়েছে।
প্রতিষ্ঠানের উপবিধির ১৮ ধারা অনুযায়ী, প্রতি সদস্যের অনুকূলে ন্যূনতম ১০০ টাকার শেয়ার বিতরণ করলেও সর্বনিম্ন শেয়ার মূলধন ২০ কোটি টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। এতে সুস্পষ্ট প্রমাণিত যে, প্রতিষ্ঠানটি সদস্যবহির্ভূত সাধারণ মানুষ থেকেও ব্যাংকের মতো আমানত সংগ্রহ করছে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আমানত বৃদ্ধির হার প্রায় ২৬ শতাংশ। বিগত ৫ বছরে আমানত বৃদ্ধির হার প্রায় ১২০ শতাংশ, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানত বৃদ্ধির হারের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি। প্রতিষ্ঠানটি ১২০টি শাখার মাধ্যমে সারাদেশে ব্যাংকের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা পুরোটাই বেআইনি। কারণ সমিতির কোনো শাখা হয় না। প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকের অনুমোদন নেয়নি। বরং ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১ এর ধারা ৮ লঙ্ঘন করে ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি, যা সম্পূর্ণরূপে প্রতারণামূলক। প্রতিষ্ঠানটির এ আগ্রাসী আমানত সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ করা না গেলে উচ্চ মুনাফার প্রলোভনে পড়ে আরও বিপুলসংখ্যক গ্রাহক আমানত হারানোর ঝুঁকির মধ্যে পড়বেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবু জাফর চৌধুরী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুন্নাহার স্বামী-স্ত্রী। প্রতিষ্ঠানটি একটি করপোরেট সুশাসনবিহীন পারিবারিক চক্রে আবদ্ধ, যা আমানতকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের লভ্যাংশের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা, তা প্রশ্নসাপে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকরা তাদের বিনিয়োগ করা মূলধনের ওপর ৩২২ শতাংশ মুনাফা দেখিয়ে অর্থ তুলে নিয়েছেন।
এসব দুর্নীতি সত্ত্বেও লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না কথিত দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড নামের সমবায় প্রতিষ্ঠানটির। সমবায় আইন বিধিমালারও তোয়াক্কা করছে না প্রতিষ্ঠানটি। সমবায় সমিতি (সংশোধন) আইন-২০১৩ এর ৯ (৩) ধারায় কোনো সমবায় সমিতির নামের সাথে ব্যাংক শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্য সমিতিগুলো ব্যাংক শব্দ বাদ দিলেও এরা অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করে আসছে। আবার সমবায় সমিতি (সংশোধন) আইন ২০১৩-এর ১৮ (১) ধারায় কোনো শাখা পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ এই সমবায় সমিতি শাখার কার্যক্রম কেবল অব্যাহত রাখেনি, আইন পাসের পর আরো নতুন ১৭টি শাখা এবং ৩টি উপশাখা খুলে মোট ১২০ শাখার মাধ্যমে সারাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অথচ অনেক তফসিলি ব্যাংকেরও এত শাখা নেই।
আইন অমান্য করে কিভাবে ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড শাখা পরিচালনা করছে এবং ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করছে এই বিষয়ে স্বদেশ খবর প্রতিবেদক সমবায় অধিদফতরের এক যুগ্ম নিবন্ধকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে ভয় পাই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, এই সমবায় সমিতিটি সমবায় অধিদফতরকে মামলার জালে আবদ্ধ করে ফেলেছে। কোনো কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলে মানহানি মামলা দিয়ে হয়রানি করে। আর এই মামলার খরচ বহন করতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে। যে কারণে কোনো কর্মকর্তাই রিস্ক নিতে রাজি নন। শাখা বন্ধের আইনি ধারা চ্যালেঞ্জ করে অবশ্য প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ আদালতে রিট করেছে।
তাহলে রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন শাখা কিভাবে খোলে – জানতে চাইলে তাদের ভয়ে তটস্থ এই কর্মকর্তা বলেন, নতুন শাখা খোলার েেত্র খুব উচ্চ পর্যায় থেকে সুপারিশ আসে। যে কারণে অধিদফতরের কিছুই করার থাকে না। এমনকি নানা অভিযোগের ভিত্তিতে সমবায় অধিদফতরের এক কর্মকর্তাকে নির্বাহী প্রধান হিসেবে ঐ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেয়া দূরের কথা, অফিসে ঢুকতেই দেয়া হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানের খুঁটির জোর কোথায় তা আমরা অর্থাৎ সমবায় অধিদফতরের কর্মকর্তারাই অজ্ঞাত আর জনসাধারণ পুরো অন্ধকারে।
জানা গেছে, ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। জামায়াত-বিএনপি মতায় থাকাকালে ২০০২ সালে বর্তমান চেয়ারম্যান গ্র“প ক্যাপ্টেন (অব.) আবু জাফর চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০২ সাল পর্যন্ত শাখা ছিল ৮টি। ২০১৩ সালে সমবায় আইন সংশোধন হওয়ার আগ পর্যন্ত শাখা ছিল ১০০টি। তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০টিতে। প্রতিষ্ঠানের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী সদস্য ১ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ জন। আমানত ১ হাজার ১২০ কোটি টাকা, বিনিয়োগ ১০৭১ কোটি টাকা। অথচ শেয়ার মূলধন মাত্র ৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
সমবায় বিশ্লেষকদের মতে, এটা আসলে প্রতারণা। যে বিশাল সদস্যসংখ্যা বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, তারা আসলে শেয়ার হোল্ডার সদস্যের মর্যাদা পান না। কাগজেকলমে ছাড়া কোনো নির্বাচন হয় না। এই সাধারণ সদস্যদের কখনোই ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নেয়া হয় না। সাধারণ সভায়ও ডাকা হয় না। মূলত সমবায় আইন রার জন্য নামকাওয়াস্তে কাগজপত্রে এদের সদস্য বানিয়ে ঋণ দেয়া হয় এবং আমানত গ্রহণ করা হয়। এই ধরনের সমবায় সমিতিতে অপ্রদর্শিত কালো টাকা আমানত হিসেবে রাখা হয়। এখানে ব্যাংকের চেয়ে সুদের হারও বেশি। তাই লোভে পড়ে অনেকে আমানত রাখে। পরে সর্বস্ব খোয়া যায়।
মূলত এটা সমবায়ের ছদ্মাবরণে মহাজনী সুদের ব্যবসা ছাড়া আর কিছুই না। গুটিকয়েক ব্যক্তি এর সুবিধাভোগী। বিশেষ করে একটি পরিবার। যেমন আবু জাফর চৌধুরী চেয়ারম্যান, তার স্ত্রী সামসুন নাহার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন। কথিত এই সমবায় সমিতি ব্যবসার স্বার্থে ধর্মীয় অনুভূতির ব্যবহার করছে। সমিতির নামের সাথে লিখে রেখেছে Ñ ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক আর কথিত শরীয়াহ বোর্ডের প্রধান জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত একজন মাওলানা।
এ বিষয়ে সেন্টার ফর কো-অপারেটিভ স্টাডিজের সেক্রেটারি মনজুরুল আলম স্বদেশ খবরকে বলেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো আসলে প্রকৃত সমবায় নয়, ব্যবসার স্বার্থে সমবায় দর্শনকে ব্যবহার করছে মাত্র। কিছু অসৎ ব্যক্তি ব্যাংক করতে না পেরে সমবায়ের আশ্রয় নেয়। আবার ুদ্র ঋণের েেত্র সমবায়ের আলাদা কোনো লাইসেন্স লাগে না, তাই সুদের ব্যবসায়ীরা সমবায়ের আশ্রয় গ্রহণ করে। সমবায়ের নামে প্রতারণা না করে তাদের উচিত ব্যাংকের লাইসেন্স নেয়া। এসকল সমবায় সমিতি সমবায় দর্শন অনুযায়ী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয় না। আমরা সমবায় আইন-২০১৩ বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেয়া এবং উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার চিন্তা করছি।
সম্প্রতি একই ধরনের সমবায় সমিতি চার্টার্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ গ্রাহকদের টাকা না দিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। আজিজ কো-অপারেটিভ গ্রাহকদের টাকা দিচ্ছে না। এর পূর্বে ডেসটিনি, নিউওয়ে, ম্যাক্সিম, আইডিয়ালসহ অনেক বহুমুখী সমবায় সমিতি আমানতকারীদের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড যে অনুরূপ পরিণতি বরণ করবে না তার নিশ্চয়তা দেবে কে? তাই এখনই লাগাম টেনে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বদেশ খবরকে বলেন, দি মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তদন্ত শেষে সমবায় অধিদফতরকে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী সমিতি হয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। তাই এটা বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে সমবায় অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আবু জাফর চৌধুরী, শামসুন্নাহারসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির ১৩ সদস্যের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে সমবায় অধিদফতর। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আবু জাফর চৌধুরীর অবৈধ ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ায় জেলা সমবায় কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সাপ্তাহিক স্বদেশ খবর পত্রিকার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুন্নাহারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অফিস থেকে বলা হয়, তিনি এখন অফিসে নেই। কখনও বলা হয়, তিনি মিটিংয়ে আছেন। আবার একদিন বলা হয়, তিনি কোনো সাংবাদিকের সাথে কথা বলবেন না।
এদিকে ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকেও সমবায় কার্যালয়ে পাঠানো এক স্মারকে বলা হয়েছিল, দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক অবৈধ ও অননুমোদিতভাবে সারাদেশে ১১১টি (তৎকালীন) শাখা খুলে অবৈধভাবে ব্যাংকের মতো আমানত সংগ্রহ ও দাদন কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৮৩৬ কোটি টাকা (তৎকালীন) আমানত সংগ্রহ করলেও কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। ফলে যেকোনো সময় ডেসটিনি, ইউনিপেটুইউ, ম্যাক্সিম ও আইডিয়ালের মতো দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভেরও বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভের বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যাংকিং, জঙ্গি অর্থায়ন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠায় জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। ২০১৬ সালের ৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পরিচালক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকারের স্বারিত নির্দেশনা পাঠানো হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে। নির্দেশনার সঙ্গে একটি লিখিত বক্তব্য দেয়া হয়। তারই ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। ১৮ পৃষ্ঠার ওই তদন্ত পর্যবেণে প্রতিষ্ঠানটির অবৈধ ব্যাংকিংসহ নানা দিক উঠে আসে।