প্রতিবেদন

আনিসুল হকের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার আতিকুল ইসলামের

নিজস্ব প্রতিবেদক
মাত্র ২ বছর ২ মাস ২৪ দিন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছিলেন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। এই অল্প সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে বিশ্বমানের নগর হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ণজন্মা এই মেয়র। দূরদর্শী এই স্বাপ্নিক মেয়রের উদ্যোগগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ছিল আলোচিত। এর অন্যতম রাজধানীবাসীর অভিযোগ সরাসরি শুনতে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘নগর’ নামে একটি অ্যানড্রয়েড অ্যাপ চালু। ২০১৬ সালের ২ আগস্ট উদ্বোধন করা হয় অ্যাপটি। কিন্তু স্পন্সরের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় সেটি। এখন সেই অ্যাপটি আবার চালুর উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম।
বনানীতে সাধারণ নগরবাসীর জন্য ফুডকোর্ট চালু করার উদ্যোগ নেন আনিসুল হক। ফুডকোর্টের নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো তা চালু করতে পারেনি সংস্থাটি। এই ফুডকোর্ট চালু করবেন বলে নিশ্চয়তা দেন নতুন মেয়র আতিকুল ইসলাম।
রাজধানীর ভয়াবহ যানজট নিরসন এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৬টি কোম্পানির মাধ্যমে ৪ হাজার বাস নামানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সর্বশেষ গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর আনিসুল হকের প্রস্তাবনাগুলো আমলে নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কমিটি গঠন করা হয়; কিন্তু অদ্যাবধি কোনো রূপরেখা তৈরি করতে পারেনি কমিটি। নতুন মেয়র এই কমিটি সক্রিয় করবেন বলে জানিয়েছেন।
ফুটপাত ও ফুটওভার ব্রিজ নারী-শিশু-প্রতিবন্ধীবান্ধব করার ঘোষণা দিয়েছিলেন আনিসুল হক। বনানী ও বিমানবন্দর এলাকায় দুটি ওভারব্রিজে চলমান সিঁড়িও বসানো হয়; কিন্তু বেশিরভাগ ফুটপাত হকারের দখলে। তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তার সড়কটি উদ্ধারের পর বহুতল ট্রাকস্ট্যান্ড করার পরিকল্পনা ছিল আনিসুল হকের। কিন্তু ট্রাকস্ট্যান্ড বানানো সম্ভব হয়নি। সড়কটি আবারও ট্রাক মালিকদের দখলে চলে গেছে। ডিএনসিসির সকল ফুটপাত হকারমুক্ত করার এবং তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা সড়কটি উদ্ধারেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নতুন মেয়র আতিকুল ইসলাম।
কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন আনিসুল হক। কাঁচাবাজার স্থানান্তর করে যাত্রাবাড়ী, মহাখালী ও আমিনবাজারে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। এই ৩টি জায়গায় এরই মধ্যে কাঁচাবাজার নির্মাণ করেছে সিটি করপোরেশন; কিন্তু বিকেন্দ্রীকরণ হয়নি আজও।
সরকারি ভবন, পার্ক বা অন্য কোনো স্থাপনা ঘিরে দেয়ালেরও বিপে ছিলেন আনিসুল হক। দেয়াল বাড়তি কোনো নিরাপত্তা দেয় না, বরং স্থাপনার সৌন্দর্য হরণ করে Ñ এটি বিশ্বাস করতেন তিনি। ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে নতুন বাজারে খেলার মাঠে স্থাপিত দেয়াল তুলে দিয়ে মনোরম পরিবেশ বাইরে থেকে দেখার সুযোগ করে দেন পথচারীদের।
প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের এ ধরনের ব্যতিক্রমী কাজগুলো শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডিএনসিসির নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম। আলোকিত ঢাকা, সড়ক নিরাপত্তা ও গণপরিহনের শৃঙ্খলা, ফুটপাত উদ্ধার এবং ডিজিটাল সেবাসহ ৮ বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।
২ মার্চ রাজধানীর উত্তরার বাংলাদেশ কাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অগ্রাধিকারের কথা জানান তিনি। আতিকুলের দেয়া এই ৮ অগ্রাধিকারের মধ্যে ৬টিই প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে আনিসুল হক মারা যাওয়ার পর বেশিরভাগ উদ্যোগ চালু রাখতে পারেনি ডিএনসিসি।
আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবা উন্নততর করার ল্েয স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ১ বছর ২ মাসের মতো মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ায় আপাতত স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে চান নতুন মেয়র। ডিএনসিসি এলাকাকে বৈদ্যুতিক বাতির আলোয় আলোকিত করা, ‘নগর অ্যাপ’ সচল করা, নাগরিকসেবা ডিজিটাল করা, ফুটপাত দখলমুক্ত করে নাগরিকদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া, পরিবেশ দূষণ রোধ করা এবং নতুন অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নে প্রাধান্য দিতে চান আতিকুল ইসলাম। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনা এবং পার্ক, খেলার মাঠ তৈরি ও বনায়নের মাধ্যমে সবুজ ঢাকা বিনির্মাণে অধিকতর গুরুত্ব দিতে চান তিনি। তবে কত দিনের মধ্যে এই ৮ অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন করা হবে, তা পরিষ্কার করেননি তিনি।
নতুন মেয়র আরো বলেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে এই ৮ বিষয়কে প্রাধান্য দিতে চাই আমি। এই কাজগুলো বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত চলমান তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। ডিএনসিসির সার্বিক উন্নয়নে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করতে চাই আমি।
ফুটপাত ও অন্যান্য স্থাপনা উদ্ধারে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কতটুকু পাবেন Ñ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আতিকুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে মেয়র নির্বাচনে নৌকার টিকিট দিয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮ জন সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন নির্বাচনে পেয়েছি। তাই ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সবার সহযোগিতাও পাব বলে আমার বিশ্বাস।
আতিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সময় যেসব পোস্টার লাগানো হয়েছে, তা সরিয়ে ফেলতে সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া পোস্টার সরানোর জন্য একটি দল মাঠে নেমেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আতিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত এবং জনগণের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে সরকার ও জনগণ অবশ্যই আমাকে আমার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।