প্রতিবেদন

উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সক্রিয়তা দরকার

মেজবাহউদ্দিন সাকিল
বর্তমান সরকার দেশের শিা েেত্র বেশকিছু যুগান্তকারী পদপে নিয়েছে। এই পদপেগুলো আমাদের শিাব্যবস্থাকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিার েেত্র বেশকিছু সময়োপযোগী ও কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিয়ে সফলতার সাথে এর বাস্তবায়ন দেখিয়েছে। নিঃসন্দেহে তা প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু উচ্চশিা, যা হাজারটা সমস্যার আবর্তে আবর্তিত, তা উত্তরণের জন্য আমরা যেসব পদপে দেখছি, তা আশাব্যঞ্জক হলেও এতে গতি দেখা যাচ্ছে না।
দেশের উচ্চশিার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ২০১৬ সালের ২৮ মার্চ অ্যাক্রেডিটেশন (স্বীকৃত) কাউন্সিল আইন ২০১৬-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
খসড়ায় বলা হয়, ১১ সদস্যের এই কাউন্সিলের নেতৃত্ব দেবেন সরকারনিযুক্ত একজন চেয়ারম্যান। অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সনদ ছাড়া কোনো শিাপ্রতিষ্ঠান উচ্চশিার সনদ দিতে পারবে না। কোনো শিাপ্রতিষ্ঠান ভুল তথ্য দিলে বা কোনো তথ্য গোপন করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং তাদের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল হবে।
খসড়ায় আরো বলা হয়, কাউন্সিলের মূল দায়িত্ব হবে উচ্চশিা প্রতিষ্ঠানের শিার গুণগত মান নিশ্চিত করা, শিাকার্যক্রম যাচাই করে স্বীকৃতি দেয়া। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবেদনের পরিপ্রেেিত প্রতিটি বিভাগ, কোর্স বা প্রোগ্রামের (ডিসিপ্লিন) জন্য পৃথক কমিটি গঠন করে এ সম্পর্কে যাচাই করবে কাউন্সিল। এরপর ওই শিাপ্রতিষ্ঠানকে অ্যাক্রেডিটেশন ও কনফিডেন্স সনদ দেয়া হবে। এই সনদের একটি নির্ধারিত মেয়াদ থাকবে। সনদ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে তা শিাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনে দিতে হবে।
এই কাউন্সিল যৌক্তিক কারণে শিাপ্রতিষ্ঠান বা এর অধীন কোনো ডিগ্রি প্রোগ্রামের অ্যাক্রেডিটেশন ও কনফিডেন্স সনদ বাতিলও করবে। কাউন্সিলকে তার কাজের জন্য সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
একজন চেয়ারম্যান ও ১০ জন সদস্য নিয়ে এই কাউন্সিল গঠিত হবে। গুণগত মান ও স্বীকৃতির বিষয়ে বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন ও প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কমপে ২৫ বছরের শিকতা (এর মধ্যে কমপে ১০ বছর অধ্যাপক) ও উচ্চশিার প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন অধ্যাপক হবেন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।
সদস্যদের মধ্যে অধ্যাপক পদমর্যাদার ৪ জন শিাবিদ পূর্ণকালীন এবং ৬ জন খ-কালীন সদস্য থাকবেন। খ-কালীন সদস্যদের মধ্যে থাকবেন ইউজিসির একজন সদস্য, শিা মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার নিচে নয়), অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের সভাপতি বা তার মনোনীত ওই অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিষদের একজন সদস্য, কাউন্সিলের মনোনীত বিদেশি কোনো অ্যাক্রেডিটেশন সংস্থার একজন বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী সংস্থার একজন প্রতিনিধি এবং সরকারমনোনীত ফেডারেশন অব চেম্বারের একজন শিল্পোদ্যোক্তা।
দেখা যাচ্ছে, ৩ বছর আগে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন ২০১৬-এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হলেও এই কাউন্সিল গঠনে তেমন কোনো তোড়জোড় নেই। জানামতে, অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাকি ১০ সদস্যের ১ জনকেও নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিতে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল এখনও তাদের কার্যক্রম শুরুই করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে রাষ্ট্রমতায় আসীন হয়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিার উন্নয়ন নিয়ে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্রতী হন। সেই ল্েয জাতীয় শিানীতি-২০১০ প্রণীত হয়। পাশাপাশি উচ্চশিার মান ও এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কারের প্রস্তাবনা আসে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজসমূহকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ন্যস্ত করার পরামর্শ প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণা পরিচালনা করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক অধ্যাপক মো. মোহাব্বত খানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওই কমিটি শিা মন্ত্রণালয়ের কাছে যে রিপোর্ট পেশ করেছে তাতে ১৯টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধিভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক রূপরেখা দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরাও তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্প্রতি শুরু হয়েছে ঢাকা শহরের ৭টি সরকারি কলেজের অধিভুক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যস্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে।
ব্যবস্থাপনার ধীর গতি, শিার্থীদের পরিচয় সংকটের পাশাপাশি নানামুখী আন্দোলনও আমরা দেখতে পাচ্ছি। এই অবস্থায় সামগ্রিক বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন হয়ে থাকে মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এ েেত্র একটি ব্যতিক্রম। এই প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের মতা দিয়ে আইন করা হয়েছে। স্বাধীনভাবে অর্থ উত্তোলনের মতাপ্রাপ্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির মধ্যে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃত্বে শ্রেণিকে পাঠদানকারী শিকদের অংশগ্রহণ নেই। শুরুতে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে বিসিএস সাধারণ শিা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হলেও ধীরে ধীরে তা শূন্যে নেমে আসে।
উচ্চশিায় অব্যবস্থাপনা ও মানের সাথে সমঝোতার বিষয়টি কেবল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে অসংখ্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক নতুন নতুন বিষয় খোলা হয়েছে। শিক নিয়োগ এবং নতুন বিষয় খোলার েেত্র মান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
আরেকটি বিষয় লণীয় যে, পুরাতন ৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পর নতুন করে প্রায় শ’খানেক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হয়েছে, কোনোটিকেই ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশের আওতায় আনা হয়নি। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনেক বেশি করে সচিবালয়ের মুখাপেী থাকতে হয়। তাই উচ্চশিার সংস্কারে যেকোনো পদপে নিতে গেলে সবদিক বিবেচনা করে অগ্রসর হওয়া উচিত। নইলে মানের উন্নয়নের পরিবর্তে নতুন নতুন জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এই নতুন জটিলতা নিরসনের জন্যই শিক্ষা ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন ২০১৬-এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। কিন্তু সে আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।
উচ্চশিার সুযোগ সকলের জন্য নাকি কেবল মেধাবীদের জন্য – এই বিতর্ক সমাজে রয়েছে। তত্ত্বীয় জ্ঞাননির্ভর উচ্চশিার বিস্তার কতটুকু হওয়া উচিত সে বিতর্কও আছে। কারিগরি শিা ও পেশাভিত্তিক শিার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বিস্তর আলাপ-আলোচনা হয়ে থাকে। এতকিছু সত্ত্বেও কোনো বিবেচক ব্যক্তি সাধারণ মানুষের সন্তানদের উচ্চশিা লাভের অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না।
বাংলাদেশে উচ্চশিার উল্লেখযোগ্য অংশ সরবরাহ করছে সরকারি কলেজসমূহ। সরকারি কলেজগুলোর জনবল বিসিএস সাধারণ শিা ক্যাডারভুক্ত। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিসিএস পরীার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনসাধারণের আস্থা রয়েছে। একটি একক সার্ভিসের সদস্য হওয়ার কারণে এই পেশার জনবলকে একটি সুনির্দিষ্ট ল্েয পরিচালনা করার সুবিধা রয়েছে। তাই উচ্চশিার সংস্কারে এই পেশাটিকে যথোপযুক্তভাবে ব্যবহার করতে পারলে রাষ্ট্র লাভবান হবে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এই সম্ভাবনা সত্ত্বেও কাজ হচ্ছে সম্পূর্ণ বিপরীত। জাতীয় শিানীতি, ২০১০-এ প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়েছে। নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠার বিকল্পটি ব্যবহার না করেই অতীতের ন্যায় বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের পথেই আমরা অগ্রসর হয়েছি। শিাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে শিার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রাধান্য না পেয়ে সংশ্লিষ্ট শিকদের আকাক্সক্ষা পূরণই একমাত্র ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে ৪২টি কলেজের জনবল বিসিএস সাধারণ শিা ক্যাডারে আত্তীকৃত হয়েছে। আরও ২৮২টি কলেজ সেই প্রক্রিয়ায় অপেমান। সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর জনবল ক্যাডারবহির্ভূত রেখে বিধি তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনাটিকে সঠিকভাবে অনুসরণ না করলে উচ্চশিায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আমরা ল্য করছি, জাতীয় শিানীতি এবং অন্য জাতীয় কমিটিসমূহের পরামর্শগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। ফলে সমস্যা ও সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
উচ্চশিা বিস্তারে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজগুলো সিংহভাগ দায়িত্ব পালন করলেও বেসরকারি কলেজও অনেকটা এগিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিগত দুটি নির্বাচনি ইশতেহারেও বেসরকারি কলেজসমূহের উন্নয়ন এবং সেখানকার জনবল নিয়োগে কমিশন গঠনের প্রস্তাবনা রয়েছে। এই অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের গুরুত্ব অনেক। আমরা যেহেতু সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে চাচ্ছি, রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানের সুষম বিকাশ ছাড়া সেটা সম্ভব নয়। শিক্ষা সংক্রান্ত অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের এতদিনে যতটা বিকাশ হওয়া উচিত ছিল, তার কিছুই হয়নি।
১৯৮৪ সালে প্রশাসনিক সংস্কারে ব্রিগেডিয়ার এনামুল হক খানের কমিটির রিপোর্টে শিা মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরসমূহের বিস্তারিত কার্যবিবরণী দেয়া হয়। রিপোর্টে বিসিএস সাধারণ শিা ক্যাডারের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিা অধিদপ্তরের কাজের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। এনাম কমিটির সুপারিশগুলোর একটি অন্যতম পরামর্শ ছিল উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করা।
বলা বাহুল্য, কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ অনুসরণ করা হয়নি। একই সময়ে (১৯৭৯) বহুল আলোচিত ঝগচ ঙৎফবৎ জারি হয়। সেই আদেশে প্রজাতন্ত্রের উপ-সচিব ও তদূর্ধ্ব পদসমূহে নিয়োগের জন্য সকল ক্যাডারসমূহের সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত পরীার ব্যবস্থা ছিল। ট্র্যাজেডি হলো, আইন থাকা সত্ত্বেও পরবর্তী দীর্ঘ ১০ বছরে সেই আইনের প্রয়োগ হয়নি। সচিবালয়ে একটি একক পেশার নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থেকেছে।
এর পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রমতায় এলে সাবেক সচিব এটিএম শামসুল হকের নেতৃত্বে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন ২০০০ সালের ৩০ মে একুশ শতকের জনপ্রশাসন নামে তিন খ-ের একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে বলা হয়েছে সরকারের উপ-সচিব, যুগ্ম-সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিবের সমন্বয়ে সচিবালয়ে সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট পুল (এসএমপি) গঠন করতে হবে। উপ-সচিব পদে নিযুক্তি হবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) কর্তৃক পরিচালিত প্রতিযোগিতামূলক পরীার ভিত্তিতে।
মন্ত্রণালয়ের বিভাগসমূহের গুচ্ছের উপ-সচিব পদের জন্য সকল ক্যাডারের সিনিয়র স্কেলভুক্ত এবং ন্যূনতম ৮ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাগণ পরীা দেয়ার যোগ্য হবেন। এর ফলে সচিবালয়ে সকল ক্যাডারের প্রতিনিধিত্বের এবং প্রতিভাবান কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
শামসুল হক কমিশন জনপ্রশাসনে বিদ্যমান ব্যবস্থা পাল্টে সার্ভিসগুলোকে ৩টি গুচ্ছে পুনর্বিন্যাস করার পরামর্শও দিয়েছেন। এর উদ্দেশ্য হলো পেশাগত দতা বৃদ্ধি ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞানকে লালন করা।
এসব অব্যবস্থাপনা নিরসনে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠনের বিষয়টি বলা হয়েছে প্রায় সব কমিশনের রিপোর্টেই। একাধিক কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠিত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেখানে একজন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া ছাড়া দৃশ্যত আর কোনো কাজ হয়নি।
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পুরোপুরি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। ল ল শিার্থীর ভর্তি, পরীক্ষার ফরম পূরণ, পরীা গ্রহণ ইত্যাদি কাজের জন্য কোনো সরকারি জনবল সৃষ্টি করা হয়নি। এখানে একটি জোড়াতালির পরিবেশ বিরাজ করছে। অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলকে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলে উচ্চশিার সমন্বয়ের দায়িত্ব আরো বেশি করে তার নিয়ন্ত্রণে আনা হলে সুফল পাওয়া যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
উচ্চশিার েেত্র প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকারি কলেজের পরিচালনায় কিভাবে আরও স্বাধীনতা দেয়া যায় সেটিও ভাবতে হবে। আর এই স্বাধীনতা দেয়ার কাজটি সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে পারে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও নানা সংকটে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিা ইনস্টিটিউটগুলোকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা আছে। সেখানকার গবেষণার ফলাফল বাস্তব েেত্র প্রয়োগ করতে হবে। গবেষণার সুযোগ-সুবিধাকে একটি নিয়মিত কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। প্রয়োজনে শিা ক্যাডারের জন্য একটি স্বতন্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়া যেতে পারে। একটি পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতিতে শিা ক্যাডার নিয়ন্ত্রিত বিশ্ববিদ্যালয়ও নির্মাণ করা যেতে পারে। এমন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসকল সীমাবদ্ধতা রয়েছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে।
আমাদের রাষ্ট্রে সুপারিশ তৈরি করার চেয়ে কঠিন কাজ হলো তা বাস্তবায়ন করা। কলেজ জাতীয়করণ নিয়ে সাম্প্রতিক জটিলতা তার বড় প্রমাণ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিার প্রায় পুরোটাই রাষ্ট্র সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে। জাতীয় শিানীতি, ২০১০-এ প্রাথমিক শিায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে নাকচ করা হয়েছে। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় এই ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। তবে উচ্চশিায় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে গেলে একই পদ্ধতি কাজ করবে না।
এখানে স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান বিকাশের বিকল্প নেই। তারপরও মূলধারার শিাব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের একটি সবল উপস্থিতির প্রয়োজন রয়েছে। আর এই উপস্থিতি নিশ্চিত হয় অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে।
সচিবালয়ে ফাইলভিত্তিক প্রশাসনের সনাতন কাঠামোয় উচ্চশিার প্রকৃত যতœ সম্ভব হবে না। ফাইল অবশ্যই থাকবে, তবে তা শ্রেণিক শিকতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে দৃষ্টিভঙ্গিগত অগ্রগতি সাধিত হবে।
সদ্যস্বাধীন দেশে অধ্যাপক কবীর চৌধুরীকে শিা মন্ত্রণালয়ের সচিব নিযুক্ত করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার অভিপ্রায় পরিষ্কার করেছেন। উচ্চশিায় সঠিক ফল পেতে হলে আমাদেরকেও বিশ্ববিদ্যালয় ও মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে শিাসংশ্লিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিদের মতায়ন নিশ্চিত এবং উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিতে শিক্ষা বিষয়ক অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলকে আরো সক্রিয় করতে হবে।