কলাম

খুন-ধর্ষণ রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয় দূর করতে হবে

সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে মাদক ও জঙ্গিবাদের মতো অনেক সামাজিক অপরাধের পাশাপাশি খুন-ধর্ষণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সমাজের বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিশেষ করে সমাজের অনেক সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিও এতে জড়িয়ে পড়ছে। অনেকেই একে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হিসেবে দেখছেন। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা একে সামাজিক অবক্ষয় বলেই মনে করছেন। তাদের মতে, সমাজ বা রাষ্ট্র তথা বিশ্বায়নের এ যুগে আধুনিকতা ও স্বাধীনতার নামে চলছে উচ্ছৃঙ্খলতা। অবাধ স্বাধীনতার নামে বর্তমান সমাজ বা পরিবারে কেউ কাউকে মানছে না বা মানতে চাইছে না। আর রাষ্ট্র যেহেতু একটি বৃহৎ পরিবার, তাই সঙ্গত কারণে সমাজ বা পরিবারের নেতিবাচক কর্মকা-ের প্রভাব পড়ছে রাষ্ট্রে। একসময় ছিল যখন পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন ছিল বেশ শক্তিশালী, তখন পরিবার বা সমাজে একে অন্যের ওপর প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ ছিল। এখন পরিবার বা সমাজ অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার কারণে কেউই কারো কথা শুনছে না, যে যার মতো করে কাজ করছে। এতে পারিবারিক, সামাজিক তথা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রবণতা অতীতের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে।
এমতাবস্থায় সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্র থেকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও খুন-ধর্ষণের মতো সামাজিক অপরাধ দূর করতে হলে কেবলমাত্র পুলিশ-র‌্যাব বা সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে থাকলে হবে না। বরং এসব ক্ষেত্রে সামাজিক দুর্বার আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং মানুষকে সচেতন করতে হবে। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবার ও সমাজ থেকে নৈতিক অবক্ষয় দূর করতে হবে। এতে করে পরিবার ও সমাজ থেকে এ ধরনের ঘৃণ্য সামাজিক অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।
আমরাও মনে করি, মাদক ও জঙ্গিবাদের ন্যায় খুন-ধর্ষণের মতো সামাজিক অপরাধ কেবল পুলিশ-র‌্যাব বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে নির্মূল করা সম্ভব নয়। বরং এক্ষেত্রে সমাজ থেকে সামাজিক অবক্ষয় দূর করতে হবে। পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বাড়াতে হবে। পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করতে হবে এবং পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে একের ওপর অন্যের নিয়ন্ত্রণহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। সকল ক্ষেত্রে আমাদেরকে পুলিশ-র‌্যাব বা সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে তাকিয়ে না থেকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিবার বা সমাজের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে হবে। আমাদের স্ব স্ব কর্মকা-ের তদারকি ও জবাবদিহিতা পরিবার বা সমাজেই নিশ্চিত করতে হবে। এতে করে ব্যক্তির ওপর পরিবার ও সমাজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্র থেকে খুন-ধর্ষণের মতো সামাজিক অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। পরিবার তথা সমাজে অধিকতর শান্তি ও স্বস্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।