ফিচার

ঘুরে আসুন আজমির শরিফ ও রাজস্থানের মরুভূমি

স্বদেশ খবর ডেস্ক
বিশ্বায়নের এ যুগে মানুষের চিন্তাচেতনা ও জীবনমান হয়েছে অনেক উন্নত। জীবনের তাগিদে পরিশ্রম ও কান্তি শেষে মানুষ খুঁজে ফেরে কিছুটা প্রশান্তি-বিনোদন। ইদানীং কাজের ফাঁকে অবসর বিনোদনের জন্য ভ্রমণকে জীবনের অপরিহার্য অংশ বলেই মনে করা হয়। তাই দেহ-মনকে চাঙা করার জন্য ঘুরে আসুন দেশ-বিদেশের দর্শনীয় কিছু স্থান থেকে।
স্বদেশ খবর চলতি সংখ্যায় ভ্রমণ বিষয়ক এবারের বিশেষ আয়োজনে থাকছে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের আজমির শরিফ ও রাজস্থানের মরুভূমি ঘুরে আসার প্রয়োজনীয় কিছু টিপস।
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশ রাজস্থানের পবিত্র নগরী আজমীরে থাকতে মাজার রোড ধরে সোজা সড়ক অথবা এর আশপাশের সড়কের হোটেলে থাকাটাই ভালো। তাহলে পায়ে হেঁটে সহজেই আজমীর শরিফ পৌঁছে যাওয়া যায়। হোটেলে থাকতে হলে বাংলাদেশিদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হতে পারে। কারণ বিদেশি হলেই একটি অনলাইন ফরম পূরণ করতে হয়। এই পদ্ধতি যদি কোনো হোটেলে না থাকে তাহলে বিদেশিদের এসব হোটেল কর্তৃপ রাখতে চাইবে না।
মাজার রোড থেকে সোজা বের হয়ে একদম শেষ প্রান্তে বাম দিকে কয়েক পা ফেললেই চোখে পড়বে রিগালসহ বহু হোটেল। বাংলাদেশিরা কেউ আজমীরে এলে সাশ্রয়ী ও বেশি দামে দুই ধরনের কই পাবেন। ১৫০০ রুপি থেকে শুরু করে ৪৫০০ রুপিতে এসি রুমও মিলবে। তবে ১৫০০ রুপির ক নন এসি। কেউ দরকষাকষি করলে দু’-এক শ’ টাকা কমাতেও পারবেন।
উষ্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত আজমীরের গড় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্ষা মৌসুমে নিয়মিত বৃষ্টি হয়। আবার শীত মৌসুমে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রিতে নেমে আসে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর – এই সময়েই মূলত বৃষ্টি হয়।
ভারতের যেকোনো প্রদেশের সঙ্গে রেল ও সড়কপথে এই শহরের চমৎকার যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশ হতে কেউ আজমীরে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে সরাসরি কলকাতাগামী সৌহার্দ্য, শ্যামলী, গ্রিনলাইন, সোহাগের টিকিট সহজেই কিনতে পারবেন। এই পরিবহনগুলো সরাসরি বেনাপোল চলে আসে। এরপর এদেরই লোক ভারতগামী প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে পাসপোর্ট জমা নিয়ে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের প্রক্রিয়া শেষ করতে সহযোগিতা করেন।
সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করলে আরেকবার কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন শেষে বাস কাউন্টারে কিছুণ অপো করতে হবে। সবমিলিয়ে সীমান্ত পার হয়ে বাস ছাড়তে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক সময় লাগবে। বেনাপোল থেকে ৮৪ কিলোমিটার পথ যেতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার বেশি লাগে না।
কলকাতা এসে শিয়ালদহ থেকে সরাসরি আজমীরের ট্রেন পাওয়া যায়। এর মধ্যে অনন্যা এক্সপ্রেস উল্লেখযোগ্য। ২ হাজার রুপি থেকে ৩ হাজার রুপির পর্যন্ত ৩ ধরনের ভাড়া রয়েছে এতে। কোনোটায় বসে, কোনোটায় শুয়ে যাওয়া যায়। এর মধ্যে এসি ও নন-এসি রয়েছে। এই ট্রেনে আজমীর যেতে সময় লাগবে প্রায় ৩৪ ঘণ্টা। ত্রেবিশেষে সময় আরও বেশিও লাগতে পারে। ট্রেনটি আজমীরের রেল স্টেশনে নামিয়ে দেয়ার পর মাজার সড়কে যেতে অটোরিকশায় ৩০ রুপি, রিকশায় ২০ রুপিতে যাওয়া সম্ভব।

কী দেখবেন
প্রথমেই আপনি দরগা শরিফ ঘুরে দেখতে পারেন। এখানে সবসময় ইবাদাতবন্দেগি হতেই থাকে। সারাদেশ এবং দেশের বাইরে থেকে এখানে মানুষ আসে।
আজমির শহর: আপনি চাইলে আজমির শহরের অলিগলি ঘুরে দেখতে পারেন। একটি বিষয় বলে রাখা ভালো যে, এখানে খুব কম দামে বিছানার চাদর, লেহেঙ্গা, পাঞ্জাবি ইত্যাদি কিনতে পাওয়া যায়। চাইলে খুব ভালো মানের আতর কিনতে পারবেন।
পুস্কর: একটি গাড়ি ভাড়া করুন। সারা দিনের জন্য ভাড়া ৮০০-১০০০ রুপি। বসতে পারবেন ৭-৮ জন। এরপর বেরিয়ে পড়–ন সারা দিনের ট্রিপে। পুস্করের প্রতিটি স্থান আপনাকে অবাক করে দেবে। মরুভূমির সাদা পাহাড়, পুরনো মন্দির, পুস্কর লেক, মরুভূমিতে সূর্যাস্ত সবই অপূর্ব। চাইলে রাজস্থানি পোশাক পরে উটে চড়ে ঘুরে দেখতে পারেন মরুভূমি। উটে চড়ে মরুভূমি দেখার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না, সে এক অন্য আনন্দ। নিজেকে বেদুইন মনে হবে। সেখানে আপনি দেখবেন বিখ্যাত কারান আর্জুন ছবির সুটিং স্পট, টিভি সিরিয়াল দিয়া অর বাতি হাম-এর সুটিং স্পট, আমলকি ও গোলাপের বাগান। সন্ধ্যায় উঁচু পাহাড় থেকে পুস্কর শহর দেখে মনে হবে যেন আকাশের তারাগুলো মাটিতে নেমে এসেছে। এ ছাড়া পুস্কর লেকের সৌন্দর্য মুগ্ধ করে দেবে যেকাউকে।
তারাগড় ফোর্ট: বিস্ময়ে মুগ্ধ হতে চান তাহলে ঘুরে আসতে পারেন তারাগড় ফোর্ট। পাহাড়ের ওপর নির্মিত প্রাচীন এই ফোর্টটির কারুকার্য সত্যিই বিস্ময়কর।
আকবর ফোর্ট: আজমির শহরে অবস্থিত এই ফোর্টটি মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন বহন করছে। এটি বর্তমানে জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে। এখানে রয়েছে বেশকিছু নিদর্শন। প্রবেশমূল্য বিদেশিদের জন্য ৫০ রুপি।
আনা সাগর লেক: রাজা আনাজি চৌহান এই লেকটি খনন করান, যা আজমিরের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। এই লেকটি মনভরে দেখে আসতে পারেন। এছাড়া ঘুরে দেখতে পারেন আড়াই দিন কা ঝোপড়া, সাই বাবা মন্দির, দৌলতবাগ ইত্যাদি।
কী করবেন: শপিংয়ের জন্য দরগা বাজার বেছে নিতে পারেন। চামড়ার কিছু যেমন ব্যাগ, জুতা ইত্যাদি কিনতে চাইলে ড্রাইভারকে বলুন তিনিই আপনাকে নিয়ে যাবেন। কিছু বিশেষ খাবার যেমন লস্যি, পোহা, বিরিয়ানি এবং রাজস্থানি খাবার ডাল বাতি চুরমা খেয়ে দেখতে পারেন।
যা মনে রাখবেন: দরগা এলাকায় পবিত্রতা বজায় রাখুন। সন্ধ্যার আগেই মরুভূমি থেকে ফেরত আসুন। যেখানে ফটো তোলা নিষেধ সেখানে তা করা থেকে বিরত থাকুন। পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে রাখুন। সবার সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করুন এবং নিরাপদে দেশে ফেরত আসুন।