প্রতিবেদন

জাতীয় পাট দিবস-২০১৯ ও বহুমুখী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধনকালে শেখ হাসিনা : পাটশিল্পকে লাভজনক করতে নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

হাফিজ আহমেদ
পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পাট ও পাটপণ্যের রফতানির জন্য প্রণোদনা সুবিধা প্রদানের কথা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাটশিল্প তথা পাটপণ্যকে টেকসই করে এ খাতকে লাভজনক করার লক্ষ্যে কার্যকর পদপে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
গত ৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পাট দিবস-২০১৯ এবং বহুমুখী পাটপণ্য মেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পাট এমন একটি পণ্য যার কিছুই ফেলনা নয়। অতএব কেন এতে লোকসান হবে? আমি কোনো লোকসানের কথা শুনতে চাই না, বরং পাটশিল্প কিভাবে লাভজনক হবে সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।
এবারের পাট দিবসের স্লোগান ছিল ‘সোনালী আঁশের সোনালী দেশ, জাতির পিতার বাংলাদেশ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন পণ্য উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমরা এই খাতকে লাভজনক করতে পারি। সরকার সবসময় এই খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা দিচ্ছে। আমরা চাই বেসরকারি খাত এই খাতের প্রতি আরও গুরুত্ব দিক। বেসরকারি খাত এই খাতে যত বেশি গুরুত্ব দেবে পাটশিল্প ততই বিকশিত হবে।
তিনি বলেন, সরকার দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে অন্যান্য খাতে উদ্দীপক সুবিধা দিচ্ছে। পাট খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের এই সুবিধা দেয়া হবে, যাতে তারা আরও বেশি পাটপণ্য রফতানি করতে পারে। অন্যান্য রফতানিমুখী পণ্য যে ইনসেনটিভ পাচ্ছে, পাটপণ্যের েেত্রও তা দেয়া হবে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম। মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মিজানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাট পরিবেশবান্ধব, বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য আঁশ। শিল্প বিপ্লবের সময় থেকেই অন্যান্য কৃত্রিম আঁশের স্থান দখল করে পাটের যাত্রা শুরু। পাটের আঁশের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অন্য অনেক আঁশের সঙ্গে মিশ্রণ করে একে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া এ আঁশ পচনশীল বিধায় পরিবেশের তি করে না। দেশে পাট উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রায় আমরা পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ ও পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা, ২০১৩ প্রণয়ন করেছি। সরকার ইতোমধ্যে ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার, চিনি ও মশলাজাতীয় পণ্যসহ ১৯টি পণ্য মোড়কীকরণে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। এই আইন বাস্তবায়নের ফলে দেশের অভ্যন্তরে প্রতি বছর প্রায় ১৫০ কোটি পাটের বস্তার চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, পাটপণ্যকে বহুমুখী করার বিষয়টিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছি। জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ৬৫০ জন বেসরকারি উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়েছে। ওই সকল উদ্যোক্তা পাটের প্রায় ২৮০ ধরনের পণ্য তৈরি, বাজারজাত ও রফতানি করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাটের সুতা, বস্তা, চট, কার্পেট ইত্যাদি প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি পাট দিয়ে পর্দার কাপড়, কুশন কভার, কার্পেট, শাড়ি ইত্যাদি তৈরি হয়। গরম কাপড় তৈরির জন্য উলের সঙ্গে মিশ্রণ করা যায়। পাটখড়ি থেকে উন্নত মানের কার্বন তৈরি হচ্ছে। পাটের আঁশ থেকে প্রসাধনী, ওষুধ, রঙ ইত্যাদি তৈরি সম্ভব। বাঁশ ও কাঠের বিকল্প হিসেবে পার্টিকেল বোর্ড, কাগজের ম- ও কাগজ তৈরিতেও পাটখড়ি ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি পাট থেকে জুট পলিমার তৈরির পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে, যা দিয়ে পলিথিন ব্যাগের বিকল্প সোনালি ব্যাগ তৈরি করা হচ্ছে।
সোনালি ব্যাগের ব্যবহার দ্রুত প্রসারের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা রফতানি নীতি ২০১৮-২১ ঘোষণা করেছি। এর আলোকে পাটজাত পণ্যের মান উন্নয়ন ও বাজার সম্প্রসারণের জন্য পণ্যভিত্তিক শিল্প এলাকা গড়ে তোলার জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, সোনালি আঁশ পাটকে বিশ্বব্যাপী ব্রান্ডিং করতে হবে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ রা আন্দোলন জোরদার হওয়ায় পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে। পাট চাষ সম্প্রসারণ এবং অধিক হারে পাটপণ্য ব্যবহার করে আমরা পরিবেশ রা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী পাট খাতের বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৪টি পুরস্কার তুলে দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বিআইসিসি চত্বরে মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।