প্রতিবেদন

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : জঙ্গি-সন্ত্রাস-মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন এবং প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণ দেন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় এদেশের জনগণ একাদশ সংসদে আওয়ামী লীগকে বেছে নিয়েছে। তাছাড়া আমরা ১০ বছরে যে উন্নয়ন করেছি সেই উন্নয়ন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা দুর্নীতি করতে আসিনি, জনগণের সেবা করতে এসেছি, জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি। আমি মনে করি অসৎভাবে বিরিয়ানি খাওয়া থেকে সৎভাবে বসবাস করে যদি নুন-ভাতও খাওয়া যায়, তার তৃপ্তি আলাদা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ ভোটাররা ব্যাপকভাবে আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছে। নারীরা আমাদের নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছে। এটা আর কিছু না, আমরা ১০ বছর সরকারে থেকে যে উন্নয়ন করেছি সেই উন্নয়নের ছোঁয়াটা একেবারে গ্রামবাংলার মানুষের ঘরে পর্যন্ত পৌঁছেছে। তারই ফলে একটা আস্থা বিশ্বাস আমরা অর্জন করতে সম হয়েছি। এত বেশি সমর্থন দিয়েছে অনেকে বিশ্বাসই করতে পারেনি, চিন্তাই করতে পারেনি।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষ আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযানকে সমর্থন করেছে। ভোটের মধ্য দিয়ে এটাই বলেছে, তারা জঙ্গিবাদ দেখতে চায় না, সন্ত্রাস দেখতে চায় না, মাদক দেখতে চায় না, দুর্নীতি দেখতে চায় না, এর বিরুদ্ধে তারা নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা রেখেছে। নৌকায় ভোট দেয়ার কারণে আওয়ামী লীগ জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছে।
সংসদ নেতা বলেন, সামরিক সরকারগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিয়েছিল। তারা ১০ টাকার জিনিস কিনে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করত। তাদের সময় মুষ্টিমেয় কিছু এলিট শ্রেণি তৈরি করেছিল। যে কারণে দুর্নীতি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছিল। মাথার থেকে যদি দুর্নীতি হয় আর সেটা যদি নিচ পর্যন্ত যায় সেটা নির্মূল করা খুব কঠিন। তবে আমরা সেই প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। কই আমাদের বিরুদ্ধে তো বিশ্বব্যাংক পর্যন্ত দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল, প্রমাণ করতে পারেনি। এখানে তো দুর্নীতি করতে আসিনি জনগণের সেবা করতে এসেছি, জনগণের কাজ করতে এসেছি। যার জন্য আমরা দুর্নীতি অনেক কমিয়ে আনতে পেরেছি। কিন্তু একটা সমাজের গভীরে যখন দুর্নীতি পৌঁছে যায় সেখান থেকে ফিরিয়ে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়, কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি, দুর্নীতি বন্ধ করতে। দুর্নীতি যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি বলেই আজ আমাদের উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে। তা না হলে তো উন্নয়ন দৃশ্যমান হতো না। প্রযুক্তি ব্যবহার করছি বলেই আজকাল টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের কথা শোনা যায় না।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদে এসে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ভোটের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংসদে আসুন, যত কথা বলার আছে বলুন, আমরা কোনো বাধা দেব না।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটের রায়ে নৌকার বিজয় হয়েছে। বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট জঙ্গি-সন্ত্রাস-মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণে নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছে দেশের জনগণ। জনগণ আর জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-মাদক-অগ্নিসন্ত্রাস দেখতে চায় না, নির্বাচনে তাই প্রমাণিত হয়েছে।
বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়, সমঝোতা স্মারক স্বারিত হয়েছে। রাশিয়া, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনামসহ পৃথিবীর অনেক দেশের সঙ্গে আমাদের প্রতিরা চুক্তি আছে। সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করেছি অবকাঠামো নির্মাণ, কারিগরি সহায়তায়, দেশটির স্থল সীমানায় মাইন অপসারণের জন্য।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, অন্য কোনো দেশে যুদ্ধ হলে সেখানে আমাদের সেনাবাহিনী সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। পবিত্র মক্কা ও মদীনার নিরাপত্তা রায় যদি প্রয়োজন হয়, সেখানে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কাজ করবে। এখনে ভুল বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই।