প্রতিবেদন

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা : বঙ্গবন্ধুহত্যার মাস্টারমাইন্ডদের মুখোশ উন্মোচনে গণতদন্ত কমিশন গঠনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকা-ের নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ডদের মুখোশ উন্মোচনে একটি গণতদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, হত্যাকা-ের নেপথ্য নায়কদের বিচার না হলে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের পরিপূর্ণ বিচার অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। জেনারেল জিয়া ও খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রা ও পুরস্কৃত করার কারণে তাদেরও বিচার হওয়া উচিত। কারণ এরাও বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের রণ স্লোগান জয় বাংলাকে সংবিধান সংশোধন করে জাতীয় স্লোগান ঘোষণারও দাবি জানান তারা।
প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে ১০ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম এ মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, সাবেক মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল, আবদুল মান্নান, আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক) এবং জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও কাজী ফিরোজ রশীদ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জাতীয় চার নেতা জীবন দিয়ে গেছেন, তবুও বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেননি। অনেক পাহাড়সম সংকট পাড়ি দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের হাল ধরে আজকের এই অবস্থায় এনেছেন। ১৫ আগস্টের খুনিরা বিরোধী দলের চেয়ারে বসেছিল, এটা ভুললে হবে না। খালেদা জিয়া এখন জেলে আছে। বিরোধী দলবিহীন বাংলাদেশ কেউ চায় না। বিএনপির ভুল রাজনীতির কারণে তাদের আজকের এই অবস্থা। পাপ করেছেন, পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেই হবে। হত্যার রাজনীতি ও দুঃশাসনের কারণে তারা এখন ফল ভোগ করছে।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, সংবিধানকে পদদলিত করে জেনারেল জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার বন্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দিয়ে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছে। এটা অমার্জনীয় অপরাধ। জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে খালেদা জিয়াও বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল রশিদকে বিরোধী দলের নেতা বানিয়েছেন। খুনিরাই এসব করতে পারে। এ কারণে খালেদা জিয়ার বিচার হওয়া উচিত। জঙ্গিবাদের উত্থান, অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে শত শত মানুষ খুন করে খালেদা জিয়াই হত্যার রাজনীতি চালু করেছিলেন। আর তারেক জিয়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যাসহ পুরো আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করতে চেয়েছিল।

বিশ্বে হিলারি কিনটনের চেয়ে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা অনেক বেশি মন্তব্য করে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, এই হিলারিই বিশ্ব ব্যাংককে দিয়ে আমাদের গায়ে দুর্নীতির কালিমা লেপন করতে চেয়েছিলেন। ২০১৮ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে, মতাধর শত নারীর তালিকায় রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা ২৬তম স্থান অর্জন করেছেন। আর হিলারি কিনটন, যিনি বিশ্ব ব্যাংককে আমাদের পেছনে লাগিয়েছিলেন, সেই হিলারি আগে তিনের মধ্যে থাকলেও এখন পিছিয়ে একশর কাছাকাছি গিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিএনপি-জামায়াতের রেখে যাওয়া অকার্যকর দেশকে শেখ হাসিনা ১০ বছরে একটি সম্ভাবনাময় দেশে উন্নীত করেছেন। চারদিকে শুধু সফলতা আর সফলতা। বিএনপি-জামায়াত অগ্নিসন্ত্রাসের নামে শত শত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে তা দমন করতে পেরেছিলেন বলেই বাংলাদেশকে উন্নয়নের দিক দিয়ে পুরো বিশ্বে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছেন। আমরা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দমন করেছি, অনেক বাবা-মা জঙ্গিদের লাশ পর্যন্ত নিতে চায়নি। জলদস্যু ও বনদস্যুদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে অভিযান চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত ও শিল্প উন্নয়ন বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান বলেন, শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নন, বঙ্গবন্ধুসহ তার পুরো পরিবার অত্যন্ত দেশপ্রেমিক, সৎ, মেধাবী ও নিষ্ঠাবান। প্রধানমন্ত্রী ও শেখ রেহানার প্রতিটি ছেলে-মেয়েই উচ্চশিতি, উচ্চ ডিগ্রিধারী। মাত্র ১০ বছরে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশের যে উন্নয়ন করেছেন, তা সত্যিই অকল্পনীয়।
জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই একটিমাত্র স্লোগানে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। অথচ জাতীয় পার্টি, বিএনপি এমনকি সরকারি কর্মকর্তারা জয় বাংলা বলেন না কেন? এটি দলীয় স্লোগান নয়, জাতীয় স্লোগান। সংবিধান সংশোধন করে জয় বাংলা স্লোগানকে জাতীয় স্লোগানের স্বীকৃতির দাবি জানান তিনি।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দেশের এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে উন্নয়ন হয়নি। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। আর এ চলমান উন্নয়ন-সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় যারা শামিল হবেন না, তারা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিপ্তি হবেন।