কলাম

ঢাবি ক্যাম্পাসকে শান্ত রাখতে ছাত্রলীগকে অধিক সহনশীল আচরণ করতে হবে

শান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ডাকসু নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে কিছুটা অশান্ত হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত মাসে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগ ভিপি ও একটি সম্পাদকীয় পদ ছাড়া পূর্ণ প্যানেলে জয়লাভ করে। ওই দু’টো পদ চলে যায় কোটা আন্দোলন সমন্বয় পরিষদের দখলে। হল সংসদ নির্বাচনেও ছাত্রলীগ একক প্রাধান্য বিস্তার করে।
নির্বাচনের ক’দিন পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডাকসুর নবনির্বাচিত নেতাদের গণভবনে চা-চক্রের আমন্ত্রণ জানিয়ে ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে মিলেমিশে ডাকসুর কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছাত্রলীগ নেতাদের নির্দেশ দেন। ছাত্রলীগ নেতারাও প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, তারা ভিপি নুরের নেতৃত্বে ডাকসুর কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহনশীল আচরণ করবেন।
কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলছে না। মনে হচ্ছে, ছাত্রলীগ কোটা আন্দোলনের নেতা নুরকে ডাকসুর ভিপি হিসেবে মেনে নিতে পারছে না। আর এ জন্যই নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর।
গত ২ এপ্রিল এসএম হল ছাত্রসংসদের স্বতন্ত্র এক ভিপি প্রার্থীকে মেরে রক্তাক্ত করার ঘটনায় শিার্থীদের নিয়ে বিচার চাইতে গেলে নুরের ওপর চড়াও হয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় নুরকে হল প্রাধ্যরে কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে প্রাধ্যক্ষ ডাকসু ভিপিকে নিয়ে এসএম হল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও তাঁর সামনেই নুর আরেক দফা ডিমাঘাতের মুখে পড়েন। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের এই ধরনের আচরণ কিছুতেই কাক্সিক্ষত নয়।
জানা যায়, নুরের ওপর যারা ডিম নিক্ষেপ করেছে, তারা ডাকসুর কেউ নয়, তারা এসএম হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা। এখানে দৃশ্যতই লক্ষ্য করা যাচ্ছে, হল শাখা ছাত্রলীগ নেতাদের ওপর ডাকসুর কেন্দ্রীয় নেতাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। থাকলে হল শাখা ছাত্রলীগ এমন ন্যক্কারজনক আচরণ করতে পারত না। অথচ এই নেতিবাচক আচরণের দায় এখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা ডাকসুর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের ওপরই ফেলছে। তেমনি এর দায়ভার এখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ওপরও বর্তাচ্ছে।
তাই অন্য অনেকের মতো আমরাও মনে করি, ঢাবির ছাত্রলীগ নেতাদের মনে রাখতে হবে, তাদের আদর্শ ও আচার-আচরণের ওপরই সমগ্র ছাত্রসমাজ এমনকি দলের ভাবমূর্তি নির্ভর করছে। কেবল ঢাবিই নয়, সারাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ধরে রাখতে ডাকসুর ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে অধিক সহনশীল আচরণ করতে হবে।