কলাম

পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রচার অপপ্রচার

ড. মিল্টন বিশ্বাস
২২ ফেব্রুয়ারি (২০১৯) এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ ভালো থাকলে কিছু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। দেশে যদি কোনো মার্শাল ল জারি হয়, অসাংবিধানিক শক্তি মতা দখল করে, তখন তারা খুব শান্তিতে থাকে। কারণ তারা মতার বাতাস পায়। সে আশায় তারা জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে।’
প্রধানমন্ত্রীর কথার সূত্র ধরে বলতে হয়, জনগণের ভাগ্য নিয়ে ভয়ঙ্কর ছিনিমিনি খেলা শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, যখন তিনি দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারপ্রধান হিসেবে দেড় মাস সময় অতিবাহিত করেছেন, ঠিক তখন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার মধ্য দিয়ে সরকার-সেনাবাহিনী সম্পর্ক তিক্ত করে ফেলার চেষ্টা এবং বিডিআর জওয়ানদের বিদ্রোহের আগুন সেনাবাহিনীর জওয়ানদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার টার্গেট নেয়া হয়। সেই চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি। কিন্তু ওই নির্মম ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রচার এবং অপপ্রচার চলতে থাকে দেশ-বিদেশে।
২০১৬ সালের ১১ জানুয়ারি রাজধানীর এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, অন্তর্জ্বালা থেকে বিভ্রান্তিমূলক মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনমনে অস্বস্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত।
ওইদিন তিনি পিলখানা হত্যাযজ্ঞ এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার নিয়ে কথা বলেন; বিডিআর বিদ্রোহে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জড়িত বলে তাঁর সন্দেহের কথাও জানান। বিডিআর বিদ্রোহের দিন লন্ডন থেকে তারেক রহমান ফোন করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছাড়তে বলেছিলেন। বিদ্রোহ শুরুর আগেই খালেদা জিয়া সকালে বাড়ি ছাড়েন। আর তারেক রহমান লন্ডন সময় রাত একটায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭ সাতটা) ৪৫ বার ফোন করেন। শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ওই দিনের ঘটনা দেখে প্রতীয়মান হয়, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহে খালেদা জিয়া তারেক রহমানের যোগসূত্র ছিল। অথচ খালেদা জিয়া তাঁর ভাষণে দোষারোপ করেন বিডিআর বিদ্রোহ নাকি আওয়ামী লীগই করেছে। এভাবে খালেদা জিয়া আর তাদের সমর্থকরা দীর্ঘ ১০ বছর ধরে পিলখানা হত্যাযজ্ঞ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
২.
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় দরবার শুরু হওয়ার মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মাথায় গুলি হয়। গুলির পরই দরবার হলে ছুটোছুটি এবং পিলখানার অভ্যন্তরে একমাত্র দক্ষিণ দিক ছাড়া পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর দিক থেকে গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। বিডিআর জোয়ানরা একে অপরকে বলতে থাকে, ‘অফিসারদের ধর’। এভাবে শুরু, তারপর একে একে ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাকে বীভৎসভাবে হত্যা করা হয়। সব মিলে ৭৪ জন মানুষকে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল সেদিন।
ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল সে সম্পর্কে ২০১৩ সালে ঘোষিত বিচারের রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ ওই বিচার প্রক্রিয়ার রায়ে ১৫২ জনের ফাঁসি হয়েছে। বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন পিন্টুসহ ১৬১ জনের যাবজ্জীবন কারাদ- এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদ-সহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আদেশ হয়েছে ২৬২ জনের। আবার রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় খালাস পেয়েছে ২৭১ জন।
সুশৃঙ্খল একটি বাহিনীর অপরাধী সদস্যদের বিচার শেষ করার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কারণ জিয়ার শাসনামলে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত সংঘটিত ২১টি সামরিক অভ্যুত্থানে সেনা ও বিমান বাহিনীর ১২০০-এর বেশি সদস্য নিহত হলেও সেই অভ্যুত্থানের কোনো দৃশ্যমান বিচার হয়নি। এমনকি অনেক মামলার নথিও গায়েব হয়ে গেছে। তাহলে পিলখানা হত্যাকা- নিয়ে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার মানুষের অপপ্রচারের উদ্দেশ্য কী? অন্যদিকে শেখ হাসিনা সরকার সেই ঘটনায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের পুনর্বাসনে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়ে নানাবিধ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন। কেবল আর্থিক অনুদান নয় ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর করে নির্বাহের জন্য সকল ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।
পিলখানা হত্যাকা-ে শহীদ অফিসারদের পরিবারবর্গকে গত ১০ বছরে দেয়া হয়েছে আর্থিক অনুদান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তরফ থেকে ৬১টি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে অনুদান প্রদান। সকল শহীদ পরিবার পেনশন কম্যুটেশন বেনিফিট প্রাপ্তি। সেনাবাহিনী কল্যাণ তহবিল থেকে সকল পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান। উপরন্তু সেনাবাহিনী পরিবার নিরাপত্তা প্রকল্প তহবিল থেকে সকল পরিবার ৮ লক্ষ টাকা (সৈনিক পরিবার ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা) করে পেয়েছেন। আবার বিডিআর তহবিল থেকে সকল পরিবার (সৈনিক পরিবার ব্যতীত) ৫০ হাজার টাকা করে প্রাপ্ত হয়েছেন। ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ কর্তৃক প্রত্যেক পরিবারকে (সৈনিক পরিবার ব্যতীত) মাসিক ৪০ হাজার টাকা করে (বার্ষিক ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা) ১০ বছর পর্যন্ত মোট ৪৮ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছে। সৈনিক পরিবারকে সেনাবাহিনী কল্যাণ তহবিল থেকে মাসিক ১০ হাজার টাকা করে (বার্ষিক ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা) মোট ১০ বছর পর্যন্ত ১২ লক্ষ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। ২ লক্ষ টাকার ট্রাস্ট ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড প্লেসমেন্ট শেয়ার গ্রহণ করেছেন ৫৬টি পরিবার। প্রত্যেক পরিবার সিএসডি থেকে এককালীন ২১ হাজার ৩ শত টাকার নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং সিএসডি ডিসকাউন্ট কার্ড পেয়েছেন।
কেবল আর্থিক সুবিধা নয়, শহীদ পরিবারবর্গ অন্যান্য সুবিধাও প্রাপ্ত হয়েছেন। যেমন শহীদ পরিবারের ৪ জন সদস্য ভর্তি/টিউশন ফি ব্যতীত বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছেন। সেনাবাহিনীর অধীন বিভিন্ন স্কুল/কলেজে অধ্যয়নরত শহীদ পরিবারের মোট ৪৫ জন শিশুর ভর্তি/টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর অধীন নয় এমন স্কুল/কলেজে অধ্যয়নরত (পিটারপেন, রাজউক, রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল, শাহীন স্কুল) শহীদ পরিবারের মোট ৩২ জন শিশুরও ভর্তি/টিউশন ফি দিতে হয়নি। শহীদ পরিবারের মোট ১১ জন ছেলে/মেয়ে বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজে পড়ছে।
অসহায় পরিবারগুলোর জন্য আবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। কেবল আবাসন নয়, চাকরি এবং স্বাস্থ্যসেবাও দরকার ছিল তাদের। এজন্যই ৪৬টি আগ্রহী শহীদ পরিবারকে বিভিন্ন সেনানিবাসে সরকারি বাসস্থানে অবস্থানের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি শহীদ পরিবার অদ্যাবধি সেনানিবাসে (সরকারি বাসা, স্বপ্নচূড়া অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে) বসবাস করছেন। মোট ৬০টি পরিবারের মধ্যে (১ জন অবসরপ্রাপ্তসহ) ১২ জন অফিসার পূর্বেই ডিওএইচএস/রাজউকের প্লট পেয়েছিলেন। বাকি ৪৭ জনকে চাকরির মেয়াদ বিবেচনায় প্লট/ফ্যাট প্রদান করা হয়েছে; যেমন ৩৮টি শহীদ পরিবারকে ডিওএইচএস মিরপুর, মহাখালী ও চট্টগ্রামে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ৬টি শহীদ পরিবারকে ডিওএইচএস মিরপুরে ২টি করে ফ্যাট প্রদান করা হয়েছে (১৮ বছর চাকরি পূর্ণ না হওয়ায় প্লট পাননি)। ৪টি শহীদ পরিবার, যারা পুনর্বিবাহ করেছেন তাদেরকে ডিওএইচএস মিরপুর ১টি করে ফ্যাট প্রদান করা হয়েছে (১৮ বছর চাকরি পূর্ণ না হওয়ায় প্লট পাননি)। সৈনিক পরিবারকে সাভার খেজুরটেক সেনাপল্লি আবাসন প্রকল্পে ১টি ফ্যাট প্রদান করা হয়েছে। সকল শহীদ পরিবারকে এএইচএস এ প্লট (সৈনিক পরিবার ব্যতীত) প্রদান করা হয়েছে যা, ডিওএইচএস এ প্লট প্রাপ্তির অতিরিক্ত। শহীদ একজন সৈনিকের পরিবারকে সাভার খেজুরটেক সেনাপল্লি আবাসন প্রকল্পে বিনামূল্যে ১টি ফ্যাট প্রদান করা হয়েছে। মোট ৩১ জন শহীদ পরিবারের সদস্যকে বিভিন্ন চাকরি দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩ জন বিদেশে চাকরি পেয়েছেন (২ জন লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ১ জন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন)। সকল শহীদ পরিবার সিএমএইচে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন। সকল শহীদ পরিবারের সেনানিবাসের বাসায় টেলিফোন সংযোগ প্রদান, ১৫টি শহীদ পরিবারের হাউজ বিল্ডিং লোন (মূলসহ) মওকুফ এবং সেনানিবাসে অবস্থানরত সকল শহীদ পরিবারকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দুগ্ধ কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ৩টি শহীদ পরিবারের কম্পিউটার লোন মওকুফ এবং আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য ৫ জন শহীদ অফিসারের পিতা/মাতাকে সেনাবাহিনী কল্যাণ তহবিল হতে ২০১৬ সালে ১৫ লক্ষ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানেও শহীদ পরিবারবর্গকে চাহিদা অনুযায়ী প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
তবু থেমে নেই সরকারবিরোধীদের অপপ্রচার।
৩.
শহীদ পরিবারগুলোকে আওয়ামী লীগ সরকারের তরফ থেকে সাধ্যমতো সহায়তা করা এবং পুনর্গঠিত বিজিবিকে ঢেলে সাজানো হলেও বিরোধী তথা পাকিস্তানি দালালদের নানান অপপ্রচার এখনো সরব। তবে একথা সত্য যে শেখ হাসিনা ওই হত্যাযজ্ঞ পরিস্থিতি সেদিন দতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছিলেন। প্রচলিত আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেও সরকার অপরাধীদের বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করেছে।
২০০৯ সালে মহাজোট সরকারের নেতৃত্বে গণতন্ত্র নতুন করে বিকশিত হওয়ার সময় চক্রান্তকারীদের পিলখানা হত্যাযজ্ঞ দেশের ইতিহাসে মর্মন্তুদ ঘটনা। মতা গ্রহণের মাত্র ৪৭ দিনের মাথায় এই বর্বরোচিত ঘটনা কিসের আলামত ছিল? সেনাবাহিনীর ৫৭ কর্মকর্তা হত্যার শিকার হবার পরেও গোটা ফোর্স ধৈর্য ধারণ করেছিল ন্যায় বিচারের অপো করে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি সেনাবাহিনীর এর চেয়ে বড় অবদান আর কী হতে পারে? মহাজোটের সেই আমলেই সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আরো একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এসব কেবল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা থেকেই সম্ভব হয়েছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯-এ বিডিআরদের উদ্দেশে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা জানেন, গতকাল (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে যে অনাকাক্সিত ঘটনা ঘটেছে তার জন্য আমি অত্যন্ত মর্মাহত। আত্মঘাতী এই হানাহানিতে জীবন দিতে হয় আমাদের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা, বিডিআর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকদের। এ প্রাণহানির ঘটনায় আমি দারুণভাবে মর্মাহত এবং দুঃখিত। আমি নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাই। আমার প্রশ্ন, কার বুকে গুলি চালাবেন? তারা তো আপনারই ভাই। ভাই হয়ে ভাইয়ের বুকে গুলি করবেন না। আপনার বোনকে বিধবা করবেন না। আমরা আপনাদের সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। অত্যন্ত ধৈর্যসহকারে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি। আপনারা আমাকে সাহায্য করুন। এমন পথ নেবেন না যে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। আমাকে দেশের স্বার্থে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করবেন না। মনে রাখবেন, সংঘাত আরো সংঘাত বাড়ায়। আপনারা সংযত হোন। অস্ত্র সমর্পণ করুন। আপনাদের কোনো তি হবে না, আমি আশ্বস্ত করছি।’
প্রধানমন্ত্রীর সেদিনের পুরো ভাষণজুড়ে ছড়িয়ে আছে নিহতদের জন্য শোক আর তাদের স্বজনদের জন্য কাতরতা। ভাষণটির শেষাংশে তিনি বিডিআর হানাদারদের কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন যেমন তেমনি বারবার সেনা পরিবারের তির কথা স্মরণ করেছেন। এর চেয়ে মানবিক দলিল আর কী হতে পারে?
৪.
২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ঘটে যাওয়া নৃশংসতার আগে জাতীয় দৈনিকে বেশকিছু সংবাদ পরিবেশিত হয়, যা ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না হলেও বিষয়গুলোকে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখা প্রয়োজন ছিল বলে আমরা মনে করি। যেমন ২০০৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিতে পত্রিকায় চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের মামলার মূল আসামিদের নাম প্রকাশিত হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন নিয়ে আলোচনা এবং এই ইস্যুতে ১৮ তারিখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপে পাকিস্তানের কঠোর অবস্থান জানা যায়। ১৯ ফেব্রুয়ারি জঙ্গি দমনে সরকারের প্যাকেজ কর্মসূচি ঘোষিত হয় এবং ২১ ফেব্রুয়ারি যেকোনো মূল্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকার চারদিকে জঙ্গি আস্তানার সংবাদ প্রকাশিত হয়। কেবল ঢাকা নয় ২৩ তারিখে গাজীপুরে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের বাড়িতে জঙ্গিদের আস্তানা খুঁজে পাওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়। সেসময় এসব পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার ছিল। কারণ দেশের মধ্যে কিছু একটা ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। সেসময় আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আরো বেশি তৎপর থাকলে পিলখানার নৃশংসতা এড়ানো যেত বলে অনেকেই মনে করেন। তবে বিবিধ প্রচার-অপপ্রচার সত্ত্বেও পিলখানা হত্যাযজ্ঞের বিচার সম্পন্ন হওয়ায় এবং ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সোহার্ধ্যমূলক সম্পর্ক দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরো বেশি উজ্জ্বল করে তুলেছে। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সর্বক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অগ্রগতি কেউ রুখতে পারবে না।
লেখক: অধ্যাপক এবং পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়