প্রতিবেদন

পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গুদাম অপসারণ শুরু: এবার খুশি এবং আশাবাদী মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলীর অগ্নিকা-ে ১২৪ জনের প্রাণহানির পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ৭৮ জনের অধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দু’টি ঘটনার নেপথ্যেই কেমিক্যাল গুদামকেই দায়ী করা হচ্ছে।
প্রথম ঘটনা ঘটার পরপরই পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গুদাম সরানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছিল; কিন্তু নানা কারণে কেমিক্যালের গুদাম থেকে যায়।
তবে এবারকার অগ্নিকা-ের ঘটনার পর সবাই নড়েচড়ে বসেছেন; বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেমিক্যাল গুদাম না সরানোতে বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাই এবার তিনি কোনোরূপ অজুহাত ছাড়াই দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুরান ঢাকা থেকে সকল প্রকার কেমিক্যাল গুদাম সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, শিল্প মন্ত্রণালয়, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র নেতৃবৃন্দ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্টরা এক্ষেত্রে দ্রুত কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বহুল আলোচিত ওয়াহেদ ম্যানশনের আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি উদ্ধার হয় অন্তত পাঁচ শ’ বস্তা কেমিক্যাল।
ওয়াহেদ ম্যানশন থেকে কেমিক্যাল সরানোর মধ্য দিয়ে পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক পদার্থের গুদাম সরানোর কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের তরফ থেকে বাড়ির মালিকদের নিজ দায়িত্বে কেমিক্যাল ও দাহ্য পদার্থের গুদাম সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কেমিক্যালের গুদাম সম্পর্কে তথ্য জানাতে একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোলরুমে তথ্যদাতাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও সিটি করপোরেশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে চকবাজার ট্র্যাজেডির ৩ দিন পর ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। তবে ২ মার্চ পর্যন্ত গ্যাস সংযোগ ছিল না। এখনও চকবাজারে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরেনি। অনেকটা ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের তরফ থেকে পৃথক ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এখনও ১৮ জন নিখোঁজ থাকার তালিকা জমা পড়েছে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ক্যাম্পে। তদন্ত কমিটি ছাড়াও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনসহ সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে অগ্নিদগ্ধদের দেখতে যান। তাদের পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা দেয়ার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকায় আর কেমিক্যালের গুদাম রাখা যাবে না। এমনকি ওই স্থানে কেমিক্যালের ব্যবসাও করা যাবে না।
এমন নির্দেশনার পর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, র‌্যাব, শিল্প মন্ত্রণালয়, ঢাকা দণি সিটি করপোরেশন চকবাজারের চুড়িহাট্টায় তল্লাশি শুরু করে। বিশেষ করে আগুনে যেসব বাড়ি পুড়ে গেছে, প্রথমেই সেসব বাড়িতে কেমিক্যাল আছে কি না তার অনুসন্ধান শুরু হয়। তল্লাশির প্রথমেই আসে ওয়াহেদ ম্যানশনের নাম। এজন্য প্রথমেই সেই বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযান চালানোর আগে ফায়ার সার্ভিসের একটি বড় অগ্নিনির্বাপক গাড়ি এবং ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের বড় বড় ৩টি পানির গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়। মূলত অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতেই এমন আগাম ব্যবস্থা ছিল। এদিকে ঘটনার পর থেকেই ওয়াহেদ ম্যানশনসহ যে ৬টি বাড়িকে রাজউকের তরফ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে, সেসব বাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
প্রথমেই ওয়াহেদ ম্যানশনের পরপর ৪টি ফোরে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কেমিক্যাল পুড়ে যাওয়ার অস্তিত্ব মেলে। বিদ্যুৎ না থাকায় সার্চ লাইট দিয়ে সর্বশেষ বাড়িটির আন্ডারগ্রাউন্ডে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে শত শত বস্তা কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বস্তায় ১০ কেজি করে কেমিক্যাল রয়েছে বলে বস্তাগুলোর প্রত্যেকটির গায়ে লেখা ছিল। এসব কেমিক্যাল বিদেশ থেকে আমদানি করা; যা বস্তার গায়ে লেখা আছে। কেমিক্যালগুলো সরানোর সময় পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, ফায়ার সার্ভিস ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে পৃথক পৃথক তালিকা করা হয়েছে। কেমিক্যালগুলো নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয় ঢাকা দণি সিটি করপোরেশন। কেমিক্যালের গুদামের মালিককে পাওয়া যায়নি। কেমিক্যালগুলো সরানোর সময় কড়া নিরাপত্তা দিচ্ছিল পুলিশ ও র‌্যাব। সেখানে কর্মরতরা বলছিলেন, আন্ডারগ্রাউন্ডে আগুন লাগেনি। যদি কেমিক্যালের মূল গুদামে আগুন লাগতো, তাহলে অগ্নিকা- কতটা ভয়াবহ হতে পারত, তা কল্পনারও বাইরে। হয়ত পুরো ভবনটিসহ আশপাশের কয়েকটি ভবন ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারত বা উড়ে যাওয়া বিচিত্র ছিল না। কারণ যে কেমিক্যালগুলো উদ্ধার হয়েছে, তা অতিমাত্রায় দাহ্য।
এমন ঘটনার পরপরই ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের তরফ থেকে কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়। তাতে বলা হয়, দ্রুত সব বাড়ি থেকে কেমিক্যাল বা দাহ্য পদার্থ সরিয়ে ফেলতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া কোনো বাড়ি বা স্থাপনায় কেমিক্যাল বা দাহ্য পদার্থ মজুদ থাকলে তা দ্রুত সিটি করপোরেশনের স্থাপিত কন্ট্রোলরুমে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। কন্ট্রোলরুমে একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। তথ্যদাতাদের ০২৯৫৫৬০১৪ নম্বরে তথ্য জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
ঢাকা দণি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন উপস্থিত থেকে ওয়াহেদ ম্যানশনের কেমিক্যাল অপসারণ করান। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াহেদ ম্যানশনের বেজমেন্টের কেমিক্যাল অপসারণ কাজ শুরুর মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেমিক্যালের গুদাম সরানো শুরু করা হলো। যেসব বাড়ির মালিকরা কেমিক্যাল গোডাউন অপসারণের উদ্যোগ নেননি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অগ্নিকা-ের কয়েক দিন আগেই পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এর ২ দিন পরই ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটল। তিনি বলেন, যতণ পর্যন্ত পুরান ঢাকার সব কেমিক্যাল গোডাউন স্থানান্তর বা অপসারিত না হবে, ততণ পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মেয়র আরও বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অগ্নিকা-ের সূত্রপাত গ্যাস সিলিন্ডার থেকে হয়েছিল। পরে তা কেমিক্যালের সংস্পর্শে গিয়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
মেয়রের আগে সকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথমে চকবাজার থেকে কেমিক্যালের গুদাম সরানোর কাজ শুরু হলো। এরপর পর্যায়ক্রমে পুরান ঢাকার সব এলাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন সরিয়ে ফেলা হবে।
এদিকে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, পুলিশ, র‌্যাব এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের তরফ থেকে চুড়িহাট্টা মোড়ে পৃথক পৃথক ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক আনিসুর রহমান জানান, তারা নিখোঁজদের তালিকা করছেন। সেই তালিকা মোতাবেক ২৩ ফেব্রুয়ারি নাগাদ ১৮ জনের নাম নিখোঁজের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নিখোঁজদের পরিবারকে সহায়তা করতেই এমন তালিকা করার কাজ করা হচ্ছে মন্ত্রণালয় থেকে।
এদিকে চকবাজার এলাকায় এখনও আতঙ্ক কাটেনি। অধিকাংশ এলাকাবাসী বাসায় ফেরেননি। পুরো এলাকায় এখনও ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে পুলিশ ও র‌্যাব। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। পুরো এলাকার দোকানপাট ও রাস্তাঘাট বন্ধ। চকবাজারের অলিগলিতে শোকবার্তা লেখা শত শত ব্যানার ঝুলছে।
প্রসঙ্গত, গত ২০ ফেব্র“য়ারি রাত পৌনে ১১টার দিকে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর কেমিক্যালের সংস্পর্শের কারণে অগ্নিকা-ের ভয়াবহতার মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অগ্নিকা-ে এ পর্যন্ত ৭৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ হয়েছেন ৪১ জন। দগ্ধদের মধ্যে নয় জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উল্লেখ্য, চকবাজার ট্র্যাজেডির সূত্র ধরে ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিকের দুই ছেলেসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। রাজউকের তরফ থেকে ৬৪ নম্বর ওয়াহেদ ম্যানশন এবং তার পাশে লাগোয়া ৬৫ ও ৬৬ নম্বর বাড়ি, এই ৩টি বাড়ির মুখোমুখি চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের নামের থাকা ১৭ নম্বর বাড়ি এবং বাচ্চু নামে এক ব্যক্তির ১৮ নম্বর ও ৬১ নম্বর বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়।
প্রত্যদর্শীদের ভাষ্য, ঘটনার সময় একটি পিকআপ গাড়ি একটি মাইক্রোবাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। সেই আগুন মাইক্রোবাসটির সামনে তিতাস গ্যাসের রান্না করার সিলিন্ডার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পিকআপে লেগে যায়। পিকআপে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লেগে গেলে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সেই আগুন পাশে থাকা হোটেলের গ্যাস সিলিন্ডারে এবং ওয়াহেদ ম্যানশনের নিচতলায় থাকা কেমিক্যালের গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। কেমিক্যালের গুদামে আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আগুনের তাপে আশপাশের বাড়িতে থাকা প্লাস্টিকের দানা গলে তা লাভার মতো আঠালো হয়ে রাস্তায় নেমে আসে। যানজটে আটকে থাকা লোকজন রাস্তায় নামলে তাদের পা আটকে যায় সেই আঠায়। এতে সেখানেই অনেকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
হাজারো ব্যবসায়ী নানা ধরনের ব্যবসা করছেন পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকায়। ছোট ছোট ঘরে লাখ লাখ টাকার ব্যবসার নেশায় মত্ত থাকলেও অগ্নিকা-ের ঘটনা নিয়ে নিজেদের পাশাপাশি তাদের পরিবারও শঙ্কিত। নিমতলী ও চুড়িহাট্টার মতো অগ্নিকা-ের বাইরে প্রতিনিয়তই ছোটখাটো নানা ধরনের দুর্ঘটনা বা আগুন লাগার মতো ঘটনা লেগেই আছে। এসব দুর্ঘটনার আতঙ্কে অনেক প্রত্যন্ত এলাকার ব্যবসায়ীরা মুখ ফিরিয়ে নেন। ব্যবসা অন্যত্র সরাতে চান কেউ কেউ। কিন্তু এককভাবে ব্যবসাও সরাতে পারছেন না, কিছু বলতেও পারছেন না। কারণ, এসব অলিগলিতে ব্যবসাটাও ভালো। প্রতিনিয়ত নানা শঙ্কার মধ্যেও এসব সরু গলিগুলোতে অর্থনৈতিক লেনদেন ভালো। চকবাজার এলাকায় শুধু ব্যাংকিং লেনদেনই হয় প্রতিদিন শত কোটি টাকার ওপরে। এেেত্র জীবন না অর্থ কোনটা নিয়ে ভাববেন তাও যেন বুঝতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।
কোটি টাকার ব্যবসার লোভে মূল্যহীন হয়ে যাচ্ছে জীবন। অজানা শঙ্কা বারবার ভাবিয়ে তোলে ব্যবসায়ীদের। এমন শঙ্কা থেকে পরিত্রাণ চান ব্যবসায়ীরাও। এ জন্য নির্দিষ্ট ব্যবসার জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্মের কথাও বলেছেন কেউ কেউ। সরকারনির্ধারিত নির্দিষ্ট ব্যবসার জন্য আলাদা স্থানের কথাও জানিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। আবার ব্যবসা সরিয়ে নিলে একটা প্রাথমিক সমাধান হবে বলেও মনে করছেন অনেক অর্থনীতিবিদ। চুড়িহাট্টার অগ্নিকা- এখনও নাড়িয়ে দেয় সবার হৃদয়। অসংখ্য মানুষের মৃত্যু আর ঝলসে যাওয়ার জন্য পুরান ঢাকার নানা অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন খোদ এলাকার লোকজনই।
এদিকে কয়েকদিন মাইকিং করা হয়েছে কেমিক্যালের গোডাউন সরিয়ে নেয়ার জন্য। ইতোমধ্যে অভিযানও শুরু হয়েছে। ৩ মার্চ পর্যন্ত কেমিক্যালের গুদাম সরানো না হলে বাড়ির মালিকদের গ্রেফতার করার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা দণি সিটি করপোরেশন। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আহমেদ খান বলেন, ২৭ ফেব্রুয়ারি শিল্প মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বেঠক থেকে আবাসিক ভবনের কেমিক্যাল গোডাউন আপাতত সরিয়ে রাখতে ২টি স্থান নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। সে মোতাবেক কয়েক দিন ধরেই সবাইকে নিজ উদ্যোগে আবাসিক ভবন থেকে কেমিক্যাল গোডাউন স্থানান্তর করতে মাইকিংও করা হয়েছে। বাড়ির মালিকদের বার্তা দেয়া হয়েছে ৩ মার্চের মধ্যে নিজ উদ্যোগে বাড়ি থেকে কেমিক্যাল গুদাম সরাতে হবে।