রাজনীতি

প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন খালেদা জিয়া!

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। অন্য প্রক্রিয়ায় সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির কোনো সম্ভাবনা দেখছে না বিএনপি। চলমান রাজনৈতিক প্রোপট এবং মতাসীন দলের মনোভাব বিশ্লেষণ করে বিএনপি নেতারা মনে করছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় কিংবা রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপে ফেলে দলের শীর্ষনেত্রীকে কারামুক্ত করা সম্ভব নয়। সেজন্য খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল, মওদুদ আহমদসহ অন্য শীর্ষ নেতারা এখন রাজনৈতিক সমঝোতাকেই শ্রেয়তর মনে করছেন। অন্য কোনো উপায়কে শ্রেয় না মনে করে চিকিৎসার খাতিরে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে এখন কাজ করছে বিএনপি। দলটির নেতারা সরকারের নানা পর্যায়ে ইতোমধ্যেই এ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে কেন্দ্র ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা দলনেত্রীর অন্ধ ভক্ত, তাদের কারণে বেশ মানসিক চাপে রয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। এসব নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথে কঠোর কর্মসূচির দাবি তুলেছেন। তারা এক মুহূর্তও দেরি করতে চান না।
নেত্রীর ভক্ত নেতাকর্মীরা সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলাকালে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য হরতাল-অবরোধসহ রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দিতে প্রকাশ্যেই দাবি তুলছেন। এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিএনপি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে নেতাকর্মীদের প্রবল চাপসহ এ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়।
দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে ন্যূনতম কর্মসূচি না দিলে নেতাকর্মীদের শান্ত রাখা দুঃসাধ্য হবে। তাই নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখন থেকেই মানববন্ধন, স্বল্প বিরতি দিয়ে অবস্থান কর্মসূচির মতো কিছু কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে জাতীয় প্রেসকাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বিএনপি।
তবে এ কর্মসূচিকেও সরকারের সঙ্গে সমঝোতার অংশ বলেই মনে করছেন অনেকে।
নতুন ও কঠোর কোনো কর্মসূচি না দিলেও নেতারা মনে করছেন, এই মানববন্ধনের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের কিছুটা হলেও শান্ত করা গেছে। এ নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা স্বদেশ খবরকে বলেন, যেকোনোভাবেই হোক আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। এ েেত্র সরকারের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া এখন আমাদের সামনে আর কোনো উপায় দেখছি না। তবে জানা গেছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা যেমনই হোক, সমঝোতার েেত্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন খালেদা জিয়া নিজেই।
বিএনপির আরেক নেতা স্বদেশ খবরকে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। ১ বছরের বেশি হলো তিনি কারাবন্দি। বহুবার আমরা তার জামিনের চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই জামিনযোগ্য মামলাতেও তিনি জামিন পাচ্ছেন না।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ফেব্র“য়ারি থেকে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি ভবনে বন্দি আছেন ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে প্রথমে ৫ বছরের সশ্রম কারাদ- দেয়া হয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রিভিউ আবেদনের পর সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। এ মামলায় দ-িত হয়ে কারাগারে যাওয়ার ৮ মাসের মাথায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে আদালত ৭ বছরের কারাদ- দেয়।
বিএনপি বরাবরই বলে আসছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভিত্তিহীন মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে। দলটির নেতারা মনে করেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে তাদের হাতে মূল অস্ত্র ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হোক Ñ আন্তর্জাতিক মহলের এমন প্রত্যাশার কারণে এ নিয়ে সরকার বড় ধরনের চাপে ছিল। পরিস্থিতি অনুধাবন করে বিএনপির কিছু নেতা ওই নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিরুদ্ধে ছিলেন। যদিও নির্বাচনের বিষয়ে দল ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তারা কোনো বিরোধিতাও করেননি, আবার নিজের ভোটটি দিতেও ভোটকেন্দ্রে যাননি।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির দুটি জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট ৭ দফা দাবিতে কর্মসূচি দিয়েছিল। নিরপে সরকার ও খালেদা জিয়ার মুক্তিই ছিল এসব দফার মধ্যে অন্যতম। কিন্তু সরকার কোনো দাবি না মানলেও নির্বাচনে যাওয়া ছিল অনেক বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত।
বিএনপির তৃণমূলের এসব নেতাদের মতে, ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকৃত অর্থে চাইলে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে সরকার খালেদা জিয়ার অনুকূলে অবশ্যই বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য হতো; কিন্তু নেতারা সিরিয়াসলি খালেদা জিয়ার কারামুক্তি চাননি, বরং তারা চেয়েছিলেন, খালেদা জিয়া জেলেই পচে মরুক।
এসব কারণে দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্ভর করতে না পেরে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপির শীর্ষ নেতারা সরকারের সাথে আপস করে চিকিৎসার কথা বলে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে খালেদা জিয়া বিদেশে পাড়ি জমানোতেই সমস্যার সমাধান খুঁজছেন।