প্রতিবেদন

ফোর্বসের সেরা তরুণ উদ্যোক্তার তালিকায় দুই বাংলাদেশি

স্বদেশ খবর ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ফোর্বস ম্যাগাজিনে এশিয়ার সেরা ৩০ তরুণ উদ্যোক্তার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন দুই বাংলাদেশি। তারা হলেন অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবা ‘পাঠাও’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুসাইন ইলিয়াস এবং কার্টুনিস্ট মোরশেদ মিশু। গত ২ এপ্রিল ফোর্বস এ তালিকাটি প্রকাশ করে।
ফোর্বসের ওয়েবসাইটে ‘থার্টি আন্ডার থার্টি’ শীর্ষক এ তালিকায় অনূর্ধ্ব-৩০ বছরের এসব উদ্যোক্তার সংপ্তি পরিচিতিও প্রকাশ করা হয়েছে। হুসাইন ইলিয়াসের বিষয়ে বলা হয়েছে বাংলাদেশে শীর্ষ রাইড শেয়ারিং, খাবার সরবরাহ ও পণ্য আদান-প্রদানের সেবা প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’। ইলিয়াস এ অ্যাপটি প্রতিষ্ঠা করেন সিফাত আদনানকে (বয়স ৩০ বছরের বেশি হওয়ার কারণে তালিকায় স্থান পাননি) সঙ্গে নিয়ে।
মোটরবাইক ও গাড়ি ব্যবহার করে এটি নেপালের কাঠমান্ডুসহ বাংলাদেশের ৫টি শহরে মোট ৫০ লাখ গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। চার দফায় প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটি ২৮ লাখ ডলার তহবিল পেয়েছে। বর্তমানে পাঠাওয়ের মূল্য এসে দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ডলারে। এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা ছিল ইন্দোনেশিয়ার ‘গো-জেক’। ইলিয়াস স্বপ্ন দেখেছিলেন, পাঠাও হবে বাংলাদেশের সুপার অ্যাপ।
অন্যদিকে তরুণ কার্টুনিস্ট মোরশেদ আবদুল্লাহ পরিচিত মোরশেদ মিশু নামে। তার সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের শুরুর দিকে কার্টুনিস্ট মোরশেদ মিশু বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধের ওপর কার্টুন বা ব্যঙ্গচিত্র আঁকতে শুরু করেন। যুদ্ধের মর্মান্তিক ও যন্ত্রণাকাতর ছবিগুলো তার কলমের মাধ্যমে রূপ নিতে থাকে হাসি-আনন্দে ভরা শিল্পকর্মে। মিশুর আঁকা এসব কার্টুন ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ নামে একটি প্রজেক্টেও পুরস্কার পায়। এরপর বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীর জন্য কার্টুন আঁকতে শুরু করেন তিনি।
এর ধারাবাহিকতায় মোরশেদ মিশু ফোর্বসের তালিকায় মিডিয়া, মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাডভারটাইজিং শাখায় স্থান পেয়েছেন। ১৯৯৩ সালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ইব্রাহীমপুরে মুক্তিযোদ্ধা বাবা মো. আবদুর রাজ্জাক ও মা নীলুফা রাজ্জাকের ঘরে জন্ম নেন মিশু। বর্তমানে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান মোরশেদ মিশু ইলাস্ট্রেশন চালানোর পাশাপাশি দেশের জনপ্রিয় স্যাটায়ার ম্যাগাজিন উন্মাদের সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফোর্বস সূত্রমতে, এবারের তালিকা তৈরিতে বিশেষভাবে খোঁজা হয়েছে সেসব উদ্যোক্তাকে, যাদের উদ্ভাবন দীর্ঘমেয়াদি একটি ইতিবাচক প্রভাব রাখার পথে কাজ করছে, বিশেষ করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়নশীল ও উদীয়মান বাজার ব্যবস্থায়।
এশিয়ার ২৩টি দেশ থেকে কয়েক হাজার তরুণের মধ্য থেকে ৩০ বছরের নিচের ৩০ তরুণের নাম ঠাঁই পেয়েছে এই তালিকায়। এ বিষয়ে হুসাইন এম ইলিয়াস বলেন, স্বীকৃতি পাওয়াটা সত্যিই আনন্দের। যদিও স্টার্টআপ হিসেবে এটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে আমার একটি প্রতিষ্ঠানের কারণে অনেক মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দুর্দশা লাঘব হয়েছে। এ ছাড়া অনেক তরুণ উদ্যোক্তারাও স্টার্টআপ করার সাহস পাচ্ছে। এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।
পাঠাওয়ের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি বলেন, পাঠাও ডেলিভারি সার্ভিস থেকে রাইড শেয়ারিং, কার সার্ভিসের পাশাপাশি ফুড ডেলিভারি করছে। ভবিষ্যতে সবার মধ্যে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করবে পাঠাও।
ফোর্বসের থার্টি আন্ডার থার্টিতে স্থান করে নেয়ায় অনুভূতি সম্পর্কে মোরশেদ মিশু বলেন, এটা অবশ্যই ভালো লেগেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যতবারই আমার নাম এসেছে, সঙ্গে বাংলাদেশের নামও এসেছে। আমি আমার কাজ দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারছি, আমার কাছে এটাই আসল প্রাপ্তি।

গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জের ধারণা সম্পর্কে মিশু জানান, এটা এসেছে মূলত তার উদ্বেগ থেকে। কারণ যুদ্ধকালীন ছবিগুলো দেখে কারোই ভালো লাগার কথা নয়। তিনিও খুব হতাশ হতেন। এড়িয়ে যেতে চাইলেও পারতেন না। এরপর তিনি চিন্তা করেন, তিনি কী দেখতে চান? তার মনে হলো তিনি আসলে হাসিমুখ দেখতে চান। এই চিন্তা থেকেই গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জের ধারণাটা আসে বলে মিশু জানান।
গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ বিশ্বমিডিয়ার নজরে আসা প্রসঙ্গে মিশু জানান, প্রথমে এটা তিনি তার ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছিলেন। এরপর অনেকেই সেখান থেকে ছবিগুলো শেয়ার দেয়; কিন্তু ইনস্টাগ্রাম-টুইটারে যখন শেয়ার করেন, তখন বিশ্বের নানা দেশ থেকে অনেকেই যোগাযোগ করতে থাকেন। ইরান থেকে সর্বপ্রথম এ ব্যাপারে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ-হত্যা- এসব নিয়ে পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে মিশু বলেন, এটা নিয়ে আমার আরও অনেক কাজ করার ইচ্ছা আছে। তবে বিষয়টি এমন না যে, গ্লোবাল মিডিয়া এটা নিয়ে অনেক কিছু করেছে বলে আমার দায়বদ্ধতা বেড়ে গেছে। প্রত্যেকেরই নিজ নিজ জায়গা থেকে কিছু দায়বদ্ধতা আছে। আমার অবস্থান থেকে দায়বদ্ধতার জায়গাটা আগে যেমন ছিল, এখনো তেমনই থাকবে। তবে এখন যেহেতু বিশ্বমিডিয়াতে আমার মেসেজটা আমি সহজে পৌঁছানোর একটা জায়গা করে নিতে পেরেছি, এটাকে আমি কাজে লাগাতে চাই।