প্রতিবেদন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন সংক্রান্ত কমিটির যৌথসভায় শেখ হাসিনা : তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানমালা ছড়িয়ে দিতে চাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০ মার্চ তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি এবং বাস্তবায়ন কমিটির যৌথসভায় ভাষণ দেন। সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করে তা যথাযথভাবে উদযাপনে বিশিষ্ট জনদের নিয়ে একটি ১০২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি এবং বাস্তবায়নের জন্য ৬১ সদস্যবিশিষ্ট যে কমিটি করেছে, ২০ মার্চ ছিল তারই প্রথম যৌথ বৈঠক।
মুজিব বর্ষের প্রায় ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের সকল জেলা, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানমালা চলবে।
এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ পদপে হিসেবে সরকার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমেই দেশের মানুষ সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। শুধু ঢাকা শহর বা দেশের বড় বড় শহরে যেন এটা সীমাবদ্ধ না থাকে, আমরা সারাদেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানমালা ছড়িয়ে দিতে চাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এদেশের মানুষ যাতে উদ্বুদ্ধ হয় এবং বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কাছে একটা মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে যেন আমরা গড়ে তুলতে পারি, সে চেষ্টাই আওয়ামী লীগ সরকার করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, মার্চ মাস আমাদের জন্য খুবই অর্থবহ মাস। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন। আবার ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। কাজেই ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত বছরটাই আমরা মুজিব বর্ষ হিসেবে উদযাপন করবো। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী যথাযথভাবে উদযাপন করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে এ দেশের মানুষের জন্যই কষ্ট স্বীকার করে গেছেন জাতির পিতা। সেই কষ্টের ফসল হিসেবেই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, স্বাধীন জাতির মর্যাদা। কাজেই এটা আজকে আমাদের একটা জাতীয় কর্তব্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা তাঁর জীবনের সব থেকে মূল্যবান সময় এদেশের মানুষের কথা চিন্তা করে ব্যয় করেছেন। মানুষের ওপর অত্যাচার, শোষণ, বঞ্চনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে দিনের পর দিন কারাবরণ করেছেন। জীবনের মূল্যবান সময়গুলো কারাগারের ঐ অন্ধ প্রকোষ্ঠেই তিনি কাটিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে জাতির পিতা দেখেছেন দারিদ্র্যের হাহাকার। বুভুু নর-নারীর কষ্ট। মানুষ ওষুধ পায়নি, চিকিৎসা পায়নি, খাবার পায়নি, থাকার জায়গা নাই। মানুষের এই দুঃখ-কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারেননি।
২১ বছর পর মতায় আসার পর থেকেই সরকার জাতির পিতার আদর্শে দেশটা গড়ে তোলার পদপে গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অনেক বাধা-বিঘœ পেরিয়েই এ বছর আমরা জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৮ ভাগ অর্জনের দোরগোড়ায় উপনীত হয়েছি। মাথাপিছু আয় বেড়ে ১ হাজার ৯০৯ ডলার হয়েছে এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যে মর্যাদা পেয়েছি তা ধরে রাখার জন্য ইতোমধ্যেই কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, গত ১০ বছরে আমরা চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের, যেটা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল। তিনি বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। তিনি সবসময় চাইতেন তার দেশের মানুষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি অর্জন করবে এবং বাংলাদেশ সমগ্র বিশ্বে একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে আমাদের সমাজে যারা বিশিষ্টজন, তাদেরকে নিয়ে আমরা ১০২ সদস্যবিশিষ্ট একটা কমিটি করেছি। তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির এই কমিটিতে থাকা দরকার, যাদেরকে আমরা ধীরে ধীরে অন্তর্ভুক্ত করে নেব। সেই সাথে আমরা আরেকটি কমিটি করেছি ৬১ সদস্যবিশিষ্ট, যারা সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের েেত্র অবদান রাখবে। তাছাড়া বিভিন্নভাবে যেসব কমিটি করা প্রয়োজন সে ব্যাপারেও আপনাদের পরামর্শ নেব। কেননা, এটা রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করার জন্য আমরা পদপে নিয়েছি। তাছাড়া আমরা দল হিসেবেও আওয়ামী লীগের আলাদা একটা কমিটি করেছি। সেেেত্র আপনাদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর আমাদের হাতে সময় খুব বেশি নেই। কারণ নির্বাচনসহ বিভিন্ন কর্মকা-ের জন্য আমাদের বেশকিছু সময় পেরিয়ে গেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে এদেশের কৃষক, শ্রমিক এবং মেহনতি মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন পদপে গ্রহণ করেছি এবং তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যার সুফলও মানুষ পেতে শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুঃখের বিষয় যে, একটা সময় ছিল, ভাষা আন্দোলনে তাঁর (জাতির পিতা) অবদান একদমই মুছে ফেলা হচ্ছিল। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর যে অবদান সেটাও মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। ২১ বছর এদেশের মানুষ সত্য জানতেই পারেনি।
তিনি বলেন, আসলে সত্যকে কেউ কখনো মুছে ফেলতে পারে না। সত্য কখনো না কখনো উদ্ভাসিত হবেই আর তার স্থানটা সে করে নেবে। আজ আমরা সেটার প্রমাণ পাচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের চলমান অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো। তাঁর জন্মশতবার্ষিকীতে সেটাই হবে আমাদের প্রতিজ্ঞা।