প্রতিবেদন

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর: ৩ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ আহ্বান : কূটনৈতিক সফলতায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনন্য উচ্চতায় সৌদি-বাংলাদেশ সম্পর্ক

এম নিজাম উদ্দিন
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের কূটনৈতিক সফলতার কারণে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্ক অনেক ভালো। বিশেষ করে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাম্প্রতিক সময়ে অনন্য এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে সৌদি-বাংলাদেশ সম্পর্ক। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল এ সম্পর্ককে বেশ ইতিবাচকভাবেই দেখছেন এবং এক্ষেত্রে শেখ হাসিনার কূটনৈতিক বিচক্ষণতার ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
সর্বশেষ বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ।
সৌদি বাদশা ও ক্রাউন প্রিন্সের বিশেষ অ্যাসাইনমেন্টে দেশটির প্রভাবশালী দুই মন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের ৩৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছেন। দুই দেশের মধ্যে ২টি চুক্তি ও ৪টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এতে বাংলাদেশে ৩ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের আগ্রহও প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। গত ৭ মার্চ সৌদি আরবের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রী মাজিদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাভি এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন মাজিদ আল-তোয়াইজরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে সৌদি বাদশার এই আগ্রহের কথা জানান।
এর আগে রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে সৌদি আরবের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন মাজিদ আল তোয়াইজরি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী মজিদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাভির নেতৃত্বে ঢাকা সফররত সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। এতে দুদেশের মধ্যে ব্যবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ল্েয সৌদি পরিকল্পনামন্ত্রীকে প্রধান করে সৌদি-বাংলাদেশ জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটি অব ইনভেস্টমেন্ট নামে একটি কমিটি গঠনে একমত হয় ঢাকা ও রিয়াদ।
এ ছাড়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি জয়েন্ট ইকোনমিক কাউন্সিলও গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে মূল প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ব্যবসা-বিনিয়োগ সংক্রান্ত ৪টি সমঝোতা ও ২টি স্মারক চুক্তি স্বারিত হয় দুদেশের মধ্যে। দুদেশের বৈঠকে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ১০টি ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন সালমান এফ রহমান।
তিনি বাংলাদেশের ভৌগোলিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ দণি এশিয়ার ভূ-কৌশলগত প্রবেশদ্বার, বিশেষ করে ভারত ও চীনকে সংযুক্ত করার েেত্র। এটি আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাজারকে সংযুক্ত করবে। এ আঞ্চলিক বাজারের মধ্যে ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারও রয়েছে। এই প্রবেশদ্বারের মাধ্যমে ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ভোক্তা বা গ্রাহকের কাছে সেবা পৌঁছানো যাবে। এ েেত্র প্রতি বছর ৮ দশমিক ৫৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয় হবে।
অগ্রাধিকার বাজারে প্রবেশের বিষয়ে উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশ ৩৮টি দেশ থেকে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে। এর মধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত ২৮টি দেশ ছাড়াও রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, বেলারুশ, কানাডা, লিখটেনস্টাইন, জাপান, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, রাশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও তুরস্ক। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে ডেনিম পণ্যের প্রথম রফতানিকারক। তৈরি পোশাক রফতানির দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। পাট উৎপাদন ও রফতানিতে বাংলাদেশ প্রথম। চামড়াজাত পণ্য ও সাইকেল উৎপাদন ও রফতানিতে অষ্টম।
অবকাঠামোগত সহযোগিতা প্রসঙ্গে সালমান এফ রহমান উল্লেখ করেন, দেশে বর্তমানে ৬৬টি অর্থনৈতিক জোন রয়েছে। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে যা ১০০টিতে উন্নীত হবে। পদ্মাসেতু দেশের দণি-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলকে সংযুক্ত করবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ এবং সম্প্রচার স্যাটেলাইট। একই সঙ্গে জ্বালানি বৈচিত্র্য হিসেবে এলএনজি, নিউকিয়ার পাওয়ার, পারমাণবিক শক্তি, সৌরশক্তি, বায়ু ও এলপিজি ইত্যাদি। বর্তমানে দেশে ২০ হাজার ১৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। ২০২১ সালে এর পরিমাণ দাঁড়াবে ২৪ হাজার ও ২০৩০ সালে হবে ৩০ হাজার মেগাওয়াট।
পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন ল্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপরে নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সৌদি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তারা আমাদের চাহিদা জানতে চেয়েছে। আমরা বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কথা বলেছি। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন, ঢাকা-বরিশাল ট্রেন লাইনসহ আরও কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে। তাদের কাছে ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুততার সঙ্গে সৌদি বিনিয়োগ নিয়ে আসতে পারব।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব কয়েক ধাপে ২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে আরও বিনিয়োগ চাওয়া হয়েছে।
আবদুল্লাহ আল কাসাভি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশ এশিয়ার নতুন টাইগার। আমরা এ দেশকে বিশ্বাস করি। সৌদি আরবের একটি বড় উন্নয়ন সহযোগী বাংলাদেশ। প্রায় দুই মিলিয়ন বাংলাদেশি সৌদি আরবে আছেন, যারা নতুন সৌদি আরব গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছেন।
কাসাভি আরো বলেন, সৌদি প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় স্থাপিত হয়েছে। আশা করছি, এবারের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঠিক করতে পারব।
এ সময় বি টু বি (ব্যবসায়ীর সঙ্গে ব্যবসায়ী), জি টু জি (সরকারের সঙ্গে সরকার) এবং বি টু জি (ব্যবসায়ীর সঙ্গে সরকার) অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার ল্েয বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে রিয়াদে একটি উন্মুক্ত সংলাপে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
এর আগে গত ৫ মার্চ দ্বিপীয় বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত ১০ বছরে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থ হয়েছে। এ বছর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আমরা আগামী বছর ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রত্যাশা করছি।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে নিজ কার্যালয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ এইচ এম আল মুতাইরির সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের রয়েছে সহজে প্রশিণযোগ্য নিবেদিতপ্রাণ জনশক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে স্বল্প ব্যয় এবং বৃহৎ শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশ সুবিধা, দণি এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রণোদনার সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে অধিক হারে মুনাফার সুযোগ। বিদ্যুৎ, সৌরশক্তি, জ্বালানি, টেলিকমিউনিকেশন ও তথ্যপ্রযুক্তি, পেট্রোকেমিক্যাল, ওষুধশিল্প, জাহাজ নির্মাণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো বিভিন্ন উদীয়মান খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
দেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মুস্তফা কামাল বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশকে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগ ও গ্লোবাল আউটসোর্সিংয়ের একটি কেন্দ্রে পরিণত করেছে। দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগকে টেকসই করার জন্যই সরকার এ শিল্পাঞ্চলগুলো গড়ে তুলেছে।
আ হ ম মুস্তফা কামাল আরও বলেন, সৌদি আরবের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২ হাজার একর জমি বরাদ্দ করেছি। এগুলো নিজস্ব চাহিদা মোতাবেক ব্যবহার করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবসাবাণিজ্যের পরিমাণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যা ছিল ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি করে দুদেশের মধ্যে ব্যবসাবাণিজ্যের সুযোগগুলোর পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করতে হবে।
এ সময় বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।
বৈঠককালে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন আবদুল্লাহ এইচ এম আল তোয়াইজরি। এছাড়া বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্কের েেত্র সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চারিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে তাঁর কার্যালয়ে সৌদি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যে ২টি চুক্তি ও ৪টি সমঝোতা স্মারক স্বারিত হয়, তাতে স্বার করেন বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থার প্রতিনিধিরা।
১০০ মেগাওয়াট মতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র (সোলার আইপিপি) নির্মাণে সৌদি আরবের আলফানার কোম্পানির সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি)। ইজিসিবির পে ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ কুমার সাহা এবং আলফানার কোম্পানির পে সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট খালিদ বিন কাবেল আল সুলামি চুক্তিতে স্বার করেন।
ট্রান্সফর্মার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদনে সৌদি কোম্পানি ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশনের সঙ্গে চুক্তি করেছে জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফেকচারিং কোম্পানি লিমিটেড। জেনারেল ইলেকট্রিকের পে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান আহমেদ ভূঁইয়া এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশনের পে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিন নাজিব আল হাজী চুক্তিতে স্বার করেন।
বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিণ ব্যুরো এবং সৌদি আরবের আল মাম ট্রেডিং এস্টেটের মধ্যে জনশক্তি রফতানি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বারিত হয়েছে। বিএমইটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এসকে রফিকুল ইসলাম এবং আল মামের চেয়ারম্যান ইউসুফ আবদুল্লাহ আল মুশির এই সমঝোতা স্মারকে স্বার করেন।
ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ প্ল্যান্ট নির্মাণে সৌদি আরবের ইউসুফ আল রাজি কনস্ট্রাকশন এস্টেটের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বার করেছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল হালিম এবং বিনিয়োগকারী কোম্পানির ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ আল রাজি এই সমঝোতা চুক্তিতে স্বার করেন।
সৌদি-বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব বায়ো-মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সৌদি আরবের আল আফালিক গ্র“প (এএইচ গ্র“প) এবং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের মধ্যে ১টি সমঝোতা স্মারক হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল হালিম এবং এএইচ গ্র“পের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ এস আলফালেক এতে স্বার করেন।
বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন এবং রিয়াদ ক্যাবলস গ্র“প অব কোম্পানির মধ্যে তার উৎপাদনের বিষয়ে ১টি সমঝোতা স্মারক হয়েছে।
উল্লেখ্য, এসব চুক্তি স্বারের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদি আরবের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রী মাজিদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাভি এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন মাজিদ আল-তোয়াইজরি।
সৌদি বাদশাহ বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী বলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রী মাজিদ বৈঠকে জানান। তারা সৌদি বাদশাহ ও ক্রাউন প্রিন্সের প থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে আশাতীত উন্নয়ন হয়েছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের রফতানি আয় ১০ বিলিয়ন থেকে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোয় সৌদি দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আপনার ও আপনার টিমের জন্য বাংলাদেশের গর্ব করা উচিত।
মাজিদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাভি বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশকে এশিয়ার টাইগার হিসেবে বর্ণনা করে মাজিদ বলেন, সৌদি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে বিনিয়োগকারীদের জমি দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের কথাও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন।
এ সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশে তেল পরিশোধনাগার নির্মাণের জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। এর আগে গত বছরের অক্টোবর মাসে সৌদি আরব সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সফরের সময় তিনি সৌদি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া সৌদি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী পৃথক একটি বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। সেই বৈঠকে বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগ চাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সৌদি আরবের বিনিয়োগকারীরা এখন বাংলাদেশমুখী হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে সরকারের প থেকে সৌদি প্রতিনিধি দলের এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপ জানিয়েছে, গত বছরের ১৭-১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি আরব সফরকালে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবের বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী এবং অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমন্ত্রী এবং সৌদি আরবের পিআইএফ ও এসডিএফের প্রতিনিধিগণ বাংলাদেশ সফর করেছেন। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন ও বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা নিয়ে বেশ খোলামেলা এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সৌদি বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়াবলি বিডা কর্তৃক মনিটরিং করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনা রয়েছে।
সৌদি আরবের বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি দলের কাছ থেকে অন্তত ১৬ প্রকল্পে দেড় থেকে ২ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপ-বিডা। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে স্বদেশ খবরকে বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যেসব প্রকল্প নিয়ে কথা চলছে, তার মধ্যে কয়েকটির েেত্র চুক্তি সই হয়েছে। কয়েকটির েেত্র সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। কয়েকটি প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি সৌদি আরবের আগ্রহের ত্রেগুলোও তারা জানিয়েছে। সবমিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মাত্রা এবং বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগের উজ্জ্বল সম্ভাবনায় আশাবাদী বাংলাদেশ ও খুশি এদেশের মানুষ।