প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

বিনম্র শ্রদ্ধা ভালোবাসায় ৪৯তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত : দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

মেজবাহউদ্দিন সাকিল
৪৯তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সর্বস্তরে প্রতিধ্বনিত হয়েছে, ’৭৫-এ জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা না হলে বাংলাদেশ বহু আগেই উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতো। তারপরও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণেই অনেক ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত ১০ বছর ধরে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিস্ময়কর উন্নতি করেছে।
৪৯তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আজকের শিশু আগামী দিনের কর্ণধার। আজকের শিশুদের মধ্যেই কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী হবে, বড় বড় চাকরি করবে, দেশকে ভালোবেসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার জন্য জাতিসংঘের যে ৩টি শর্ত পূরণ করতে হয়, শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে তার সবগুলোই বাংলাদেশ পূরণ করেছে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই। ফলশ্রুতিতে ৪৯তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জাতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় উন্নত বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়েছে। পাশাপাশি উচ্চারিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার।
৪৯তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলে রাজধানী ঢাকায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচি থেকে সহিংসতা-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদী কর্মকা- রুখে দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় আর জঙ্গিবাদমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত দেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এদিন শ্রদ্ধাবনত জাতি ফুলে ফুলে ভরে দিয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং টুঙ্গিপাড়ার বঙ্গবন্ধুর সমাধির বেদিমূল। সারাদেশেই নতুন প্রজন্মের অভূতপূর্ব গণজাগরণ এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবারের স্বাধীনতা দিবসে। রাস্তায় বের হওয়া মানুষ বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের হাতে, গালে বা কপালে আঁকা ছিল রক্তাক্ত জাতীয় পতাকা, প্রিয় মাতৃভূমির মানচিত্র। তরুণ প্রজন্মের ছেলেদের গায়ে জাতীয় পতাকাসদৃশ শর্ট পাঞ্জাবি বা গেঞ্জি এবং মেয়েরা লাল-সবুজের মিশ্রণে জাতীয় পতাকার মতো শাড়ি পরে অংশ নিয়েছিল এবারের স্বাধীনতার আনন্দ উৎসবে।
রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে শহর-বন্দর-গ্রামে স্বাধীনতা দিবসের প্রতিটি কর্মসূচিতে নতুন প্রজন্মের ঢল, তাদের চোখে-মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখার দীপ্ত শপথ আর স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণার প্রচ-তাও প্রত্য করেছে দেশের মানুষ। শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ ও পথে-প্রান্তরে দিনভর বেজেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাসংবলিত ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ Ñ ‘ভাইয়েরা আমার, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ’।

শিশুরাই গড়ে তুলবে আগামী
দিনের উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
Ñপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
৪৯তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলে আয়োজিত শিশু-কিশোর সমাবেশে দেশে ও প্রবাসে অবস্থানকারী সকল শিশুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে তোমাদেরকেই। তোমরাই গড়ে তুলবে আগামী দিনের উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ হবে দণি এশিয়ার উন্নত শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ একটি দেশ। আমরাই জাতির পিতার এই স্বপ্ন পূরণ করবো।
তিনি শিশুদের দোয়া ও আশীর্বাদ জানিয়ে বলেন, তোমরা বাবা-মার কথা শুনবে, শিকদের কথা শুনবে, নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলবে, সুন্দরভাবে জীবনযাপন করবে – সেটাই আমরা কামনা করি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৯তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের প্রত্যুষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজিত শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা জেলা প্রশাসন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি পুনরুল্লেখ করে বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের হাত থেকে আমরা দেশকে মুক্ত করতে চাই। আমি শিশু-কিশোর, অভিভাবক, ছাত্রছাত্রী, শিক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানাব, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের কুফল সম্পর্কে আমাদের শিশুদের জানাতে হবে এবং এর হাত থেকে শিশু-কিশোরদের রা করতে হবে।
এ সময় তিনি কার সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে, বিদ্যালয় বা শিাপ্রতিষ্ঠানে সে নিয়মিত কি না এসব বিষয়ে ল্য রাখার জন্য অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট শিক ও শিাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নজর রাখার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী স্কুল পর্যায়ে অনুষ্ঠিত শুদ্ধ সুরে জাতীয় সংগীত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক – এই তিন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ৯০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, সোনামনিরা, আজকে আমাদের স্বাধীনতা দিবস। দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি আমাদের স্বাধীনতা। স্বাধীন দেশে প্রতিটি মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে এবং একটি উন্নত জীবন পাবে – এটাই ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন। আজকে আমরা একটি লাল-সবুজ পতাকা পেয়েছি। একটা দেশ পেয়েছি, একটা জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদা পেয়েছি। এই মর্যাদাকে আরো উন্নত করা – সেটাই ছিল জাতির পিতার ল্য।
শিশু বয়স থেকে জনগণের কল্যাণে জাতির পিতা ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ উল্লেখ করে এবং মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতার সংগ্রামী ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকার আদায়ে সেই ১৯৪৮ সাল থেকে তিনি যে যাত্রা শুরু করেছিলেন সেটাই ১৯৭১ সালে তাঁর নেতৃত্বে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করার মধ্য দিয়ে একটি সফল পরিণতি লাভ করে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার পাশাপাশি মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দেয়ার ল্েয সেই সময় থেকেই জাতির পিতার বিভিন্ন কর্মকা-ের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার দেশ স্বাধীনের ল্য ছিল এদেশের প্রতিটি শিশু শিা গ্রহণ করবে, প্রতিটি নাগরিক সুশিতি হবে। দেশ ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধিশালী হিসেবে গড়ে উঠবে এবং সেই ল্য নিয়েই তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, যখনই জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে দেশকে উন্নয়নের পথে ধাবিত করা শুরু করেন দুর্ভাগ্যক্রমে তখনই ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালরাতে তাঁকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে বাংলদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। দেশে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্র এবং অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় মতা দখলের পালা শুরু হয়। প্রতিরাতে কারফিউ দিয়ে মানুষের বেঁচে থাকার এবং কথা বলার অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেয়া হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, এর দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ আবার যখন রাষ্ট্রীয় মতায় আসে ঠিক তখন থেকেই পুনরায় উন্নয়নের অভিযাত্রা শুরু হয়।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়কে দেশের জন্য এক স্বর্ণযুগ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিলাম, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সারতার হার বাড়িয়েছিলাম।
পুনরায় ২০০৯ সালে নির্বাচিত হয়ে এ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত করেছি। দারিদ্র্যের হার, শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু হার আমরা কমাতে পেরেছি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বছরের শুরুতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণসহ শিা সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন পদেেপর কথা তুলে ধরে বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিা পর্যন্ত সরকার বৃত্তি প্রদান করছে, যেন দরিদ্র ছেলে-মেয়েরা শিার সুযোগ লাভ করতে পারে।
শিশু-কিশোরদের মেধা ও মনন গঠনে শিার পাশাপাশি খেলাধুলা, শরীরচর্চা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণকে অপরিহার্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে আমাদের জন্য শিশু অধিকার আইন করে দিয়ে যান। এরই আলোকে আমরা নীতিমালা গ্রহণ করেছি এবং শিশুদের জন্য শিার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিচ্ছি।
সরকার দুস্থ মহিলা ও শিশুকল্যাণ তহবিল নামে একটি তহবিল গড়ে তুলে দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎপেণসহ সারাদেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়া, কম্পিউটার শিা এবং মাল্টিমিডিয়া কাশরুমসহ দেশকে ডিজিটালাইজড করে গড়ে তুলতে তাঁর সরকারের পদপেসমূহ তুলে ধরেন।
শেখ হাসিনা বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের সন্তানরা যাতে আধুনিক প্রযুক্তি শিায় দ হয়ে গড়ে উঠতে পারে তার পদপে আমরা নিচ্ছি। আমরা ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করবো, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো। আমরা ২০২০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত সময়কে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। আমরা এই সময়টাকে এমনভাবে কাজে লাগাতে চাই যেন বাংলাদেশ ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে ওঠে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি
এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ মার্চ ৪৯তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ প্রথমে স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে তাঁরা সেখানে কিছুণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সুসজ্জিত চৌকস সদস্যরা এ সময় রাষ্ট্রীয় সালাম জানায় এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, মুক্তিযোদ্ধাগণ, কূটনীতিকবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গবন্ধুর
প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ৪৯তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলে ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সম্মুখে স্থাপিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
পুষ্পার্ঘ প্রদানের পর প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছুণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর দলের প থেকেও দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

মহান স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি
আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলে ২৬ মার্চ আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
এ সময় রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে এবং আশপাশের সড়কগুলোতে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। প্রত্যুষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছুণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনাবাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল অভিবাদন জানায়।
পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা দলীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে দলের প থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, একেএম এনামুল হক শামীম, মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, গোলাম রব্বানী চিনু ও মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলে ভোর ৬টার পর থেকেই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধু ভবনের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের সড়কে জমায়েত হতে থাকে।
বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে উপস্থিত হাজারো জনতার ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘স্বাধীনতার অপর নাম শেখ মুজিবুর রহমান’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই’ স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ভবন থেকে চলে যাওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দণি, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, বাংলাদেশ কৃষক লীগ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, তাঁতী লীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দণি, যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দণি, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দণি, ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মহিলা শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ, মৎস্যজীবী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, ওলামা লীগ, জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু আইন পরিষদসহ বিভিন্ন দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।